০২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
করাচির অমীমাংসিত আবাসন সংকট সংলাপের প্রস্তাব কি কেবলই লোকদেখানো? ইতিহাস থেকে না শেখা ভুলের পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ভারত, রাজনীতি চলবে নিজস্ব পথে এক ইয়াসমিনে যে দেশ জেগেছিল, শত ইয়াসমিনে আজ কেন নীরব? অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে গ্রামকেই করতে হবে প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র টিনুবুর মাদক-সংক্রান্ত নথি গোপনে আদালতে জমা দেওয়ার অনুমতি এফবিআইকে ২০২৭ সালের নির্বাচনে দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-দক্ষিণাঞ্চলকে ঘিরে টিনুবু শিবিরের নতুন হিসাব নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকায় সহিংসতা, তীব্র সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট টিনুবু নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চাপে ইরান, স্বীকার করলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকায় সহিংসতা, তীব্র সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট টিনুবু

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে একের পর এক হামলা, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবুর সরকারের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের দাবি, দক্ষিণ কাদুনাসহ মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলেও সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

হামলার ধরন নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে গ্রামে হামলা, ব্যাপক অপহরণ এবং প্রাণঘাতী সহিংসতা অব্যাহত থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার এসব ঘটনাকে ধর্মীয় নিপীড়ন হিসেবে স্বীকার করতে অনাগ্রহী। বরং এসব সংঘাতকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পশুপালক ও কৃষকের বিরোধ কিংবা সাধারণ সশস্ত্র অপরাধ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, এভাবে সংঘাতের ধর্মীয় ও জাতিগত মাত্রাকে আড়াল করা হলে সহিংসতার প্রকৃত কারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর দুর্দশা যথাযথভাবে সামনে আসে না। দক্ষিণ কাদুনার স্থানীয় সংগঠনগুলো সরকারের এমন অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছে।

STATEHOUSE PRESS RELEASE NO RELIGIOUS GENOCIDE IN NIGERIA, SAYS PRESIDENT  TINUBU IN OWERRI President Bola Tinubu, on Tuesday in Owerri, Imo State,  blasted those peddling allegations of religious genocide in the country,

বিদেশে প্রচারণা, দেশে বাড়ছে ক্ষোভ

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নাইজেরিয়া সরকার বিদেশে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে সংঘাতটি ধর্মীয় নয়, বরং জলবায়ু ও সম্পদের সংকট থেকে তৈরি—এমন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, গ্রামীণ কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে ভারী অস্ত্রধারী গোষ্ঠীগুলো প্রায় বাধাহীনভাবে চলাফেরা করছে এবং পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই হামলার আগে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যায় না।

সমালোচকদের মতে, সরকারের এই নীরবতা কোনো নিরপেক্ষ অবস্থান নয়; বরং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে যথাযথ সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতিফলন।

মুসলিম-মুসলিম নেতৃত্ব নিয়েও বিতর্ক

দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে সঙ্গে টিনুবুর মুসলিম-মুসলিম রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছে, একই ধর্মাবলম্বী প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন সরকার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর আস্থা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

Nigeria president-elect faces vote doubts, poverty, violence | AP News

২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী রাজনীতিতে আতীকু আবুবকর ও পিটার ওবির মতো নেতাদের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে নাগরিক সমাজের নেতারা বলছেন, শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

তাদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামীণ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বদলালেও মধ্যাঞ্চলের নিরাপত্তা সংকট কাটবে না।

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে চলমান সহিংসতা তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার সংকট নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, রাজনৈতিক আস্থা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

করাচির অমীমাংসিত আবাসন সংকট

নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকায় সহিংসতা, তীব্র সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট টিনুবু

০১:০৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে একের পর এক হামলা, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবুর সরকারের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের দাবি, দক্ষিণ কাদুনাসহ মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলেও সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

হামলার ধরন নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, রাতের আঁধারে গ্রামে হামলা, ব্যাপক অপহরণ এবং প্রাণঘাতী সহিংসতা অব্যাহত থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার এসব ঘটনাকে ধর্মীয় নিপীড়ন হিসেবে স্বীকার করতে অনাগ্রহী। বরং এসব সংঘাতকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পশুপালক ও কৃষকের বিরোধ কিংবা সাধারণ সশস্ত্র অপরাধ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, এভাবে সংঘাতের ধর্মীয় ও জাতিগত মাত্রাকে আড়াল করা হলে সহিংসতার প্রকৃত কারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর দুর্দশা যথাযথভাবে সামনে আসে না। দক্ষিণ কাদুনার স্থানীয় সংগঠনগুলো সরকারের এমন অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছে।

STATEHOUSE PRESS RELEASE NO RELIGIOUS GENOCIDE IN NIGERIA, SAYS PRESIDENT  TINUBU IN OWERRI President Bola Tinubu, on Tuesday in Owerri, Imo State,  blasted those peddling allegations of religious genocide in the country,

বিদেশে প্রচারণা, দেশে বাড়ছে ক্ষোভ

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নাইজেরিয়া সরকার বিদেশে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে সংঘাতটি ধর্মীয় নয়, বরং জলবায়ু ও সম্পদের সংকট থেকে তৈরি—এমন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, গ্রামীণ কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে ভারী অস্ত্রধারী গোষ্ঠীগুলো প্রায় বাধাহীনভাবে চলাফেরা করছে এবং পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই হামলার আগে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যায় না।

সমালোচকদের মতে, সরকারের এই নীরবতা কোনো নিরপেক্ষ অবস্থান নয়; বরং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে যথাযথ সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতিফলন।

মুসলিম-মুসলিম নেতৃত্ব নিয়েও বিতর্ক

দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে সঙ্গে টিনুবুর মুসলিম-মুসলিম রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছে, একই ধর্মাবলম্বী প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন সরকার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর আস্থা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

Nigeria president-elect faces vote doubts, poverty, violence | AP News

২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী রাজনীতিতে আতীকু আবুবকর ও পিটার ওবির মতো নেতাদের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে নাগরিক সমাজের নেতারা বলছেন, শুধু সরকার পরিবর্তন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।

তাদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামীণ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বদলালেও মধ্যাঞ্চলের নিরাপত্তা সংকট কাটবে না।

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে চলমান সহিংসতা তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার সংকট নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, রাজনৈতিক আস্থা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।