০৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
সৌদি আরব-ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে নতুন চুক্তি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্র পাশে আছে—কিন্তু কার পাশে? রাশিয়ার জ্বালানি সংকট কি ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ত্বরান্বিত করতে পারে? সনি এক্সপেরিয়া ১০ অষ্টমী: পিক্সেল ১০এ-কে যে হার্ডওয়্যার শিক্ষা দিল ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞায় আরও চার ভারতীয় কোম্পানি যুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র উপকূলের পানিতে লবণাক্ততা, বাড়ছে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি যুদ্ধের ছয় মাসে যুদ্ধকবলিত দেশ থেকেই আসছে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক তেল দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনার মধ্যে ড্রোন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ফিলিপাইন জেমি ডিমন ও স্ত্রীর ১২ মিলিয়ন ডলারের অনুদান, অর্থনৈতিক সুযোগ পাবে ১২ কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়

জেমি ডিমন ও স্ত্রীর ১২ মিলিয়ন ডলারের অনুদান, অর্থনৈতিক সুযোগ পাবে ১২ কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়

জেপিমরগ্যানের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমন ও তাঁর স্ত্রী জুডিথ ডিমন যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকে মোট ১২ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। এই অর্থ দীর্ঘমেয়াদি তহবিল হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারে।

ডিমন দম্পতির পারিবারিক দাতব্য সংস্থা ‘জেমস অ্যান্ড জুডিথ কে. ডিমন ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি তরুণদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তা করে আসছে।

১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ী তহবিল

জাতীয় কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ তহবিল জানিয়েছে, এই অনুদানের মাধ্যমে ‘ডিমন তহবিল’ গঠন করা হবে। এটি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী তহবিলে যুক্ত হবে এবং নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক পরিকল্পনা করার সুযোগ দেবে।

অনুদান পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেনেডিক্ট কলেজ, ডিলার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, এডওয়ার্ড ওয়াটার্স বিশ্ববিদ্যালয়, হাস্টন-টিলটসন বিশ্ববিদ্যালয়, জার্ভিস ক্রিশ্চিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়, জনসন সি. স্মিথ বিশ্ববিদ্যালয়, মাইলস কলেজ, ওকউড বিশ্ববিদ্যালয়, শ বিশ্ববিদ্যালয়, স্টিলম্যান কলেজ, টাসকিগি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভোরহিস বিশ্ববিদ্যালয়।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে পরিবারের প্রথম প্রজন্মের উচ্চশিক্ষার্থী হিসেবে যেসব তরুণ-তরুণী এগিয়ে আসছেন, তাদের জন্য এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।

‘সাফল্যের সিঁড়ি’ হিসেবে কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়

জেমি ও জুডিথ ডিমন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য ‘সাফল্যের সিঁড়ি’ হিসেবে কাজ করে আসছে। তাঁদের নিজেদের পরিবারেও প্রথম প্রজন্মের উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার অভিজ্ঞতা ছিল। সেই জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ ও সফল হওয়ার মানসিকতা তাঁরা নিজেদের সন্তানদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিয়েছেন।Jamie and Judy Dimon donate $12 million to 12 HBCUs | Fortune

এই অনুদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো একটি কর্মসূচিতে অর্থ না দিয়ে স্থায়ী তহবিলে অর্থ রাখা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতি বছর নতুন অনুদানের জন্য অপেক্ষা না করে দীর্ঘ কয়েক দশকের পরিকল্পনা করতে পারবে।

শিক্ষা ও কর্মমুখী উদ্যোগে ডিমন দম্পতি

ডিমন পরিবারের দাতব্য কার্যক্রমের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত করা। জুডিথ ডিমনের নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রমে নিউইয়র্ক শহরের সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনভিত্তিক শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তাঁদের ফাউন্ডেশন ‘ফিউচাররেডিনিউইয়র্কসি’ নামের একটি উদ্যোগ চালু করতেও সহায়তা করেছে। এর লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এক লাখ শিক্ষার্থীকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার সুযোগ দেওয়া।

সরকারি সহায়তা কমায় বেসরকারি অনুদানের গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ কলেজগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার সময়েই ডিমন দম্পতির এই অনুদান এসেছে।

এর আগে ধনকুবের ম্যাকেঞ্জি স্কটও একাধিক কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছেন। ফলে সরকারি সহায়তার ঘাটতি তৈরি হলে বেসরকারি দাতব্য অর্থ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠছে।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের দীর্ঘ অচলাবস্থার সময় শিক্ষা বিভাগ নতুন অনুদান দেওয়া বন্ধ রেখেছিল এবং বিপুলসংখ্যক কর্মীকে সাময়িকভাবে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। এতে ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো ও অর্থায়ন কর্মসূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

