রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় চন্দ্র দাস ও ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বাবাকে একাধিকবার ডেকেও সাড়া মেলেনি
রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর মাসুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের দুজনকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

ডিবি কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক দিনে বিনয় চন্দ্র দাসকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি হাজির হননি। পরে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বিনয়কে মূলত জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই আনা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে কী তথ্য পাওয়া যায় এবং তদন্তে তিনি কীভাবে সহযোগিতা করতে পারেন, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাংবাদিককে হয়রানির অভিযোগ ভাইয়ের বিরুদ্ধে
সিদ্ধার্থের ভাই পার্থ দাসকে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে সনাতন চক্রবর্তী জানান, হত্যাকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া এক সাংবাদিককে তিনি হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ওই সাংবাদিক মৌখিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে পার্থের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২২ আগস্ট উদ্ধার চারজনের মরদেহ
রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগমী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশের মরদেহ গত ২২ আগস্ট রাতে উদ্ধার করা হয়।
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বয়স ছিল ৬৫ বছর। তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতার বয়স ৫০, মেয়ে আগমীর ২৫ এবং ছেলে আয়ুশের বয়স ১২ বছর।
তদন্তের দায়িত্ব ডিবিতে
চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর প্রথমে রংপুরের কোতোয়ালি থানায় তদন্ত চলছিল। পরে মামলাটির তদন্তভার রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোতোয়ালি থানা থেকে ডিবির কাছে তদন্তের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যসহ মামলার অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছে ডিবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















