যুক্তরাষ্ট্রে মেইলের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার নিয়ম কঠোর করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে সাময়িকভাবে বড় আইনি বাধা সরিয়ে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। তবে এর অর্থ এই নয় যে ট্রাম্পের পুরো পরিকল্পনা এখনই কার্যকর হয়ে গেছে। পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশের ওপর আরেকটি আদালতের নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে।
রাজ্যগুলোর মামলা এখনই গ্রহণযোগ্য নয়
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বেঞ্চ বলেছে, ট্রাম্পের মার্চে জারি করা নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে ২৩টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী অঞ্চলের করা মামলা এই পর্যায়ে অকালপক্ব। ফলে বোস্টনের ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানির দেওয়া একটি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
তবে আদালত রাজ্যগুলোর জন্য ভবিষ্যতে আবার মামলা করার সুযোগ খোলা রেখেছে। অর্থাৎ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে প্রশাসনের পদক্ষেপ বাস্তবে রাজ্যগুলোর ওপর প্রভাব ফেললে তারা নতুন করে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে।
মেইল ভোটে ট্রাম্পের কঠোর পরিকল্পনা
ট্রাম্পের মার্চের নির্বাহী আদেশে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ভোটারদের যোগ্যতার তালিকা তৈরির জন্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি যেসব রাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তা অনুপযুক্ত ভোটারদের ব্যালট দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়।
আদেশে ডাক বিভাগের মাধ্যমে ব্যালট পাঠানোর ক্ষেত্রেও কঠোরতা আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কেবল সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের অনুমোদিত মেইল ভোটার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কাছেই ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মেইলের মাধ্যমে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন এবং দেশজুড়ে এই পদ্ধতি বন্ধ করার ইচ্ছাও জানিয়েছেন। যদিও মেইল ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির ঘটনা বিরল।
আরেকটি নিষেধাজ্ঞা বহাল
সুপ্রিম কোর্ট সোমবার ডাক বিভাগের বিরুদ্ধে বিচারক তালওয়ানির দেওয়া আরেকটি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে ডাক বিভাগের ওপর দেশজুড়ে আরোপিত সেই নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর রয়েছে।
গত ১১ আগস্ট দেওয়া ওই আদেশে ডাক বিভাগকে মেইল ভোটের ক্ষেত্রে নতুন কঠোর নিয়ম প্রয়োগ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠনের পৃথক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
বিচারকের ভিন্ন অবস্থান
এর আগে জুনে বিচারক তালওয়ানি বলেছিলেন, অঙ্গরাজ্যগুলোর ফেডারেল নির্বাচনের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার মতো ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী ভোটার হওয়ার যোগ্যতার নিয়ম নির্ধারণের দায়িত্ব মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর।
তিনি আরও বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর পক্ষে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য নির্ভুল নাগরিক তালিকা তৈরি করাও সম্ভব নয়।
তবে সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলেছেন, প্রশাসন এখনো এমন কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি, যার কারণে অঙ্গরাজ্যগুলো সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাই এই পর্যায়ে তাদের মামলা করার আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়নি।
ডেমোক্র্যাটদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে ভোটারদের ভোটাধিকার সীমিত করার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি জানান, ক্যালিফোর্নিয়া আবারও এই বিধিনিষেধ ঠেকাতে মামলা করবে।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসও সিদ্ধান্তটিকে ভোটাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, যোগ্য ভোটারদের ভোট দেওয়া কঠিন করে তোলার সুযোগ কোনো প্রশাসনেরই থাকা উচিত নয়।
ভিন্নমত দিয়েছেন তিন বিচারপতি
সুপ্রিম কোর্টের উদারপন্থী বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র বলেন, অঙ্গরাজ্যগুলোকে ট্রাম্পের আদেশের বাস্তব ক্ষতি শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য করা উচিত নয়। বিচারপতি এলেনা কাগান তার সঙ্গে ভিন্নমতে যোগ দেন। বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনও পৃথক ভিন্নমত দিয়েছেন।
সোটোমেয়র স্পষ্ট করেছেন, সোমবারের সিদ্ধান্তে ২০২৬ সালের নভেম্বরের নির্বাচন পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপ আইনসম্মত কি না, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয়নি।
ফলে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ট্রাম্পের জন্য তাৎক্ষণিক আইনি সুবিধা তৈরি করলেও মেইল ভোট নিয়ে তার পুরো পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, এই লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















