০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
অ্যালগরিদম কি একদিন সত্যিই চেতনা অনুভব করবে? গাড়ি বিক্রেতা থেকে বেলজিয়ামের রাজপুত্র, ডিএনএ পরীক্ষায় বদলে গেল পরিচয় ইমোশনাল সাপোর্ট অ্যানিমেল: মানসিক সুস্থতায় সঙ্গীর যত্নে যে বিষয়গুলো জরুরি চেতনা কি পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা? মস্তিষ্কের কোষ সিলিকনে বসিয়ে নতুন পথে বিজ্ঞান জেসন আরডেকে মানুষ নয়, প্রতীকে পরিণত করার মূল্য: ক্যামব্রিজ নিয়ে দ্য ইকোনমিস্টের প্রশ্ন বিমান চলাচলের ‘কনট্রেইল’ কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন অর্ধেক কমানোর সম্ভাবনা কাঁঠাল, টোফু ও পাম হার্টেই কাঁকড়ার স্বাদ, জনপ্রিয় হচ্ছে ভেগান রেসিপি রাশিয়ার তেল নিয়ে চীনের কৌশল, চাপে ভারতের জ্বালানি বাজার অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু শনাক্ত চীনে কি এবার চকলেটের জোয়ার? স্থানীয় ব্র্যান্ডের উত্থানে বদলাচ্ছে চীনা রুচি

চীনে নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া: অর্থনৈতিক হতাশায় ফিরছে ‘সুযোগের সময়’

  • Sarakhon Report
  • ০৬:৫৪:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • 16

চীনে আবারও আলোচনায় ফিরেছে নব্বইয়ের দশক—একটি সময়, যখন দেশটির অর্থনীতি দ্রুত বদলে যাচ্ছিল, বিশ্ববাজারের দরজা আরও খুলছিল এবং অনেকের কাছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমাহীন বলে মনে হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাবেক চীনা নেতা চিয়াং জেমিনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১২ পর্বের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচারের মধ্য দিয়ে সেই পুরোনো সময়ের স্মৃতিও নতুন করে জেগে উঠেছে।

নব্বইয়ের দশকের নেতৃত্বের ভিন্ন চিত্র

চিয়াং জেমিন ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চীনের নেতৃত্বে ছিলেন। তার সময়ের বিভিন্ন দৃশ্যে তাকে দেখা যায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তুলনামূলক স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিশতে, শিশুদের কোলে নিতে, টেবিল টেনিস খেলতে কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ায় আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে বেইজিং অপেরা গাইতে। বর্তমান চীনা নেতৃত্বের অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও আনুষ্ঠানিক জনসম্মুখ উপস্থিতির সঙ্গে এসব দৃশ্যের তীব্র পার্থক্য অনেক দর্শকের নজর কেড়েছে।

এই নস্টালজিয়ার সঙ্গে আরও জড়িয়ে গেছে চিয়াংয়ের সময়ের প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজির স্মৃতি। ১২ আগস্ট ৯৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু নব্বইয়ের দশককে ঘিরে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করে। কঠিন সংস্কার বাস্তবায়নে ঝুর সরাসরি ও ফলাফলমুখী অবস্থানের প্রশংসা করেছেন অনেকে। প্রামাণ্যচিত্রেও তাকে বলতে দেখা যায়, তিনি সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করতে আসেননি; কীভাবে কাজটি করা যায়, সেটিই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

‘সুযোগের সময়’ নিয়ে বাড়ছে স্মৃতিচারণ

নব্বইয়ের দশক নিয়ে চীনে নস্টালজিয়া অবশ্য নতুন নয়। গত বছর ‘সমৃদ্ধির বছরগুলোর সৌন্দর্য’ ঘিরে একটি ভাইরাল প্রবণতায় মানুষ নব্বইয়ের দশক ও ২০০০-এর শুরুর সময়ের ছবি শেয়ার করেছিলেন। সাংহাইয়ের সেই সময়কে ঘিরে নির্মিত জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ব্লসমস’-ও একই আবহকে সামনে এনেছে। এর বর্ণনায় উঠে এসেছে এমন এক সময়ের কথা, যখন সুযোগের সামনে সবাই সমান ছিল এবং সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে জীবন বদলে দেওয়া সম্ভব ছিল।

অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নস্টালজিয়ার ব্যাখ্যা

তবে নব্বইয়ের দশককে পুরোপুরি ‘সোনালি যুগ’ হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে বাস্তবতার বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ১৯৯০ সালে মূল্যস্ফীতি সমন্বিত হিসাবে চীনের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন ছিল মাত্র ৯২০ ডলার। বর্তমানে তা প্রায় ১৫ গুণ বেশি। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর স্নাতক হওয়ার সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ থেকে বেড়ে ১ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে। নব্বইয়ের দশকে চীনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ গ্রামে বাস করত এবং ব্যাপক দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল।

