বিয়ের পর রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করা প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল সন্তানদের নিয়ে আবার যুক্তরাজ্যে ফিরেছেন। বুধবার দুপুরের কিছু আগে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে তারা বার্মিংহাম বিমানবন্দরে পৌঁছান বলে জানা গেছে।
ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্সের সঙ্গে তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটও রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের বেরিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশি নিরাপত্তার উপস্থিতি চোখে পড়েনি বলে জানা গেছে।
লন্ডনের বাইরে নতুন ঠিকানা
গত সপ্তাহেই খবর প্রকাশিত হয়েছিল, আগস্ট মাসে যুক্তরাজ্যে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন হ্যারি ও মেগান। এবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে তারা রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে ফিরছেন না। বরং কর্মরত নন—এমন রাজপরিবারের সদস্য হিসেবেই যুক্তরাজ্যে থাকবেন। ধারণা করা হচ্ছে, লন্ডনের বাইরে কটসওল্ডস অঞ্চলের একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে পরিবারটি বসবাস করবে।
আর্চি ও লিলিবেটকে ইতোমধ্যে একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা।

সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে এলেন দুই কুকুর
পরিবারের পোষা প্রাণীদের মধ্যেও যুক্তরাজ্যে আসার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হ্যারি ও মেগানের দুই কুকুর মিয়া ও পুলাকে তাদের সঙ্গে আনা হয়েছে। তবে দম্পতির উদ্ধার করা মুরগিগুলো ক্যালিফোর্নিয়াতেই থেকে যাচ্ছে।
মেগানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্রকাশনায় এসব মুরগিকে নিয়মিত দেখা গেছে। তাদের নিয়ে একটি ধারাবাহিক অনুষ্ঠানেও কিছু দৃশ্য ছিল।
২০২০ সালে যুক্তরাজ্য ছাড়ার পর বড় প্রত্যাবর্তন
২০২০ সালের শুরুতে হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। একই বছরের মার্চে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
চলতি মাসের শুরুতেই রাজা তৃতীয় চার্লসকে তাদের যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। এ বছরের জুলাইয়ে হাইগ্রোভে রাজার সঙ্গে হ্যারি ও মেগানের দেখা হয়েছিল। তবে সে সময় তাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে।
২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর ওই সফরের আগে পর্যন্ত হ্যারি ও মেগান একসঙ্গে যুক্তরাজ্যে আসেননি। তাদের পরিকল্পনার বিষয়ে ওয়েলসের যুবরাজ উইলিয়াম ও রাজপরিবারের অন্য সদস্যদেরও জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন
যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পর হ্যারি, মেগান ও তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সময় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার মাত্রা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আইনি চ্যালেঞ্জে হ্যারি হাইকোর্টে হেরে যান।
রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য না থাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর তার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এবার পরিবারটি যুক্তরাজ্যে বসবাস করলে তাদের জন্য কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং সেই ব্যয়ের দায়িত্ব কে নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হ্যারি অতীতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে আসতে দ্বিধার কথা জানিয়েছিলেন। ফলে তাদের এবারের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আইনি লড়াইও চলছে
এর মধ্যেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে করা একটি মামলায় হ্যারি ও আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি গত মাসে হাইকোর্টে পরাজিত হয়েছেন। সংবাদপত্রের প্রকাশকের বিরুদ্ধে করা ওই মামলায় তাদের বিপুল পরিমাণ আইনি ব্যয়ের মুখোমুখি হওয়ার কথাও জানা গেছে।
যুক্তরাজ্যে ফিরে হ্যারি-মেগানের নতুন জীবন তাই শুধু পারিবারিক পরিবর্তনের বিষয় নয়; রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জনজীবন নিয়েও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের যুক্তরাজ্যে প্রত্যাবর্তন নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—তারা কতটা স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকবেন এবং রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোন দিকে এগোবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















