সাশ্রয়ী মূল্যের পরিকল্পিত আবাসনের সংকটের কারণে করাচির মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এখন অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাস করছে।
১৯৪৭ সালের আগস্টে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় করাচি ছিল প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার মানুষের একটি শহর। কয়েক মাসের মধ্যেই শহরটির জনসংখ্যায় নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। দেশভাগের পর ভারত থেকে কয়েক লাখ মুসলিম শরণার্থী আশ্রয়, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার সন্ধানে নতুন দেশের রাজধানীতে এসে পৌঁছান।
এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে ধারণ করার জন্য করাচির অবকাঠামো, আবাসন এবং জনসেবার ব্যবস্থা কখনোই তৈরি ছিল না। আজকের করাচির আবাসন সংকটের শিকড় সেই স্বাধীনতার পরের প্রথম কয়েক বছরেই নিহিত।
নতুন প্রতিষ্ঠিত সরকার এমন এক জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, যার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা তাদের ছিল না। শরণার্থীদের স্কুল, সামরিক ব্যারাক, সরকারি ভবন ও অস্থায়ী শিবিরে রাখা হয়। অনেকে ভারতে চলে যাওয়া হিন্দু ও শিখদের পরিত্যক্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করেন। অন্যরা খালি জমিতে অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি করেন। এসব ব্যবস্থা সাময়িক হিসেবে নেওয়া হলেও সাশ্রয়ী আবাসনের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় অনেকগুলোই স্থায়ী হয়ে যায়।
কয়েক বছরের মধ্যেই করাচির জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যায়। ১৯৫১ সালের আদমশুমারিতে শহরটির জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি পৌঁছে। পরবর্তী দশকেও অভিবাসন অব্যাহত থাকে। মানুষ শুধু ভারত থেকেই নয়, কাজের সন্ধানে পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ—বর্তমান খাইবার পাখতুনখোয়া—এবং বেলুচিস্তান থেকেও করাচিতে আসতে থাকে। শহরটি পাকিস্তানের প্রধান বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছিল, কিন্তু এর আবাসননীতি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।
আবাসনের প্রাথমিক উদ্যোগ
সরকারের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল আনুষ্ঠানিক আবাসন নির্মাণের দিকে মনোযোগ দেওয়া। ১৯৪০-এর দশকের শেষভাগ ও ১৯৫০-এর দশকের শুরুর দিকে পাকিস্তান কোয়ার্টার্স, মার্টিন কোয়ার্টার্স, ফেডারেল বি এরিয়া, পাপোশ নগরসহ আরও কয়েকটি আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলা হয়।
এই প্রকল্পগুলো দেখিয়েছিল যে সরকার আবাসন সংকট সম্পর্কে সচেতন ছিল। কিন্তু এগুলো কখনোই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য পরিকল্পিত ছিল না। অধিকাংশ বাড়ি তৈরি করা হয়েছিল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য; নিম্নআয়ের পরিবার কিংবা সদ্য আসা অভিবাসীদের জন্য নয়। ফলে যাদের আবাসন নিরাপত্তাহীনতা ছিল সবচেয়ে বেশি, তারা আনুষ্ঠানিক আবাসন ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায়।
করাচির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সরকার গ্রেটার করাচি পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। সুইডিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মার্জ রেন্ডেল ভাটেন এই পরিকল্পনা তৈরি করে এবং ১৯৫১ সালে তা প্রকাশিত হয়। এটি ছিল করাচির প্রথম পূর্ণাঙ্গ মহাপরিকল্পনা। পরিকল্পনায় উপগ্রহ শহর, শিল্পাঞ্চল, উন্নত পরিবহন সংযোগ এবং পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার মাধ্যমে করাচির কাঠামোবদ্ধ সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পরিবর্তে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধিকে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
