০৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্র পাশে আছে—কিন্তু কার পাশে? রাশিয়ার জ্বালানি সংকট কি ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ত্বরান্বিত করতে পারে? সনি এক্সপেরিয়া ১০ অষ্টমী: পিক্সেল ১০এ-কে যে হার্ডওয়্যার শিক্ষা দিল ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞায় আরও চার ভারতীয় কোম্পানি যুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র উপকূলের পানিতে লবণাক্ততা, বাড়ছে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি যুদ্ধের ছয় মাসে যুদ্ধকবলিত দেশ থেকেই আসছে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক তেল দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনার মধ্যে ড্রোন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ফিলিপাইন জেমি ডিমন ও স্ত্রীর ১২ মিলিয়ন ডলারের অনুদান, অর্থনৈতিক সুযোগ পাবে ১২ কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় মোজাম্বিকে সাগরে নিখোঁজ চার জেলে, জঙ্গিদের অপহরণের আশঙ্কা

মোজাম্বিকে সাগরে নিখোঁজ চার জেলে, জঙ্গিদের অপহরণের আশঙ্কা

মোজাম্বিকের উত্তরাঞ্চলীয় কাবো দেলগাদো প্রদেশের কুইসাঙ্গা উপকূলীয় এলাকায় সাগরে যাওয়ার পর চার জেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ইসলামপন্থী সশস্ত্র জঙ্গিরা তাদের অপহরণ করে থাকতে পারে।

শুক্রবার রাতে সাগরে যান জেলেরা

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চার জেলে গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর পাশের মেতুজি জেলার উদ্দেশে নৌকায় করে রওনা হন। ভোরে তাদের ফিরে আসার কথা থাকলেও তারা আর ফেরেননি। নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজন নামালুকো এলাকার বাসিন্দা। এলাকাটি জাতীয় সড়ক থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগেও আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র জঙ্গিদের চলাচল দেখা গিয়েছিল। এ কারণে নিখোঁজ জেলেদের জঙ্গিরা ধরে নিয়ে গেছে কি না, সেই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

এখনো সরকারি ঘোষণা নেই

নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে কোনো অভিযান শুরু হয়েছে কি না কিংবা তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কাবো দেলগাদোতে সক্রিয় জঙ্গিরা জোরপূর্বক সদস্য সংগ্রহ, চাঁদা আদায় এবং শ্রমে বাধ্য করার জন্য পরিকল্পিতভাবে মানুষ অপহরণ করে থাকে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র ও উপকূলীয় পথগুলোতে এ ধরনের অপহরণের ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এক মাসে ৭৩টি নিরাপত্তা ঘটনা

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উত্তর মোজাম্বিকে নিরাপত্তা হুমকি বেড়ে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। মাত্র এক মাসে সেখানে ৭৩টি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

এসব ঘটনার বেশির ভাগই বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতার সঙ্গে জড়িত। নথিভুক্ত ঘটনার ৫৯ শতাংশের বেশি ছিল সরাসরি সশস্ত্র হামলা। সাম্প্রতিক এসব সহিংসতায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ৭২ জন অপহৃত হয়েছেন। পাশাপাশি লুটপাট, গ্রামে হামলা ও চাঁদাবাজির কারণে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং নতুন করে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।

দীর্ঘ হচ্ছে কাবো দেলগাদোর সংঘাত

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০টির বেশি সহিংস ঘটনায় ৬ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এসব মৃত্যুর বড় অংশের জন্য ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের দায়ী করা হয়েছে।

কাবো দেলগাদোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সহিংসতায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন করে চার জেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ওই অঞ্চলের উপকূলীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র

মোজাম্বিকে সাগরে নিখোঁজ চার জেলে, জঙ্গিদের অপহরণের আশঙ্কা

০৫:১৬:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

মোজাম্বিকের উত্তরাঞ্চলীয় কাবো দেলগাদো প্রদেশের কুইসাঙ্গা উপকূলীয় এলাকায় সাগরে যাওয়ার পর চার জেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ইসলামপন্থী সশস্ত্র জঙ্গিরা তাদের অপহরণ করে থাকতে পারে।

শুক্রবার রাতে সাগরে যান জেলেরা

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চার জেলে গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর পাশের মেতুজি জেলার উদ্দেশে নৌকায় করে রওনা হন। ভোরে তাদের ফিরে আসার কথা থাকলেও তারা আর ফেরেননি। নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজন নামালুকো এলাকার বাসিন্দা। এলাকাটি জাতীয় সড়ক থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগেও আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র জঙ্গিদের চলাচল দেখা গিয়েছিল। এ কারণে নিখোঁজ জেলেদের জঙ্গিরা ধরে নিয়ে গেছে কি না, সেই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

এখনো সরকারি ঘোষণা নেই

নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে কোনো অভিযান শুরু হয়েছে কি না কিংবা তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কাবো দেলগাদোতে সক্রিয় জঙ্গিরা জোরপূর্বক সদস্য সংগ্রহ, চাঁদা আদায় এবং শ্রমে বাধ্য করার জন্য পরিকল্পিতভাবে মানুষ অপহরণ করে থাকে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র ও উপকূলীয় পথগুলোতে এ ধরনের অপহরণের ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এক মাসে ৭৩টি নিরাপত্তা ঘটনা

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উত্তর মোজাম্বিকে নিরাপত্তা হুমকি বেড়ে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। মাত্র এক মাসে সেখানে ৭৩টি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

এসব ঘটনার বেশির ভাগই বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতার সঙ্গে জড়িত। নথিভুক্ত ঘটনার ৫৯ শতাংশের বেশি ছিল সরাসরি সশস্ত্র হামলা। সাম্প্রতিক এসব সহিংসতায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ৭২ জন অপহৃত হয়েছেন। পাশাপাশি লুটপাট, গ্রামে হামলা ও চাঁদাবাজির কারণে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং নতুন করে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।

দীর্ঘ হচ্ছে কাবো দেলগাদোর সংঘাত

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০টির বেশি সহিংস ঘটনায় ৬ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এসব মৃত্যুর বড় অংশের জন্য ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের দায়ী করা হয়েছে।

কাবো দেলগাদোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সহিংসতায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন করে চার জেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ওই অঞ্চলের উপকূলীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।