০১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
শৈশবের চিনি খাওয়ার অভ্যাসে কি বাড়তে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি? সেপ্টেম্বরের পর্দা মাতাবে নয়টি আলোচিত ধারাবাহিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আনছে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে বেসরকারিকরণের উদ্যোগ মেয়ের প্রথম জন্মদিনে স্পেন ভ্রমণ, কিন্তু এক বছরের শিশুর জন্য বদলে গেল পুরো পরিকল্পনা বন্ধুকে ধার দেওয়া টাকা ফেরত না পেলে কী করবেন—বন্ধুত্ব বাঁচাবেন, নাকি টাকা ফেরত চাইবেন? বাড়িতে বার্ধক্য কাটাতে ৬ সন্তান ও ৩ লাখ ডলারের সঞ্চয়: এক পরিবারের কঠিন বাস্তবতা গ্রিসে চার বছর: ছুটির স্বপ্নের আড়ালে যে বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রের কোন বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট দেরি হয়, জেনে নিন পুরো তালিকা কিশোর-কিশোরীদের উবার যাত্রা এবার সরাসরি দেখতে পারবেন অভিভাবকেরা খাবারের ব্যবসা ছেঁটে সৌন্দর্য-পণ্য ও গৃহস্থালি পণ্যে জোর দিচ্ছে ইউনিলিভার

তিন বছরে ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ার

ইন্দোনেশিয়া আগামী তিন বছরের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি শুরু করেছে। দেশটির বর্তমান স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যেখানে মাত্র ১ দশমিক ৫ গিগাওয়াট, সেখানে এত অল্প সময়ে বিশাল সক্ষমতা তৈরির এই পরিকল্পনাকে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো মঙ্গলবার রাজধানী জাকার্তায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং জ্বালানি আমদানির ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

ব্যয় হবে ৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলার

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা গড়ে তুলতে আনুমানিক ৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। বিশাল এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কয়লা ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি চাহিদা বাড়তে থাকায় আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে সৌরবিদ্যুৎকে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

Indonesia Drafts Regulation for 100 GW Solar Power

বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় বিশাল বৃদ্ধি

১০০ গিগাওয়াটের লক্ষ্যমাত্রা ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতার তুলনায় নজিরবিহীন। বর্তমানে দেশটিতে মাত্র ১ দশমিক ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা স্থাপিত রয়েছে। অর্থাৎ তিন বছরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ দ্রুত গতিতে নতুন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বাড়বে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

জ্বালানি আমদানি কমানোর লক্ষ্য

ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির আকার ও জনসংখ্যা বড় হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকার সেই চাপ কমাতে চায়।

Indonesia's 100 GW Solar Power Development: Can It Be Achieved?

প্রেসিডেন্ট প্রবোওর সরকার একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। ১০০ গিগাওয়াটের এই কর্মসূচি সেই বৃহত্তর জ্বালানি রূপান্তর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার এই উদ্যোগ আঞ্চলিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। এত বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে উঠলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শৈশবের চিনি খাওয়ার অভ্যাসে কি বাড়তে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি?

তিন বছরে ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ার

১২:২৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

ইন্দোনেশিয়া আগামী তিন বছরের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি শুরু করেছে। দেশটির বর্তমান স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যেখানে মাত্র ১ দশমিক ৫ গিগাওয়াট, সেখানে এত অল্প সময়ে বিশাল সক্ষমতা তৈরির এই পরিকল্পনাকে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো মঙ্গলবার রাজধানী জাকার্তায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং জ্বালানি আমদানির ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

ব্যয় হবে ৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলার

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা গড়ে তুলতে আনুমানিক ৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। বিশাল এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কয়লা ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি চাহিদা বাড়তে থাকায় আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে সৌরবিদ্যুৎকে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

Indonesia Drafts Regulation for 100 GW Solar Power

বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় বিশাল বৃদ্ধি

১০০ গিগাওয়াটের লক্ষ্যমাত্রা ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতার তুলনায় নজিরবিহীন। বর্তমানে দেশটিতে মাত্র ১ দশমিক ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা স্থাপিত রয়েছে। অর্থাৎ তিন বছরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ দ্রুত গতিতে নতুন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বাড়বে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

জ্বালানি আমদানি কমানোর লক্ষ্য

ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির আকার ও জনসংখ্যা বড় হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকার সেই চাপ কমাতে চায়।

Indonesia's 100 GW Solar Power Development: Can It Be Achieved?

প্রেসিডেন্ট প্রবোওর সরকার একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। ১০০ গিগাওয়াটের এই কর্মসূচি সেই বৃহত্তর জ্বালানি রূপান্তর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার এই উদ্যোগ আঞ্চলিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। এত বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে উঠলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।