পরিকল্পনাটি সে সময়ের প্রচলিত নগর পরিকল্পনার ধারণাগুলোকে প্রতিফলিত করেছিল। এতে ধারণা করা হয়েছিল, পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবহারের নিয়ম এবং বৃহৎ পরিসরের সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে নগর প্রবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উপগ্রহ বসতিগুলো শহরের কেন্দ্রের ওপর চাপ কমাবে এবং নতুন অবকাঠামো ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে ধারণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
প্রস্তাবগুলো কারিগরিভাবে উচ্চাভিলাষী ছিল। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়নের জন্য যে আর্থিক সম্পদ ও প্রশাসনিক সক্ষমতা দরকার ছিল, পাকিস্তানের শুরুর বছরগুলোতে তা ছিল না। ফলে মহাপরিকল্পনার বড় একটি অংশ কাগজেই থেকে যায়। করাচি বাড়তে থাকে, কিন্তু পরিকল্পনাবিদদের কল্পিত কাঠামোর বাইরে গিয়েই মূলত শহরটির বিস্তার ঘটে।
কাঁচি আবাদির উত্থান
পরিকল্পনা ও বাস্তবতার মধ্যকার এই ব্যবধান করাচির নগর উন্নয়নের একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে। জনসংখ্যা বাড়ছিল দ্রুত। পরিকল্পনা এগোচ্ছিল ধীরগতিতে। আশ্রয়ের প্রয়োজন ছিল এমন পরিবারগুলো এমন আবাসন প্রকল্পের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে পারেনি, যার জন্য জমি জরিপ, জমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন ও নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগত। তাই তারা নিজেরাই সমস্যার সমাধান করতে শুরু করে।

১৯৫০-এর দশকজুড়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে অনানুষ্ঠানিক বসতি গড়ে উঠতে শুরু করে। পরবর্তীতে এসব বসতি ‘কাঁচি আবাদি’ নামে পরিচিত হয়। এগুলোকে প্রায়ই যেভাবে অবৈধ দখলের ফল হিসেবে বর্ণনা করা হয়, বাস্তবতা শুধু তা নয়। এগুলো ছিল সাশ্রয়ী বিকল্পের অনুপস্থিতির প্রতিফলন। অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের সামনে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আবাসনের মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাদের সামনে ছিল অনানুষ্ঠানিক আবাসন অথবা কোনো আবাসনই নয়।
অনেক নীতিনির্ধারক এসব বসতিকে পরিকল্পনাগত ব্যর্থতা কিংবা অবৈধ দখল হিসেবে দেখতেন। কিন্তু বাসিন্দারা বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখতেন।
সময়ের সঙ্গে এসব বসতি কর্মসংস্থান, স্কুল, পরিবহন এবং সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ এনে দেয়, যা দূরে অবস্থিত সরকারি আবাসন প্রায়ই দিতে পারেনি। আশ্রয়ের মতোই অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল কোনো পরিবার শুধু আবাসন পাওয়া যাচ্ছে বলে কর্মস্থল থেকে বহু কিলোমিটার দূরে বসবাস করতে পারত না।
লান্ধি-কোরাঙ্গি উদ্যোগ
১৯৫০-এর দশকের শেষভাগে সরকার বৃহত্তর করাচি পুনর্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লান্ধি-কোরাঙ্গি টাউনশিপ প্রকল্পের মাধ্যমে আরেকটি বড় উদ্যোগ নেয়। জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক সরকারের সময় এই প্রকল্প শুরু হয়। ফোর্ড ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান পরিকল্পনাবিদ ডক্সিয়াডিসের পরিকল্পনায় এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসকারী কয়েক হাজার শরণার্থী পরিবারকে পুনর্বাসন করা। এটি পাকিস্তানে নেওয়া সবচেয়ে বড় পুনর্বাসন কর্মসূচিগুলোর একটি ছিল। লান্ধি-কোরাঙ্গি টাউনশিপ প্রকল্পে শরণার্থী ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য দুটি উপগ্রহ শহরে প্রায় ৪০ হাজার বাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটি বন্ধ হওয়ার আগে মাত্র প্রায় ১০ হাজার বাড়ি নির্মিত হয়।
বসতিগুলো করাচির প্রান্তে স্থাপন করা হয়েছিল। ধারণা ছিল, কাছাকাছি পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কিন্তু তা হয়নি। ফলে অধিকাংশ বাসিন্দাকে কাজের জন্য শহরে যাতায়াত চালিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘ যাতায়াত পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়, মূল্যবান সময় নষ্ট করে এবং বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দেয়।
