ত্বকের যত্নে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত উপাদানগুলোর একটি হলো এক্সোসোম। কোষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগে ভূমিকা রাখা এই ক্ষুদ্র বহিঃকোষীয় থলি বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে ত্বকের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে সৌন্দর্যজগতে এর প্রতি আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।
এক্সোসোম কেন এত আলোচিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্সোসোমকে শুধু একটি সাধারণ প্রসাধনী উপাদান হিসেবে দেখলে বিষয়টি পুরোপুরি বোঝা যায় না। এটি কোষগুলোর মধ্যে সংকেত আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখে। ফলে ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তন, পুনর্গঠন ও মেরামতের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ত্বকের পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনকেন্দ্রিক সৌন্দর্যচর্চার বিস্তারের সঙ্গে তাই এক্সোসোমের ব্যবহারও বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এখনই এটিকে রেটিনয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা পেপটাইডের মতো প্রতিষ্ঠিত মৌলিক উপাদানের সমপর্যায়ে রাখছেন না। এর কার্যকারিতা নিয়ে আরও শক্তিশালী গবেষণা প্রয়োজন।
নতুন প্রজন্মের প্রসাধনীতে এক্সোসোম
সাম্প্রতিক এক্সোসোমযুক্ত প্রসাধনীগুলোতে এক্সোসোমের পাশাপাশি পেপটাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, উদ্ভিদজাত নির্যাস ও অন্যান্য পরীক্ষিত উপাদান যুক্ত করা হচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে শুধু তাত্ত্বিকভাবে ত্বকের কোষে প্রভাব ফেলা নয়, বরং ব্যবহারকারীর চোখে পড়ার মতো বাস্তব ফল পাওয়া।
চোখের চারপাশের জন্য সমৃদ্ধ ক্রিম
একটি নতুন চোখের ক্রিমে পেপটাইড, কোজিক অ্যাসিড, নিয়াসিনামাইড, বেরিজাতীয় নির্যাস, অ্যালানটয়িন ও হায়ালুরোনেটের মতো উপাদান রয়েছে। এর ঘন, মলমের মতো গঠন বিশেষ করে শুষ্ক ও পরিণত ত্বকের জন্য উপযোগী বলে পরীক্ষায় মত পাওয়া গেছে।
পেপটাইডগুলোর একটি বিশেষ ধরনের গঠন সূক্ষ্ম রেখা শিথিল করতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে কিছু পেপটাইড চোখের নিচের ত্বকে ক্ষুদ্র রক্তসঞ্চালন উন্নত করে কালচে ভাব কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এক্সো-পিডিআরএন সিরাম
আরেকটি নতুন সিরামের ঘন জেলজাতীয় গঠন ত্বকে সহজেই মিশে যায়। এটি ত্বকে দ্রুত আর্দ্রতা যোগ করে এবং ব্যবহারের পর ত্বককে কিছুটা টানটান ও পূর্ণ দেখাতে পারে।
পেপটাইড ও হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের সমন্বয় এটির অন্যতম আকর্ষণ। পেপটাইড ত্বককে শান্ত ও কোমল রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি আর্দ্রতার কারণে ত্বকের উজ্জ্বল ও সতেজ চেহারা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ফলজাত এক্সোসোমযুক্ত ময়েশ্চারাইজার
আরেক ধরনের জেল ময়েশ্চারাইজারে পেঁপে, আপেল ও কমলাজাতীয় ফল থেকে পাওয়া উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ফলজাত এক্সোসোম ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সহায়তা করার লক্ষ্যেই যুক্ত করা হয়েছে।
এর সঙ্গে রয়েছে গোটু কোলা বা টাইগার গ্রাস, যা ত্বক শান্ত রাখার জন্য পরিচিত। তুষার মাশরুমের নির্যাসও ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। অ্যালোভেরা, গ্লিসারিন, বিটা-গ্লুকান ও ভিটামিন-জাতীয় উপাদানের উপস্থিতি এটিকে আর্দ্রতাকেন্দ্রিক ত্বকচর্চার একটি সমন্বিত পণ্য হিসেবে তুলে ধরে।
সামনে আরও বড় হয়ে উঠতে পারে
এক্সোসোম নিয়ে আগ্রহ দ্রুত বাড়লেও এটিকে এখনো ত্বকচর্চার চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে দেখার সময় আসেনি। তবে কোষীয় যোগাযোগ, ত্বকের পুনর্গঠন এবং বার্ধক্যজনিত পরিবর্তন মোকাবিলায় এর সম্ভাবনা সৌন্দর্যশিল্পে নতুন একটি দিক খুলে দিয়েছে।
ভবিষ্যতে আরও গবেষণা ও উন্নত ফর্মুলেশনের মাধ্যমে এক্সোসোমযুক্ত প্রসাধনী কতটা কার্যকর হয়ে ওঠে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















