মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জুনে ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ার কিনেছেন। সরকারি আর্থিক বিবরণীতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই বিনিয়োগের পরিমাণ ১৫ হাজার ১ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে।
২৩ জুন স্পেসএক্সের শেয়ার কেনেন ট্রাম্প। তবে ঠিক কত অর্থ তিনি বিনিয়োগ করেছেন, তা নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। কারণ মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের পরিবর্তে বিভিন্ন পরিসর উল্লেখ করা হয়।
এক মাসে হাজারের বেশি শেয়ার লেনদেন
ট্রাম্প ১২ আগস্ট নিজের আর্থিক বিবরণীতে এই বিনিয়োগের তথ্য দেন। পরে ২২ আগস্ট তা প্রকাশ্যে আসে। ওই নথি অনুযায়ী, জুন মাসে ট্রাম্প এক হাজারেরও বেশি শেয়ার লেনদেন করেছেন।
স্পেসএক্স গত ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে বাজারে আসে। সেই সময় মহাকাশ, উপগ্রহ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

সরকারি সিদ্ধান্তে স্পেসএক্সের বড় স্বার্থ
ট্রাম্পের স্পেসএক্সে বিনিয়োগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মার্কিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নানা কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে। স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অন্যতম ঠিকাদার এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদনের ওপরও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার একটি বড় অংশ নির্ভরশীল।
এরই মধ্যে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার তাঁর প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণ খাতে স্পেসএক্স বর্তমানে অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান।
ফলে প্রেসিডেন্টের নিজের বিনিয়োগ এবং সরকারের এমন সিদ্ধান্তের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সম্পদ পরিচালনায় ট্রাম্পের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই: হোয়াইট হাউস
তবে হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্পের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত সরাসরি তাঁর নিজের হাতে নেই। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল জানিয়েছেন, তৃতীয় পক্ষের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে প্রেসিডেন্টের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা করে এবং নির্দিষ্ট বাজারসূচকের অনুসরণে লেনদেন পরিচালনা করে।
তাঁর দাবি, ট্রাম্প বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য বিনিয়োগের ধরন, কেনাবেচার সময় কিংবা পোর্টফোলিওর সিদ্ধান্তে নির্দেশনা, প্রভাব বা মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখেন না।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরেক সদস্যেরও স্পেসএক্সে বড় বিনিয়োগ

স্পেসএক্সের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আর্থিক সম্পর্কও এর আগে আলোচনায় এসেছে। মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের প্রধান ও ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য কেলি লফলার প্রতিষ্ঠানটির বাজারে প্রবেশের পর বিপুল অর্থ লাভ করেন বলে জানা গেছে।
লফলার এর আগে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ে বিনিয়োগ করেছিলেন। পরে সেটি স্পেসএক্সের সঙ্গে একীভূত হয়। ট্রাম্প তাঁকে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের প্রধান হিসেবে মনোনীত করার পরও তিনি সেখানে নতুন করে বিনিয়োগ করেন।
বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, লফলারের প্রথম বিনিয়োগের মূল্য বাজারে প্রবেশের দিনে প্রায় ৭ মিলিয়ন থেকে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারত। দ্বিতীয় বিনিয়োগের মূল্য হতে পারত প্রায় ২ দশমিক ২ মিলিয়ন থেকে ২৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার।
ট্রাম্পের স্পেসএক্স বিনিয়োগের সঠিক অঙ্ক জানা না গেলেও, এই বিনিয়োগ তাঁর সঙ্গে মাস্কের প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
নীতি ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগ নিয়ে বাড়ছে নজর
ইলন মাস্ক একসময় ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন। বর্তমানে দুজনের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আগের মতো ঘনিষ্ঠ না হলেও মাস্কের প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এ অবস্থায় প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ এবং তাঁর প্রশাসনের নীতিনির্ধারণের মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা তৈরি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