এতে করাচির পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। সে সময় অধিকাংশ কর্মসংস্থান যেখানে ছিল, সেই সাদ্দার প্রধান পরিবহন কেন্দ্রে পরিণত হয়। এর ফলে বাস টার্মিনালগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় সৃষ্টি হয় এবং দৈনিক যাতায়াতকারী মানুষের চাহিদা পূরণে অনানুষ্ঠানিক বাজার গড়ে ওঠে।
বাসিন্দাদের মাসিক কিস্তিতে এক কক্ষের বাড়ির মূল্য পরিশোধ করার কথা ছিল। এই অর্থ দিয়ে ভবিষ্যৎ আবাসনের জন্য একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দুর্বল কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং যাতায়াতের ব্যয়ের কারণে বাসিন্দারা কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। কার্যকর ঘূর্ণায়মান তহবিল না থাকায় প্রকল্পটি আর্থিকভাবে টেকসই হয়ে উঠতে পারেনি এবং শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়। মূল লক্ষ্যের সামান্য অংশই এতে অর্জিত হয়।
এই প্রকল্পের আরেকটি দিকও রয়েছে। গড়ে ওঠা বসতিগুলো ছিল একক-জাতিগত এবং বাসিন্দারা সবাই ছিল শ্রমজীবী শ্রেণির। এর ফলে একই ধরনের রাজনৈতিক মত ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাসম্পন্ন সমজাতীয় বসতি তৈরি হয়, যা শক্তিশালী রাজনৈতিক সংঘাতের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। ১৯৯০-এর দশকে করাচির সহিংসতায় এর প্রমাণ দেখা যায়।
সাদ্দারের অনানুষ্ঠানিক বাজারগুলোর সৃষ্টি যেমন দীর্ঘ যাতায়াতের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, তেমনি আদালত এসব বাজারকে অবৈধ ঘোষণা করে উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়ার পর সেগুলোও স্থানচ্যুত হয়। এতে করাচির পথঘাটভিত্তিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন মানুষের দারিদ্র্য ও বিচ্ছিন্নতা আরও বেড়ে যায়।
লান্ধি-কোরাঙ্গি প্রকল্প একটি ভিন্ন ধরনের পরিকল্পনাদর্শন তুলে ধরেছিল। অনানুষ্ঠানিক বসতি বাড়তে দেওয়ার পরিবর্তে রাষ্ট্র রাস্তা, স্কুল ও মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন পরিকল্পিত টাউনশিপে বাসিন্দাদের স্থানান্তর করবে—এটাই ছিল ধারণা। কাগজে এই পদ্ধতিকে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এটি এমন একটি সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসে, যা আজও নগরনীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে।
এই অভিজ্ঞতা নগর পরিকল্পনার একটি প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়—আবাসনকে একটি বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখা যায় কি না। বাস্তবে আবাসন কর্মসংস্থান, পরিবহন, শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। মানুষ শুধু একটি বাড়ির মান বিবেচনা করে কোথায় বসবাস করবে তা ঠিক করে না; তারা তাদের জীবনের অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সেই বাড়ির সম্পর্কও বিবেচনা করে।
এই প্রাথমিক অভিজ্ঞতাগুলো কয়েক দশক ধরে করাচির আবাসন বিতর্কের গতিপথ নির্ধারণ করেছে। সরকারগুলো মহাপরিকল্পনা ও আবাসন প্রকল্প তৈরি করে চলেছে। কিন্তু শহরটি মূলত তার নিজস্ব বাসিন্দাদের প্রচেষ্টাতেই সম্প্রসারিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক আবাসন যখন মানুষের নাগালের বাইরে বা অপ্রাপ্য থেকেছে, তখন মানুষ অনানুষ্ঠানিকভাবে জমি সংগ্রহ করেছে, ধাপে ধাপে বাড়ি নির্মাণ করেছে এবং রাষ্ট্রের সীমিত বা কোনো সহায়তা ছাড়াই নিজেদের সম্প্রদায় গড়ে তুলেছে।
আবাসননীতির পুনর্বিবেচনা
১৯৬০-এর দশকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে প্রচলিত পরিকল্পনার মাধ্যমে করাচির আবাসন সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রতিটি নতুন আবাসন প্রকল্প চাহিদার সামান্য অংশই পূরণ করতে পারছিল, অথচ প্রতি মাসে হাজার হাজার নতুন অভিবাসী শহরে আসছিলেন।
