বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দৃশ্যমানতা, প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে যে কাজ করছিলেন, নতুন দায়িত্বকে তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
কৌশলগত ভিত্তির ওপর নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা
হুমায়ুন কবির বলেন, গত ছয় মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি শক্তিশালী কৌশলগত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত ভিত্তি এখন যথেষ্ট দৃঢ়। এর ওপর ভিত্তি করে সরকার নতুন নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেবে এবং শক্ত অবস্থান থেকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কগুলোতে আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক বিষয়বস্তু যুক্ত করার ওপরও জোর দেন তিনি। তার প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দৃশ্যমানতা ও প্রভাব নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত ছয় মাসে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় নতুন দায়িত্ব পালনে তিনি আত্মবিশ্বাসী বলেও জানান। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সবাই মিলে বাংলাদেশকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
‘বাংলাদেশি পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন নেই’
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনা এবং প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি সেটি ত্যাগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি।’ বাংলাদেশের প্রতি তার পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে কারও প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, এসব ‘নেটিজেন’ কারা। একই সঙ্গে তিনি অতীতের মঈন ইউ আহমেদ ও ফখরুদ্দীন আহমেদের রাজনৈতিক সময়ের প্রসঙ্গও তোলেন এবং সেই সময়ের কোনো ‘হৃদয়জ্বালা’ আবার সক্রিয় হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন।
জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের আহ্বান
দেশের স্বার্থে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ দেশপ্রেমিক সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, দেশের প্রতি দৃঢ় অবস্থান রাখা সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি সাংবাদিকদেরও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ, নতুন অগ্রগতি নেই
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশ এ উদ্যোগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বীকৃতি ও গুরুত্ব বাড়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মধ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিভিন্ন আলোচনা ও যোগাযোগে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মক্কার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও সম্পর্কের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মক্কা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক বিস্তারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রভাব ও দৃশ্যমানতা বাড়ানোর লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাই এ বক্তব্যে তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন পর্যায় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব বাড়ানোর কৌশল তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















