মার্কিন শেয়ারবাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর একটি এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর কোম্পানিগুলোর আয় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আশ্চর্যজনকভাবে বেড়েছে। প্রাথমিক হিসাবে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সূচকভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত আয় বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৫১ শতাংশে। ২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর এটিই হতে পারে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
তবে এই উত্থানের পেছনে রয়েছে বিশেষ একটি বিষয়। দুটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান—অ্যালফাবেট ও অ্যামাজনের অসাধারণ আয়ই মূলত মোট প্রবৃদ্ধির বড় অংশকে ওপরে তুলেছে।
দুই প্রতিষ্ঠানের আয়েই বড় পরিবর্তন
অ্যালফাবেটের শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৯ ডলার ১১ সেন্ট, যেখানে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল মাত্র ২ ডলার ৮৮ সেন্ট। অন্যদিকে অ্যামাজনের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৫ ডলার ৭৫ সেন্ট, যেখানে পূর্বাভাস ছিল ১ ডলার ৮২ সেন্ট।
দুই প্রতিষ্ঠানের এই শক্তিশালী ফলাফলের পেছনে তাদের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া হিসাবভুক্ত মূল্যবৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব আয়কে বাদ দিলে এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর সামগ্রিক আয় বৃদ্ধির হার ৫১ শতাংশ থেকে নেমে আসে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে।
তারপরও ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট শক্তিশালী। ২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের পর এটিই হতে পারে সূচকটির সর্বোচ্চ আয় বৃদ্ধি। একই সঙ্গে টানা সপ্তম প্রান্তিকে সূচকভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয় দুই অঙ্কের হারে বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
শুধু প্রযুক্তি খাত নয়, বেশির ভাগ খাতেই আয় বাড়ছে
মার্কিন কোম্পানিগুলোর আয় বৃদ্ধির চিত্র শুধু প্রযুক্তি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর ১১টি খাতের মধ্যে ১০টিতেই গত বছরের তুলনায় আয় বেড়েছে। এর মধ্যে ৯টি খাতে আয় বৃদ্ধির হার দুই অঙ্কে পৌঁছেছে।
জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বড় উত্থান দেখা গেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতের আয় প্রায় ১৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানির তুলনামূলক শক্তিশালী দাম এই বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
যোগাযোগসেবা খাতেও আয় বেড়েছে প্রায় ১১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোয় বিনিয়োগ থেকে পাওয়া হিসাবভুক্ত মূল্যবৃদ্ধি এ খাতের আয় বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
তবে স্বাস্থ্যসেবা খাত এই প্রবণতার ব্যতিক্রম। এ খাতে গত বছরের তুলনায় মুনাফা প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই এখন পরিচালকদের আলোচনার কেন্দ্রে
কোম্পানিগুলোর দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয় নিয়ে বৈঠকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর কোম্পানিগুলোর আয়-সংক্রান্ত বৈঠকে এখন পর্যন্ত ৩০৫ বার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর বিপরীতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে ১৯৩ বার এবং শুল্ক নিয়ে ১৬২ বার। শুল্ক ফেরতের প্রসঙ্গ এসেছে মাত্র ৩৫টি বৈঠকে।
এ থেকে বোঝা যায়, বাণিজ্যনীতি ও মূল্যস্ফীতির মতো পুরোনো অর্থনৈতিক বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠছে।
প্রবৃদ্ধির পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব কতটা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ চলতি বছরে মার্কিন অর্থনীতির অন্যতম বড় প্রবণতা। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি যোগাযোগ, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতেও এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে।
তবে অ্যালফাবেট ও অ্যামাজনের ফলাফল বাদ দিয়েও এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর আয় বৃদ্ধির হার ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, সামগ্রিক করপোরেট খাতেও শক্তিশালী আয় প্রবৃদ্ধি তৈরি হয়েছে।
এটি মার্কিন অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। কারণ বড় কোম্পানিগুলোর আয় বৃদ্ধি সাধারণত ব্যবসায়িক কার্যক্রম, ভোক্তা ব্যয় ও বিনিয়োগের সামগ্রিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