এতে পরিকল্পনাবিদদের একটি মৌলিক ধারণা পুনর্বিবেচনা করতে হয়। বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতিসংঘ সরকারগুলোকে এই ধারণায় পরিচালিত করেছিল যে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য সম্পূর্ণ বাড়ি নির্মাণ করে তা তাদের মধ্যে বরাদ্দ করা যেতে পারে। কিন্তু করাচির অভিজ্ঞতা ভিন্ন বাস্তবতা দেখায়।
বাড়ি নির্মাণের জন্য বিপুল অর্থ, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং উল্লেখযোগ্য সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন ছিল। যাদের আবাসনের প্রয়োজন ছিল, তাদের সবার জন্য এমনকি অসম্পূর্ণ বা শুধু মৌলিক অবকাঠামোসহ বাড়িও সরবরাহ করার মতো সক্ষমতা রাষ্ট্রের ছিল না।
প্রায় একই সময়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে আবাসন নিয়ে ভিন্ন একটি চিন্তাধারা গড়ে উঠতে শুরু করে। এর অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ছিলেন ব্রিটিশ স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদ জন এফ. সি. টার্নার। পেরুতে তার কাজ প্রচলিত আবাসননীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল।
টার্নারের যুক্তি ছিল, সরকারের উচিত দরিদ্র মানুষের জন্য বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা না করে তাদের জন্য উন্নত সেবা-সুবিধাসহ জমি, নিরাপদ মালিকানা বা দখলস্বত্ব এবং মৌলিক অবকাঠামো সরবরাহ করা। মানুষের কাছে জমি থাকলে তারা সাধারণত নিজেদের আয় অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাড়ি নির্মাণ ও উন্নত করতে সক্ষম।
টার্নারের ধারণা আনুষ্ঠানিক নগর পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। আবাসনকে আর শুধু রাষ্ট্রের সরবরাহ করা একটি পণ্য হিসেবে দেখা হয়নি। বরং এটিকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়, যেখানে পরিবারগুলো নিজেদের আয় অনুযায়ী ধীরে ধীরে বিনিয়োগ করে। সম্পূর্ণ একটি বাড়ির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করার পরিবর্তে পরিবারগুলো একটি কক্ষ দিয়ে শুরু করতে পারে, আর্থিক সক্ষমতা বাড়লে তা সম্প্রসারণ করতে পারে এবং কয়েক বছর ধরে কাঠামোটিকে উন্নত করতে পারে।
বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরে এই নীতিগুলোর অনেকাংশ গ্রহণ করে। এগুলো ‘সাইটস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ কর্মসূচি নামে পরিচিত হয়। এখানে ‘সাইটস’ বলতে জমির প্লট এবং ‘সার্ভিসেস’ বলতে পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও বিদ্যুৎ বোঝানো হয়। এসব জমি ও সেবা-সুবিধা উন্নয়ন করে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে হস্তান্তর করা হতো।
করাচিতেও সাইটস অ্যান্ড সার্ভিসেস প্রকল্পের আওতায় শত শত ইউনিট তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এগুলো দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। কারণ এসবের জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হতো, যা লক্ষ্যভুক্ত মানুষের সামর্থ্যের বাইরে ছিল। এগুলো পাওয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও ছিল দীর্ঘ, জটিল এবং অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। ফলে অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর খালি পড়ে থাকে এবং পরে মধ্যমআয়ের মানুষেরা সেগুলো কিনে নেয়। অনানুষ্ঠানিক আবাসন প্রক্রিয়া তাই অব্যাহত থাকে।
নিজেদের তৈরি অনানুষ্ঠানিক আবাসন স্থানীয় অর্থনীতিকেও সহায়তা করেছিল। এর মাধ্যমে রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, বিদ্যুৎ মিস্ত্রি, প্লাম্বার, পরিবহনকর্মী, নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারী এবং অগণিত দৈনিক মজুরির শ্রমিকের জন্য ধারাবাহিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বৃহৎ সরকারি প্রকল্পে নির্মাণ শেষ হয়ে গেলে যেমন কাজও শেষ হয়ে যায়, নিজেদের তৈরি পাড়াগুলো তেমন নয়; এগুলো বহু বছর ধরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করে। আবাসন শুধু আশ্রয় দেয় না, জীবিকার সুযোগও তৈরি করে।
উচ্ছেদ নয়, উন্নয়ন