তবু বর্তমান অর্থনৈতিক চাপই পুরোনো সময়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে, আবাসন খাত দীর্ঘ সময় ধরে মন্দায় রয়েছে এবং বহু উদ্যোক্তা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। অর্থনীতি নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা নিয়ন্ত্রণের কারণে নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিচারণ অনেকের কাছে বর্তমান হতাশা প্রকাশের একটি পরোক্ষ পথও হয়ে উঠেছে।For some in China, nostalgia for the 1990s may simply be a longing for a  better life. But there is also great frustration about politics in the  country today bit.ly/4zH95D9 Illustration: Cornelia

নেতৃত্বের ধরন নিয়েও তুলনা

চিয়াং ও ঝুকে ‘সংস্কারপন্থী’ বলা হলেও তারা রাজনৈতিক সংস্কারক ছিলেন না। তাদের সময়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতা আরও সুসংহত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সংস্কারে তাদের নীতি ছিল বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধরে রেখে ছোট ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসা। এই প্রক্রিয়ায় ৩ কোটির বেশি শ্রমিক চাকরি হারালেও পরবর্তী সময়ে সংস্কারগুলোর অর্থনৈতিক সুফল বড় ছিল।

আজকের নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা তাই শুধু অর্থনীতি নিয়ে নয়, নেতৃত্বের সাহস ও ব্যক্তিত্ব নিয়েও। চিয়াং ও ঝুর সময় চীন বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়েছিল এবং ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে।

বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ অব্যাহত এবং আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট কাটেনি। ফলে ঝুর মৃত্যুর পর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, আইনজীবী সংগঠন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থাগুলোর শ্রদ্ধা জানানোকে অনেকেই বিচক্ষণ ও সাহসী নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

ভয় ও উষ্ণতার বিপরীত দুই ছবি

নব্বইয়ের দশকের প্রতি আকর্ষণের আরেকটি কারণ নেতৃত্বের মানবিক প্রকাশভঙ্গি। চিয়াং ও ঝুর আমলেও চীন রাজনৈতিকভাবে মুক্ত ছিল না এবং তাদের নিয়ে মানুষের উদ্বেগও ছিল। কিন্তু তাদের প্রকাশ্য আচরণে রসিকতা, স্বতঃস্ফূর্ততা ও সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার একটি ভাব ছিল।

আজকের চীনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ঘিরে জনমনে প্রধান অনুভূতি অনেক সময় ভয় ও সতর্কতা। ফলে নব্বইয়ের দশকের স্মৃতির পুনরুত্থান কেবল অতীতের প্রতি আবেগ নয়; বরং বর্তমান অর্থনীতি, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চীনা সমাজের গভীর অস্বস্তিরও একটি প্রতিফলন।

চীনের নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া অর্থনৈতিক হতাশা, কর্মসংস্থান সংকট ও নেতৃত্বের ধরন নিয়ে মানুষের পরিবর্তিত অনুভূতিকে সামনে আনছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যালগরিদম কি একদিন সত্যিই চেতনা অনুভব করবে?

চীনে নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া: অর্থনৈতিক হতাশায় ফিরছে ‘সুযোগের সময়’

০৬:৫৪:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

চীনে আবারও আলোচনায় ফিরেছে নব্বইয়ের দশক—একটি সময়, যখন দেশটির অর্থনীতি দ্রুত বদলে যাচ্ছিল, বিশ্ববাজারের দরজা আরও খুলছিল এবং অনেকের কাছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমাহীন বলে মনে হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাবেক চীনা নেতা চিয়াং জেমিনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১২ পর্বের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচারের মধ্য দিয়ে সেই পুরোনো সময়ের স্মৃতিও নতুন করে জেগে উঠেছে।

নব্বইয়ের দশকের নেতৃত্বের ভিন্ন চিত্র

চিয়াং জেমিন ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চীনের নেতৃত্বে ছিলেন। তার সময়ের বিভিন্ন দৃশ্যে তাকে দেখা যায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তুলনামূলক স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিশতে, শিশুদের কোলে নিতে, টেবিল টেনিস খেলতে কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ায় আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে বেইজিং অপেরা গাইতে। বর্তমান চীনা নেতৃত্বের অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও আনুষ্ঠানিক জনসম্মুখ উপস্থিতির সঙ্গে এসব দৃশ্যের তীব্র পার্থক্য অনেক দর্শকের নজর কেড়েছে।

এই নস্টালজিয়ার সঙ্গে আরও জড়িয়ে গেছে চিয়াংয়ের সময়ের প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজির স্মৃতি। ১২ আগস্ট ৯৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু নব্বইয়ের দশককে ঘিরে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করে। কঠিন সংস্কার বাস্তবায়নে ঝুর সরাসরি ও ফলাফলমুখী অবস্থানের প্রশংসা করেছেন অনেকে। প্রামাণ্যচিত্রেও তাকে বলতে দেখা যায়, তিনি সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করতে আসেননি; কীভাবে কাজটি করা যায়, সেটিই ছিল তার মূল লক্ষ্য।

