জেরুজালেমের পুরোনো শহরে এক ফরাসি সন্ন্যাসিনীর ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ইহুদি ব্যক্তিকে মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে খালাস দিয়েছেন ইসরায়েলের একটি আদালত। এ হামলার দৃশ্য সড়কের নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল এবং তা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
হামলার ঘটনায় আদালতের রায়
জেরুজালেম ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জানিয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী ইয়োনা শ্রাইবার গত এপ্রিল মাসে পূর্ব জেরুজালেমের পুরোনো শহরে ওই সন্ন্যাসিনীকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং পরে লাথি মারেন। আদালতের মতে, হামলার সময় শ্রাইবার মানসিক বিকারের একটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ফলে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে অপরাধগতভাবে দায়ী করা যায় না।
আদালত তাকে খালাস দেওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ছয় বছরের জন্য একটি মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
শ্রাইবারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ থেকে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে জেলা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার মতো মানসিক সক্ষমতাও তার ছিল না। পরে রাষ্ট্রপক্ষও বিশেষজ্ঞের মতামত মেনে তাকে খালাস দিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করে।
মাথায় আঘাত পান সন্ন্যাসিনী
হামলার সময় সন্ন্যাসিনীটি পাথরের একটি স্থাপনার ওপর মাথায় আঘাত পান। তার মুখ ও পায়ে কালশিটে পড়ে।
ঘটনার নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশের পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে জেরুজালেমের পুরোনো শহরে খ্রিস্টান ধর্মযাজক ও তীর্থযাত্রীদের হয়রানির ঘটনা বাড়তে থাকায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।
হামলার সময় ফরাসি কনস্যুলেট তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে আগ্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছিল। যে প্রতিষ্ঠানে ওই সন্ন্যাসিনী গবেষণা করেন, তার পরিচালক ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে আখ্যা দেন।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও নিন্দা
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার নিন্দা করে। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা পারস্পরিক সম্মান, সহাবস্থান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মূল্যবোধের সম্পূর্ণ বিপরীত।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনার অধিকার রক্ষা এবং জেরুজালেমকে এমন একটি শহর হিসেবে বজায় রাখার বিষয়ে ইসরায়েল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে প্রত্যেক সম্প্রদায় নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস ও ধর্ম পালন করতে পারে।
খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হয়রানি নিয়ে উদ্বেগ
সন্ন্যাসিনীর ওপর এ ধরনের শারীরিক হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও জেরুজালেমের পুরোনো শহরে গত কয়েক বছরে খ্রিস্টান ধর্মীয় পোশাক বা প্রতীক বহনকারীদের লক্ষ্য করে থুতু নিক্ষেপ ও আক্রমণাত্মক আচরণের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন গির্জার সম্পত্তিতে ভাঙচুর এবং বসতি স্থাপনকারীদের দখল নিয়ে বিরোধও তৈরি হয়েছে। গির্জার নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, পবিত্র স্থানগুলোর মালিকানা ও দায়িত্বসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে।
জেরুজালেমভিত্তিক একটি আন্তধর্মীয় সম্পর্ক উন্নয়নকারী সংস্থার ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে খ্রিস্টান ধর্মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছিল। প্রতিবেদনে এর পেছনে সমাজে ক্রমবর্ধমান বিভাজন এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক প্রবণতাকে দায়ী করা হয়।
জেরুজালেমের পুরোনো শহরে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় পোশাক পরা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এই রায় সেই বিতর্ককেই আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