এই প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সরকারি নীতি এখনো অনানুষ্ঠানিক বসতিগুলোকে প্রধানত পরিকল্পনাবিরোধী স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করে। এসব বসতিকে সাশ্রয়ী আবাসন ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের অপূর্ণ চাহিদার প্রমাণ হিসেবে না দেখে সরকারি জমিতে দখল হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
উচ্ছেদ এখনো একটি সাধারণ প্রতিক্রিয়া। কিন্তু কোনো বসতি সরিয়ে দিলেই আবাসনের প্রয়োজন শেষ হয় না। এক স্থান থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবার সাধারণত অন্য কোথাও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে গিয়ে বসবাস শুরু করে। এতে অনানুষ্ঠানিক বসতি কিংবা অনানুষ্ঠানিক এলাকার আবাসন ইউনিটের সংখ্যা কমে না।
১৯৭০-এর দশকে অনানুষ্ঠানিক বসতি করাচির নগর দৃশ্যপটের একটি স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে। শহরকে আর শুধু পরিকল্পিত এলাকাগুলোর মাধ্যমে বোঝা সম্ভব ছিল না। এর কর্মজীবী মানুষের বড় একটি অংশ পুরোনো কাঁচি আবাদিতে বসবাস করত, যেগুলো তুলনামূলকভাবে কর্মস্থলের কাছাকাছি ছিল।
১৯৭০-এর দশকে সরকারি নীতিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে। বসতি উচ্ছেদের পরিবর্তে পরিকল্পনাবিদরা সেগুলোর উন্নয়নের বিষয়টি ক্রমেই বিবেচনা করতে শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে চালু হওয়া কাঁচি আবাদি উন্নয়ন ও নিয়মিতকরণ কর্মসূচিতে এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যায়। কর্মসূচিটি স্বীকার করে নেয় যে অনেক অনানুষ্ঠানিক বসতি স্থায়ী সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে এবং ভবন ভেঙে নতুন বাড়ি নির্মাণের চেয়ে সেগুলোর উন্নয়ন করা অধিক বাস্তবসম্মত। বাসিন্দাদের স্থানান্তর না করেই পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, রাস্তা ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সেবা চালু করা সম্ভব ছিল।
এই নীতি আগের পদ্ধতি থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিচ্যুতি ছিল। এটি স্বীকার করেছিল যে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী নিজেদের বসতি গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পদ বিনিয়োগ করেছে। বিদ্যমান বসতি উন্নত করা অনেক সময় সেগুলো উচ্ছেদ করে অন্যত্র সম্পূর্ণ নতুন আবাসন প্রকল্প তৈরির চেয়ে কম ব্যয়বহুল এবং সামাজিকভাবে কম ক্ষতিকর। এটি আরও স্বীকার করেছিল যে দখলস্বত্বের নিরাপত্তা বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়িতে আরও বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করে।
ওরাঙ্গি পাইলট প্রকল্প
এই পদ্ধতির সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ সম্ভবত ওরাঙ্গি পাইলট প্রকল্প। ড. আখতার হামিদ খানের নেতৃত্বে ১৯৮০ সালে প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ওরাঙ্গি এশিয়ার বৃহত্তম অনানুষ্ঠানিক বসতিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছিল। অন্যান্য কাঁচি আবাদির মতো এখানেও যথাযথ পয়ঃনিষ্কাশন ও মৌলিক অবকাঠামোর অভাব ছিল। প্রচলিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব সমস্যা সমাধানের জন্য কেবল সরকারেরই সম্পদ রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের মাধ্যমেই তা করতে হবে—এমন ধারণা ছিল।
ওরাঙ্গি পাইলট প্রকল্প সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। কেন্দ্রীয়ভাবে অর্থায়িত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অপেক্ষা না করে বাসিন্দারা নিজেদের মধ্যে সংগঠিত হয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন এবং পাড়ার পয়ঃনিষ্কাশন লাইন নির্মাণ করেন। প্রকল্পটি কারিগরি সহায়তা দেয়, আর সম্প্রদায়গুলো শ্রম ও আর্থিক সম্পদসহ বিভিন্ন উপায়ে অবদান রাখে। বৃহত্তর প্রধান অবকাঠামোর দায়িত্ব সরকারি সংস্থাগুলোর ওপর থাকলেও বাসিন্দারা দেখিয়ে দেন যে নিজেদের এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অংশ তারা সফলভাবে পরিচালনা করতে পারেন।
