হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর ভারতীয় চোরাকারবারিদের গুলিতে সোহাগ মিয়া (১৭) নামে এক বাংলাদেশি কিশোর নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বাংলাদেশে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫৫ ব্যাটালিয়ন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।
সীমান্ত পেরিয়ে এক কিলোমিটার ভেতরে
বিজিবি জানায়, রোববার দুপুর ১টার দিকে চুনারুঘাটের চিমটিবিল সীমান্ত এলাকার শূন্যরেখা পার হয়ে একদল বাংলাদেশি ভারতের প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল গরু নিয়ে আসা।
পরে সেখানে ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ভারতীয় চোরাকারবারিরা প্যালেট গান দিয়ে গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করেছে বিজিবি।
গুলিতে সোহাগ গুরুতর আহত হন। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। পরে চুনারুঘাট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের বিরুদ্ধে চোরাচালানের অভিযোগ
বিজিবি জানিয়েছে, নিহত সোহাগের পরিবারের কয়েকজন সদস্য চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে বলে দাবি করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
ঘটনার পর চিমটিবিল বর্ডার আউটপোস্টের (বিওপি) একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিষয়টি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের নজরে আনা হলে তারা জানায়, তাদের এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
সীমান্তে নজরদারি জোরদার
ঘটনাটি নিয়ে চিমটিবিল বিওপি পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক আহ্বান করেছে বিজিবি। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