‘সুযোগের সময়’ নিয়ে বাড়ছে স্মৃতিচারণ

নব্বইয়ের দশক নিয়ে চীনে নস্টালজিয়া অবশ্য নতুন নয়। গত বছর ‘সমৃদ্ধির বছরগুলোর সৌন্দর্য’ ঘিরে একটি ভাইরাল প্রবণতায় মানুষ নব্বইয়ের দশক ও ২০০০-এর শুরুর সময়ের ছবি শেয়ার করেছিলেন। সাংহাইয়ের সেই সময়কে ঘিরে নির্মিত জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ব্লসমস’-ও একই আবহকে সামনে এনেছে। এর বর্ণনায় উঠে এসেছে এমন এক সময়ের কথা, যখন সুযোগের সামনে সবাই সমান ছিল এবং সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে জীবন বদলে দেওয়া সম্ভব ছিল।

অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নস্টালজিয়ার ব্যাখ্যা

তবে নব্বইয়ের দশককে পুরোপুরি ‘সোনালি যুগ’ হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে বাস্তবতার বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ১৯৯০ সালে মূল্যস্ফীতি সমন্বিত হিসাবে চীনের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন ছিল মাত্র ৯২০ ডলার। বর্তমানে তা প্রায় ১৫ গুণ বেশি। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর স্নাতক হওয়ার সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ থেকে বেড়ে ১ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে। নব্বইয়ের দশকে চীনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ গ্রামে বাস করত এবং ব্যাপক দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল।

তবু বর্তমান অর্থনৈতিক চাপই পুরোনো সময়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে, আবাসন খাত দীর্ঘ সময় ধরে মন্দায় রয়েছে এবং বহু উদ্যোক্তা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। অর্থনীতি নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা নিয়ন্ত্রণের কারণে নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিচারণ অনেকের কাছে বর্তমান হতাশা প্রকাশের একটি পরোক্ষ পথও হয়ে উঠেছে।For some in China, nostalgia for the 1990s may simply be a longing for a  better life. But there is also great frustration about politics in the  country today bit.ly/4zH95D9 Illustration: Cornelia

নেতৃত্বের ধরন নিয়েও তুলনা

চিয়াং ও ঝুকে ‘সংস্কারপন্থী’ বলা হলেও তারা রাজনৈতিক সংস্কারক ছিলেন না। তাদের সময়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতা আরও সুসংহত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সংস্কারে তাদের নীতি ছিল বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধরে রেখে ছোট ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসা। এই প্রক্রিয়ায় ৩ কোটির বেশি শ্রমিক চাকরি হারালেও পরবর্তী সময়ে সংস্কারগুলোর অর্থনৈতিক সুফল বড় ছিল।

আজকের নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা তাই শুধু অর্থনীতি নিয়ে নয়, নেতৃত্বের সাহস ও ব্যক্তিত্ব নিয়েও। চিয়াং ও ঝুর সময় চীন বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে আরও গভীরভাবে যুক্ত হয়েছিল এবং ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে।

বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ অব্যাহত এবং আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট কাটেনি। ফলে ঝুর মৃত্যুর পর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, আইনজীবী সংগঠন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থাগুলোর শ্রদ্ধা জানানোকে অনেকেই বিচক্ষণ ও সাহসী নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

ভয় ও উষ্ণতার বিপরীত দুই ছবি

নব্বইয়ের দশকের প্রতি আকর্ষণের আরেকটি কারণ নেতৃত্বের মানবিক প্রকাশভঙ্গি। চিয়াং ও ঝুর আমলেও চীন রাজনৈতিকভাবে মুক্ত ছিল না এবং তাদের নিয়ে মানুষের উদ্বেগও ছিল। কিন্তু তাদের প্রকাশ্য আচরণে রসিকতা, স্বতঃস্ফূর্ততা ও সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার একটি ভাব ছিল।

আজকের চীনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ঘিরে জনমনে প্রধান অনুভূতি অনেক সময় ভয় ও সতর্কতা। ফলে নব্বইয়ের দশকের স্মৃতির পুনরুত্থান কেবল অতীতের প্রতি আবেগ নয়; বরং বর্তমান অর্থনীতি, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চীনা সমাজের গভীর অস্বস্তিরও একটি প্রতিফলন।

চীনের নব্বইয়ের দশকের নস্টালজিয়া অর্থনৈতিক হতাশা, কর্মসংস্থান সংকট ও নেতৃত্বের ধরন নিয়ে মানুষের পরিবর্তিত অনুভূতিকে সামনে আনছে।