চীন ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রাচীন সভ্যতার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র অনুসন্ধানে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আমেরিকায় মাঠপর্যায়ের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা শুরু করতে যাচ্ছে চীন। এ গবেষণায় প্রাচীন চীনা সভ্যতা ও আমেরিকার আদিবাসী সভ্যতাগুলোর মধ্যে কোনো ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
পেরুর সুপে এলাকায় দুই দেশের জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্প্রতি একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় চীনা প্রত্নতাত্ত্বিকরা পেরুর গবেষকদের সঙ্গে কারাল প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চলে কাজ করবেন। এই অঞ্চলেই আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিত নগরকেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া গেছে।
কারাল ঘিরে শুরু হবে অনুসন্ধান
যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক দল প্রথম পর্যায়ে চানকাই-হুয়ারাল ও সুপে নদীর অববাহিকায় মাঠ জরিপ চালাবে। পাশাপাশি প্রাচীন নগরসভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত কারালের পবিত্র নগরী এবং উপকূলীয় বসতি আসপেরোতেও গবেষণা চালানো হবে।

কারাল সভ্যতা প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগের বলে ধারণা করা হয়। ফলে প্রাচীন আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সভ্যতার সঙ্গে বিশ্বের অন্য প্রাচীন সভ্যতাগুলোর সম্ভাব্য যোগাযোগের প্রশ্নটি গবেষকদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয়।
আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার হবে
চীনা সামাজিক বিজ্ঞান একাডেমির প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের গবেষক চিয়া শিয়াওবিংয়ের নেতৃত্বে চীনা প্রতিনিধিদল সুপেতে চুক্তি সম্পাদনের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। তিনি জানান, সহযোগিতার আওতায় মাঠ জরিপ ও খননকাজের পাশাপাশি আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং গবেষকদের প্রশিক্ষণও থাকবে।
চীনের জন্য এটি দক্ষিণ আমেরিকায় প্রথম মাঠপর্যায়ের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকল্প। গবেষণার মাধ্যমে প্রাচীন চীন ও আমেরিকার আদিবাসী সভ্যতার মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে গবেষকদের।
চূড়ান্ত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত দুই অঞ্চলের প্রাচীন সভ্যতার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের বিষয়টি অবশ্যই গবেষণার প্রশ্ন হিসেবেই থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















