দীর্ঘ অভিনয়জীবনে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন জুলিয়া লুই-ড্রেফাস, যেখানে নতুন কিছু প্রথমবার করার প্রয়োজন তাঁর নেই। তবু এবার তিনি একই সঙ্গে দুটি নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি—ব্রডওয়েতে অভিষেক এবং টনি পুরস্কার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।
টনি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, থিয়েটারজগতের মানুষের মধ্যে এক ধরনের আন্তরিকতা রয়েছে, যা সত্যিই সুন্দর। সবাই জানেন তাঁদের কাজ কতটা কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রডওয়েতে নতুন চরিত্র
এবারের বড় চ্যালেঞ্জ জুলিয়ার জন্য পলি ওয়াইথ চরিত্রটি। জন রবিন বেইটজের ২০১১ সালের নাটক ‘অদার ডেজার্ট সিটিজ’-এর নতুন মঞ্চায়নে তিনি অভিনয় করছেন পাম স্প্রিংসের এক প্রভাবশালী পরিবারের মাতৃপ্রধানের ভূমিকায়। জন বেঞ্জামিন হিকির পরিচালনায় নাটকটি অক্টোবরে হাডসন থিয়েটারে মঞ্চস্থ হওয়ার কথা।

পলি চরিত্রটি বাইরে থেকে মার্জিত, আত্মবিশ্বাসী ও আকর্ষণীয়। কিন্তু সেই সৌজন্যের আড়ালে রয়েছে তীক্ষ্ণতা, কঠোরতা এবং আবেগকে শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা।
বহু বছর ধরেই জুলিয়া এমন একটি মঞ্চনাটকের সন্ধানে ছিলেন, যা তাঁর কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয় হবে। এই নাটকের চিত্রনাট্য হাতে আসার পর তিনি দ্রুতই মুগ্ধ হন। বুদ্ধিদীপ্ত, রসিক এবং তীক্ষ্ণ সংলাপে ভরা নাটকটির ভাষা তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে।
পরিবারের পুরোনো ক্ষত
নাটকের গল্পের শুরু ২০০৪ সালের বড়দিনের আগের রাতে। ছয় বছর পর পাম স্প্রিংসে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে লেখক ব্রুক ওয়াইথ। সঙ্গে রয়েছে তাঁর বিদ্রূপাত্মক স্বভাবের ছোট ভাই ট্রিপ এবং মদ্যপান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা তাঁদের খালা সিলডা।
ব্রুক দীর্ঘদিন বিষণ্নতার সঙ্গে লড়াই করার পর সুস্থ হয়ে উঠেছে। সেই কঠিন সময়ে তাঁর চিকিৎসার খরচ বহন করেছিলেন বাবা-মা। এবার তিনি প্রকাশ করতে চলেছেন নিজের স্মৃতিকথা। কিন্তু সেই বইয়ে রয়েছে পরিবারের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের পুনরালোচনা।
ব্রুকের ভাই হেনরি সত্তরের দশকে আত্মহত্যা করেছিলেন—এটাই পরিবারের প্রচলিত গল্প। তবে তাঁর মৃত্যুর আগে একটি উগ্র যুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টিও সামনে আসে। সেই সময় একটি বোমা হামলায় একজন মানুষ নিহত হয়েছিল। ব্রুকের কাছে পরিবারের প্রচলিত বর্ণনায় কিছু অসংগতি রয়েছে। তাই সত্যটা খুঁজে বের করার চেষ্টা থেকেই তাঁর স্মৃতিকথার জন্ম।
পলির কাছে স্মৃতিকথা এক বিশ্বাসঘাতকতা
পরিবারের পুরোনো গল্প ও ভাবমূর্তির প্রধান রক্ষক পলি। তাঁর কাছে মেয়ের লেখা স্মৃতিকথা শুধু একটি বই নয়, বরং পরিবারের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
ব্রুকের লেখা পরিবারের বহু বছরের সাজানো ভারসাম্যকে ভেঙে দিতে পারে। কিন্তু নাটক যত এগোয়, দর্শক বুঝতে পারেন ঘটনাগুলো আসলে যতটা সরল মনে হয়, ততটা নয়। শেষদিকে নাট্যকার এমন একটি মোড় আনেন, যা আগের সব ঘটনাকেই নতুন অর্থ দেয়।
নাটকটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো এর অন্ধকারের মধ্যেও থাকা তীব্র রসবোধ। জুলিয়া এতদিন যে চরিত্রগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত—এলাইন বেনেস ও সেলিনা মেয়ার—তাদের তুলনায় পলি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের চরিত্র।
এখানে তাঁর হাস্যরস আরও বিপজ্জনক। তা একই সঙ্গে অভিজাত, ভীতিপ্রদ, বিষাক্ত এবং গভীর আবেগকে আড়াল করে রাখা। পলির রসবোধের নিচে লুকিয়ে আছে পারিবারিক ট্র্যাজেডি।
নিজের জীবনেও খুঁজে পাচ্ছেন চরিত্রটির ছায়া
নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বেড়ে ওঠা জুলিয়ার কাছে পলি চরিত্রটি একেবারে অপরিচিত নয়। সমাজের উচ্চবিত্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা এমন অনেক নারীকে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন।
পলি এমন একজন নারী, যিনি সপ্তাহে একাধিকবার চুল সাজান, নখের যত্ন নেন এবং নিজের উপস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। জুলিয়ার কথায়, তিনি এই ধরনের নারীদের চেনেন।
নিজের দুই প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে মানুষ করার অভিজ্ঞতাও তাঁকে চরিত্রটির পারিবারিক দিকটি বুঝতে সাহায্য করছে। সংকটের মধ্য দিয়ে সন্তানকে বড় করার সময় একজন বাবা-মায়ের ওপর যে মানসিক চাপ তৈরি হয়, তা নিয়েও তিনি ভাবছেন।
জুলিয়ার নিজের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়েছিল তাঁর ছোটবেলায়। ফলে পরিবার কীভাবে একজন মানুষের জীবন, পরিচয় ও মানসিক কাঠামো তৈরি করে—সে অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।
আর সেই কারণেই ব্রুকের স্মৃতিকথাকে পলি কেন এত বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন, সেটিও জুলিয়ার কাছে স্পষ্ট। তাঁর কাছে মেয়ের বইটি যেন শুধু অতীতের সত্য প্রকাশ নয়; বরং তাঁদের গড়ে তোলা পুরো পারিবারিক জগতের ওপর আঘাত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















