সেপ্টেম্বর এলেই শুরু হয় শরৎকালীন চলচ্চিত্র উৎসবের ব্যস্ত মৌসুম। ভেনিস, টরন্টো ও নিউইয়র্কের চলচ্চিত্র উৎসব ঘিরে ইতিমধ্যেই সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। এ নিয়ে ভোগের তিন চলচ্চিত্রপ্রেমী সম্পাদক নিজেদের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সিনেমাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আলোচনায় যেসব সিনেমা
ভোগের উপসম্পাদক টেলর অ্যানট্রিমের সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন সম্পাদক লিয়াম হেস ও লিসা ওং ম্যাকাবাসকো। আলোচনার শুরুতেই তারা এমন কয়েকটি সিনেমার কথা বলেন, যেগুলো উৎসবে প্রদর্শনের আগেই দেখার সুযোগ হয়েছে তাদের।
এর মধ্যে অন্যতম জেমস গ্রের ‘পেপার টাইগার’। অ্যাডাম ড্রাইভার, মাইলস টেলার ও স্কারলেট জোহানসন অভিনীত এই রোমাঞ্চধর্মী সিনেমার পটভূমি ১৯৮০-এর দশকের কুইন্স। সিনেমাটির চরিত্রদের পোশাক, পরচুলা ও উচ্চারণ কিছুটা অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেন লিসা। সিনেমাটি দেখার পর অ্যাডাম ড্রাইভার আদৌ কতটা অসাধারণ অভিনেতা—এমন প্রশ্নও নিজের বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনায় তুলেছিলেন টেলর।

এরপর আলোচনায় আসে জাপানি নির্মাতা রিউসুকে হামাগুচির প্রথম ফরাসি ভাষার সিনেমা ‘অল অব আ সাডেন’। ক্রিস্তিয়ান মুংগিউর আইনভিত্তিক রোমাঞ্চধর্মী ‘ফিওর্ড’ সিনেমায় রয়েছেন রেনাতে রেইন্সভে ও সেবাস্টিয়ান স্ট্যান।
এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হোইয়ন অভিনীত ‘হোপ’ এবং লেয়া সেদুর অভিনয়ে ‘জেন্টল মনস্টার’ নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
উৎসবে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা
আলোচনার শেষ পর্বে প্রত্যেকে উৎসবে যে দুটি সিনেমা দেখার জন্য সবচেয়ে বেশি আগ্রহী, সেগুলোর নাম জানান।
লিয়াম হেসের পছন্দ লি চ্যাং-দংয়ের ‘পসিবল লাভ’ এবং ‘প্রাইমটাইম’। দ্বিতীয় সিনেমাটি শিকারি ধরার একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ক্রিস হ্যানসেনকে ঘিরে তৈরি।
লিসা ওং ম্যাকাবাসকোর পছন্দ ভের্নার হারৎসগের ‘বাকিং ফাস্টার্ড’, যেখানে অভিনয় করেছেন মারা বোনেরা। তার দ্বিতীয় পছন্দ ক্রিস রকের ‘মিস্টি গ্রিন’।

অন্যদিকে টেলর অ্যানট্রিমের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সিনেমার তালিকায় রয়েছে ড্যানি বয়েলের ‘ইঙ্ক’। রুপার্ট মারডকের ‘দ্য সান’ পত্রিকা অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই জীবনীভিত্তিক সিনেমাটি নিয়ে তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক ভোগ লেখক আলেক্সান্দ্রা পেকম্যানের স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘ম্যাগাজিন’-কেও তালিকায় রেখেছেন তিনি।
হ্যারি-মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার আলোচনা
পর্বটির আরেক অংশে ক্লোয়ির সঙ্গে যোগ দেন মার্লে মারিয়ুস। সেখানে আলোচনার বিষয় ছিল ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কলের যুক্তরাজ্যে ফেরার খবর।
তারা নিজেদের সাম্প্রতিক দেখা সিনেমা নিয়েও কথা বলেন। ক্লোয়ি দেখেছেন ‘প’ প্যাট্রোল: দ্য ডাইনো মুভি’, আর মার্লে দেখেছেন ‘নোভাক জোকোভিচ: দ্য উলফ ইন উইন্টার’।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসরে কোন তারকাদের ঘিরে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ রয়েছে, সে বিষয়েও কথা হয়। সেই তালিকায় এমন একজন অভিনেত্রীর নাম রয়েছে, যার নাম শুরু হয়েছে ‘পার্কার’ দিয়ে এবং শেষ হয়েছে ‘পসি’ দিয়ে—অর্থাৎ পার্কার পসি।
সেপ্টেম্বরের চলচ্চিত্র উৎসব মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সিনেমা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে কতটা সাড়া ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















