উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের নিয়ন্ত্রিত এলাকা সেউতায় ৩০ ও ৩১ জুলাই অভিবাসীদের নজিরবিহীন ঢলকে কেন্দ্র করে অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরক্কো থেকে সেউতায় সাঁতরে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকে পানিতে ডুবে মারা যান। আবার সীমান্তের বেড়া টপকানোর সময় চাপা পড়েও অনেকে প্রাণ হারান।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই দিনে আনুমানিক ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাঁদের বেশির ভাগই মরক্কোর নাগরিক। এ ছাড়া সুদান, ইয়েমেন এবং পশ্চিম ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশের মানুষও ছিলেন। অনেকেই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে সুদানের সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা কিছু আশ্রয়প্রার্থীও এই দলে ছিলেন।
অধিকাংশকেই মরক্কোয় ফেরত
আগস্টের ২ তারিখের মধ্যেই সেউতায় প্রবেশকারীদের অধিকাংশকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়। স্পেন সরকার বলেছে, এসব প্রত্যাবাসন স্বেচ্ছায় হয়েছে। তবে মরক্কোর মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, ব্যক্তিভিত্তিক যাচাই ছাড়াই স্পেনের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপকভাবে মানুষকে সীমান্ত পার করে দিয়েছে।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, সেউতায় পৌঁছানো কিছু মানুষের ওপর স্থানীয় বাসিন্দারা সহিংসতা চালিয়েছেন। একই সঙ্গে স্পেন ও মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা কিংবা মরক্কোর সীমান্তবর্তী বেনি আনসার শহর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা মানুষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে।
দীর্ঘদিনের সহিংসতার ইতিহাস
সেউতা ও মেলিয়ায় স্পেনের নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে সুরক্ষিত বহির্সীমান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব এলাকায় বহু বছর ধরে মরক্কো ও স্পেনের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ এবং সমষ্টিগতভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কারের অভিযোগ রয়েছে।
২০১৪ সালে সেউতার উপকূলীয় জলসীমায় স্পেনে ঢোকার চেষ্টা করা মানুষের দিকে স্পেনের সীমান্তরক্ষীরা রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে অন্তত ১৫ জন মারা যান। ২০২২ সালের জুনে মেলিয়া-মরক্কো সীমান্তেও নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তি প্রয়োগ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের কৌশলের মধ্যে অন্তত ২৩ জন আফ্রিকান নাগরিক নিহত হন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সেউতায় সাম্প্রতিক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনা এবং অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে মরক্কো ও স্পেনের কর্তৃপক্ষকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে সেউতায় পৌঁছানো মানুষ, মরক্কোয় ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের পাশাপাশি সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করা অন্যদেরও মানবিক আচরণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সেউতায় যারা এখনো অবস্থান করছেন, তাঁদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার প্রয়োজন পৃথকভাবে যাচাই করে আশ্রয় চাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সীমান্তের উভয় পাশে নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে তা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও মাত্রানুগ হতে হবে। একজন মানুষ যেভাবেই সীমান্তে পৌঁছান না কেন, ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ছাড়াই তাকে বহিষ্কার করা মানবাধিকারের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
সেউতায় অভিবাসীদের প্রবেশের ঘটনায় ৭২ জনের মৃত্যু এবং দ্রুত প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন করে ইউরোপের অভিবাসননীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রশ্ন সামনে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















