স্থায়ী ঠিকানা নেই, থাকেন অস্থায়ী আশ্রয়ে কিংবা রাস্তায়—তবুও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না বার্লিনের গৃহহীন মানুষ। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বার্লিনের রাজ্য আইনসভা নির্বাচনে স্থায়ী বাসস্থান বা নিবন্ধিত ঠিকানা না থাকা ব্যক্তিরাও ভোট দিতে পারবেন। তবে এ অধিকার প্রয়োগ করতে হলে তাদের নিজেদের উদ্যোগ নিয়ে ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করতে হবে।
বার্লিনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা স্টেফান ব্র্যোখলার জানিয়েছেন, গৃহহীন ও অস্থায়ী আবাসনে থাকা মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। তাই তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২৮ আগস্টের মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন
১৭ আগস্ট থেকে গৃহহীন ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য তাদের ১৫ থেকে ১৬ আগস্ট রাতে যে জেলার এলাকায় অবস্থান করেছিলেন, সেই জেলার নির্বাচন কার্যালয়ে যেতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে সরকারি পরিচয়পত্রের ছবি-সংবলিত নথি।
নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদনপত্র পূরণসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে সহায়তা করা হবে। স্থায়ী ঠিকানা থাকা বার্লিনবাসীদের কাছে ডাকযোগে যে ভোটার পরিচয়পত্র পৌঁছে যায়, প্রয়োজন হলে গৃহহীন ভোটাররাও নির্বাচন কার্যালয় থেকে তা সংগ্রহ করতে পারবেন। সেখানে ভোটকেন্দ্রের তথ্যও দেওয়া হবে।
এ ছাড়া নির্বাচন কার্যালয় থেকেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধনের শেষ সময় ২৮ আগস্ট।
গৃহহীনদের জন্য সরাসরি সহায়তায় নির্বাচন কর্মকর্তারা
বার্লিনের পাঙ্কো জেলা নির্বাচন কার্যালয় আরও এক ধাপ এগিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মকর্তারা গৃহহীন মানুষের একটি দিবাকালীন সেবাকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধনে সহায়তা করবেন। প্রয়োজন হলে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হবে।
স্থায়ী ঠিকানা থাকা ও না থাকা মানুষের ভোট দেওয়ার যোগ্যতার মূল শর্ত একই। ভোটারকে জার্মানির নাগরিক হতে হবে, বয়স কমপক্ষে ১৬ বছর হতে হবে এবং অন্তত তিন মাস ধরে বার্লিনে বসবাস করতে হবে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে বার্লিনে বসবাসকারী অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের নাগরিকরাও ভোট দিতে পারবেন।
ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান
বার্লিনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ব্র্যোখলার বলেছেন, ২০ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে যোগ্য সব ভোটারকে ভোট দিতে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, গৃহহীন কিংবা অনুপযুক্ত আবাসনে বসবাসকারী মানুষও সমাজেরই নাগরিক। নির্বাচন তাদের নিজেদের অবস্থান ও মতামত প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
গৃহহীন মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য রাস্তায় থাকা মানুষ ও গৃহহীনদের জন্য প্রকাশিত সংবাদপত্রে আহ্বান জানানো হবে। পাশাপাশি ভোট দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে একটি ভিডিও প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।
হাজারো মানুষ জানেন না তাদের ভোটাধিকার রয়েছে
বার্লিনে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় বসবাস করেন। আরও কয়েক দশ হাজার মানুষ নিজেদের ঘর না থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকেন অথবা সাময়িকভাবে বন্ধু ও আত্মীয়দের বাড়িতে অবস্থান করেন।
গৃহহীনদের সহায়তাকারী একটি জাতীয় সংগঠনের মতে, এই জনগোষ্ঠীর অনেকেই জানেন না যে তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। ভোট দিতে হলে কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, সে বিষয়েও অনেকের ধারণা নেই।
অথচ রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণ তাদের জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। আবাসন, সামাজিক সেবা, আশ্রয়, জনকল্যাণসহ নানা বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে গৃহহীন মানুষদেরও ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে শেষ পর্যন্ত কতজন গৃহহীন ভোটার নির্বাচনে অংশ নেবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। ব্র্যোখলার জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক বা তথ্যভিত্তিক গবেষণা হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