এর ফল আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। প্রকল্পটি দেখিয়ে দেয়, নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী উন্নয়নের নিষ্ক্রিয় সুবিধাভোগী নয়। উপযুক্ত কারিগরি সহায়তা ও সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা পেলে তাদের নিজেদের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য জ্ঞান, সংগঠনের সক্ষমতা এবং প্রবল আগ্রহ রয়েছে। ওরাঙ্গির সাফল্য পাকিস্তানের বাইরেও নগর পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করে এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে সম্প্রদায়নির্ভর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ওঠে।
এই অভিজ্ঞতাগুলো আবাসন নিয়ে বিতর্কের ধরন বদলে দেয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিজেদের বাড়ি তৈরি করতে পারে কি না—প্রশ্নটি আর গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। করাচি ইতিমধ্যেই তার উত্তর দিয়ে দিয়েছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, কয়েক দশকের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সরকারি নীতি কেন এসব জনগোষ্ঠীকে অস্থায়ী বা অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে চলেছে, যখন তারা শহরের প্রবৃদ্ধির একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে।
একটি শহরের আবাসন
বর্তমানে অনুমান করা হয়, করাচির প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাস করে। শহরজুড়ে ৫৮০টিরও বেশি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত কাঁচি আবাদি রয়েছে এবং এর বাইরে আরও অনেক তালিকাভুক্ত নয় এমন বসতি রয়েছে। আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক বসতিতে ১৭ লাখের বেশি বাড়ি রয়েছে এবং অনানুষ্ঠানিক এলাকায় এর চেয়েও বেশি। সে হিসেবে অনানুষ্ঠানিক বসতির নির্মাতারা করাচি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় বেশি কার্যকরভাবে কাজ করেছেন।
যেমনটি আমরা দেখেছি, গত সাত দশকে করাচি শুধু সরকারি পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্প্রসারিত হয়নি। যারা আনুষ্ঠানিক আবাসনের ব্যয় বহন করতে পারেনি কিংবা রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য অপেক্ষা করতে পারেনি, মূলত তারাই পাড়া-মহল্লা গড়ে গড়ে শহরটি নির্মাণ করেছে।
তারা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে জমি সংগ্রহ করেছে, সম্প্রদায়ভিত্তিক সঞ্চয়ের মাধ্যমে অর্থ ধার করেছে, নারীদের যৌতুকের গয়না বিক্রি করেছে, ঋণ নিয়েছে এবং ধীরে ধীরে বাড়ি নির্মাণ করেছে। এই প্রক্রিয়ায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এখনো নথিবদ্ধ করা হয়নি। শহরের ইতিহাস বলছে, আসল সমস্যা কখনোই মানুষ বাড়ি তৈরি করতে পারে কি না—তা ছিল না। বরং সমস্যা ছিল, পরিকল্পনা নীতিগুলো ইতোমধ্যে তারা যা করে চলেছে, সেটিকে স্বীকৃতি দেয় কি না।
কিন্তু এখন নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। নব্যউদারবাদী চিন্তার প্রভাবে রাষ্ট্র এখন আর দরিদ্রদের জন্য আবাসন সরবরাহ করে না। তাদের বাজারের মাধ্যমে আবাসন পেতে হয়, যার ব্যয় তাদের সামর্থ্যের বাইরে। পুরোনো শহরের কাঁচি আবাদির কাছাকাছি জমি এখন আর পাওয়া যায় না। আর সামান্য যে জমি আছে, তাও নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। একমাত্র সাশ্রয়ী জমি পাওয়া যায় শহরের প্রান্তে। এতে যাতায়াতের ব্যয় ও সময় আরও বেড়ে যায়।
অনানুষ্ঠানিক খাতের আবাসন নির্মাতারাও এই সমস্যার একটি সমাধান খুঁজে বের করেছে।
শহরের কাছাকাছি আবাদিগুলো এখন বহুতল ভবনে রূপান্তরিত হচ্ছে। ৮০ বা ১২০ বর্গগজের একটি জমিতে এক বা দুই তলা বাড়ি থাকলে কোনো অনানুষ্ঠানিক নির্মাতা সেটি কিনে চার-পাঁচ কিংবা ছয়-সাত তলা ভবনে রূপান্তর করেন। এটি জমির দখলকারী বা মালিক এবং বিনিয়োগকারীর একটি যৌথ উদ্যোগ।