সরকারি সহায়তা পুনরায় চালু হলেও শিক্ষা বিভাগের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিমন দম্পতির মতো ধনীদের দীর্ঘমেয়াদি অনুদান এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থিতিশীলতায় নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরব-ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে নতুন চুক্তি

জেমি ডিমন ও স্ত্রীর ১২ মিলিয়ন ডলারের অনুদান, অর্থনৈতিক সুযোগ পাবে ১২ কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়

০৫:২২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

জেপিমরগ্যানের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমন ও তাঁর স্ত্রী জুডিথ ডিমন যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকে মোট ১২ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। এই অর্থ দীর্ঘমেয়াদি তহবিল হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারে।

ডিমন দম্পতির পারিবারিক দাতব্য সংস্থা ‘জেমস অ্যান্ড জুডিথ কে. ডিমন ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি তরুণদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তা করে আসছে।

১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ী তহবিল

জাতীয় কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ তহবিল জানিয়েছে, এই অনুদানের মাধ্যমে ‘ডিমন তহবিল’ গঠন করা হবে। এটি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী তহবিলে যুক্ত হবে এবং নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক পরিকল্পনা করার সুযোগ দেবে।

অনুদান পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেনেডিক্ট কলেজ, ডিলার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, এডওয়ার্ড ওয়াটার্স বিশ্ববিদ্যালয়, হাস্টন-টিলটসন বিশ্ববিদ্যালয়, জার্ভিস ক্রিশ্চিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়, জনসন সি. স্মিথ বিশ্ববিদ্যালয়, মাইলস কলেজ, ওকউড বিশ্ববিদ্যালয়, শ বিশ্ববিদ্যালয়, স্টিলম্যান কলেজ, টাসকিগি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভোরহিস বিশ্ববিদ্যালয়।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে পরিবারের প্রথম প্রজন্মের উচ্চশিক্ষার্থী হিসেবে যেসব তরুণ-তরুণী এগিয়ে আসছেন, তাদের জন্য এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।

‘সাফল্যের সিঁড়ি’ হিসেবে কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়

জেমি ও জুডিথ ডিমন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য ‘সাফল্যের সিঁড়ি’ হিসেবে কাজ করে আসছে। তাঁদের নিজেদের পরিবারেও প্রথম প্রজন্মের উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার অভিজ্ঞতা ছিল। সেই জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ ও সফল হওয়ার মানসিকতা তাঁরা নিজেদের সন্তানদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিয়েছেন।Jamie and Judy Dimon donate $12 million to 12 HBCUs | Fortune

এই অনুদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো একটি কর্মসূচিতে অর্থ না দিয়ে স্থায়ী তহবিলে অর্থ রাখা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতি বছর নতুন অনুদানের জন্য অপেক্ষা না করে দীর্ঘ কয়েক দশকের পরিকল্পনা করতে পারবে।

শিক্ষা ও কর্মমুখী উদ্যোগে ডিমন দম্পতি

ডিমন পরিবারের দাতব্য কার্যক্রমের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত করা। জুডিথ ডিমনের নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রমে নিউইয়র্ক শহরের সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনভিত্তিক শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তাঁদের ফাউন্ডেশন ‘ফিউচাররেডিনিউইয়র্কসি’ নামের একটি উদ্যোগ চালু করতেও সহায়তা করেছে। এর লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এক লাখ শিক্ষার্থীকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার সুযোগ দেওয়া।

সরকারি সহায়তা কমায় বেসরকারি অনুদানের গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ কলেজগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার সময়েই ডিমন দম্পতির এই অনুদান এসেছে।

এর আগে ধনকুবের ম্যাকেঞ্জি স্কটও একাধিক কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছেন। ফলে সরকারি সহায়তার ঘাটতি তৈরি হলে বেসরকারি দাতব্য অর্থ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠছে।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের দীর্ঘ অচলাবস্থার সময় শিক্ষা বিভাগ নতুন অনুদান দেওয়া বন্ধ রেখেছিল এবং বিপুলসংখ্যক কর্মীকে সাময়িকভাবে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। এতে ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো ও অর্থায়ন কর্মসূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

সরকারি সহায়তা পুনরায় চালু হলেও শিক্ষা বিভাগের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিমন দম্পতির মতো ধনীদের দীর্ঘমেয়াদি অনুদান এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থিতিশীলতায় নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে।