নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের অর্থনীতি যখন আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে, তখন দেশটির সাধারণ মানুষ নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, মানুষের দুর্ভোগ কমাতে তার সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, সমাজে বর্তমানে বহু সমস্যা রয়েছে এবং সরকার সেগুলো সম্পর্কে অবগত। পরিস্থিতি যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারছি, এই মুহূর্তে আমাদের সমাজে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমরা যতটা সম্ভব সেগুলো প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছি।”
অর্থনীতি, সামরিক ও নিরাপত্তায় একসঙ্গে চাপ
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফার নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতির ওপর আরও কঠোর চাপ সৃষ্টি করা।
ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটি এখন অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা—তিন দিক থেকেই বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কারণে ইরান একটি “পূর্ণমাত্রার অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধের” পরিস্থিতিতে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ইরানের ওপর “সবচেয়ে কঠোর ও ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞা” আরোপের কথা বলছেন।
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ
ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক দফা বিক্ষোভ হয়েছে। এসব আন্দোলনের পেছনে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অস্থিরতা এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই অস্থিরতায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দেওয়া এবং সহিংসতায় ভূমিকা রাখার অভিযোগ তোলে।
তবে বিদেশভিত্তিক বেসরকারি সংস্থাগুলো সরকারের এই হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক ধরপাকড় ও কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, তার সরকার মূল্যস্ফীতি, জীবিকা সংকট ও বেকারত্ব মোকাবিলায় কাজ করছে।
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সমস্ত হৃদয় দিয়ে মূল্যস্ফীতি, জীবিকার সমস্যা ও বেকারত্ব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে আমরা মানুষের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চাই, যাতে তারা মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে।”
নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যায় দেশটির সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