বিনিয়োগকারী জমির মূল্য পরিশোধ করেন এবং ওপরের শেষ তলায় দুটি ফ্ল্যাট পান। ফলে বিনিয়োগকারী ও জমির মালিক—উভয়েই সন্তুষ্ট হন। ভবনের মালিক ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেন, নিজের বর্ধিত পরিবারের সদস্যদের সেখানে রাখেন অথবা বাজারদরে ফ্ল্যাট বিক্রি করেন। অনেক ক্ষেত্রে কিস্তিতে অর্থ নেওয়া হয় অথবা সুপ্রতিষ্ঠিত পাগড়ি বা সদিচ্ছা অর্থের ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।
এভাবে কর্মস্থলে যাতায়াতের দীর্ঘ দূরত্বের সমস্যা আংশিকভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। বর্তমানে করাচির অধিকাংশ এলাকায় এই মডেলই কার্যকর হচ্ছে। পুরোনো কাঁচি আবাদিতে এ ধরনের ফ্ল্যাট পাওয়া যায়। নিচতলার একটি ফ্ল্যাটের দাম ২০ লাখ থেকে ওপরের তলার একটি ফ্ল্যাটের দাম ৬ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এটিও অনেক বেশি ব্যয়বহুল। ফলে করাচির ক্রমবর্ধমান সংখ্যক পরিবার ফুটপাতে, সেতুর নিচে, সম্ভব হলে পার্কে এবং যেখানেই খোলা জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে কাঁচি আবাদির বাড়ি রূপান্তর করে তৈরি বহুতল অ্যাপার্টমেন্টকে অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং সেগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশের ভিত্তিতে একটি ভবন ভেঙেও ফেলা হয়েছিল। কিন্তু এরপর আর তেমন কিছু হয়নি। কারণ এ ধরনের বিপুলসংখ্যক ভবন ভেঙে ফেলতে গেলে সরকারের পক্ষে যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করতে হবে, কোনো সরকারই তা সামাল দিতে পারবে না।
আবাসন সমাধানের সন্ধানে
বর্তমানে করাচির জন্য একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, এই পরিকল্পনা কীভাবে এমন একটি নীতি তৈরি করবে, যা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাড়ি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্মিত বহুতল ভবনগুলোকে নিয়মিতকরণের নীতি সমর্থন করা যায় না। কারণ মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও এসব ভবন টিকিয়ে রাখতে পারবে না। এগুলোকে নিয়মিত করা হত্যাকে সমর্থন করার সমতুল্য হবে। আবার এসব ভবন ভেঙে নতুন করে নির্মাণ কিংবা কারিগরি উপায়ে শক্তিশালী করাও আর্থিক ও কারিগরি কারণে সম্ভব নয়। শহরের বাইরে বিশাল আবাসিক কলোনি নির্মাণ করলেও গ্রেটার করাচি উন্নয়ন পরিকল্পনার মতোই ব্যর্থতা দেখা দেবে। তাছাড়া করাচি শহরের ভেতরে এ ধরনের প্রকল্পের জন্য একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ জমিও পাওয়া যায় না।
তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট জমি ছড়িয়ে রয়েছে। আমার প্রস্তাব হলো, এসব জমি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য উচ্চঘনত্বের আবাসন নির্মাণে ব্যবহার করা এবং নিজেদের উদ্যোগে এসব বাড়ি নির্মাণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করা। কিছু রাজ্যমন্ত্রী যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য পাকিস্তান কোয়ার্টার্স কোনো নির্মাতার হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, তার পরিবর্তে আমি এই এলাকাকে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি।
প্রথমেই এসব জমি চিহ্নিত করে তা দখল থেকে রক্ষা করতে হবে। পর্যবেক্ষণ ও অন্তর্দৃষ্টির ভিত্তিতে আমার বিশ্বাস, এখান থেকেই একটি সমাধানের সূচনা হতে পারে। সম্ভাব্য মালিকদের কাছ থেকে যথাযথভাবে তদারক করা কিস্তির অর্থ সংগ্রহ করলে ভবিষ্যৎ আবাসন উন্নয়নের জন্য একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। তবে এ ধরনের নীতি বাস্তবায়নের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন হবে।
এছাড়াও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আবাসনের বিকল্পগুলো ব্যাখ্যা করে করাচির এক্সপো সেন্টারে সেগুলোর প্রদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রদর্শিত বিকল্পগুলো সম্পর্কে জনগণের মতামত নেওয়া যেতে পারে। এতে আবাসননীতিতে একটি নতুন ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির প্রচার এবং তার পক্ষে রাজনৈতিক অঙ্গীকার গড়ে তুলতে সহায়তা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















