গুরুতর অসুস্থতা বা প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করা শিশুদের বাবা-মাকে বেতনসহ ছুটি দেওয়ার আইনি অধিকার চালুর দাবি উঠেছে। ইংল্যান্ডের শিশু কমিশনার ডেম র্যাচেল ডি সুজা বলেছেন, সন্তানের চিকিৎসা ও পরিচর্যার সময় কোনো বাবা-মাকেই যেন চাকরি হারানোর ভয় কিংবা আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার চাপের মধ্যে পড়তে না হয়।
৯০ শতাংশ বেতনে ১২ সপ্তাহের ছুটি
শিশু কমিশনার সরকারের কাছে এমন একটি আইনি ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন, যার আওতায় গুরুতর অসুস্থ শিশুর বাবা-মা বছরে সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত ছুটি নিতে পারবেন এবং ওই সময়ে স্বাভাবিক বেতনের ৯০ শতাংশ পাবেন।
তার মতে, কোনো পরিবারে শিশু গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা ও তীব্র মানসিক চাপ।

তিনি বলেন, বাবা-মাকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলা উচিত নয় যেখানে গুরুতর অসুস্থ সন্তানের পাশে থাকা এবং চাকরি ধরে রাখার মধ্যে একটি বেছে নিতে হয়।
চাকরিতে ফেরার অধিকারও চান
দীর্ঘ সময় ছুটিতে থাকার পর বাবা-মায়ের আগের কর্মজীবনে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষেও মত দিয়েছেন শিশু কমিশনার। বিশেষ করে যেসব শিশুর জটিল বা পরিবর্তনশীল পরিচর্যার প্রয়োজন রয়েছে, তাদের পরিবার যাতে সন্তানের প্রয়োজনীয় যত্ন দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ধরে রাখতে পারে, সে জন্য এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
বর্তমানে বছরে পাঁচ দিনের বিনা বেতনের পরিচর্যাকারী ছুটি রয়েছে। সেটি বাড়িয়ে ১০ দিন করার পাশাপাশি পরিচর্যাকারীদের জন্য বেতনসহ ছুটির ব্যবস্থাও চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ছয় বছরের হিউয়ের মৃত্যুর পর আন্দোলন
এই দাবির পেছনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন ছয় বছর বয়সে ক্যানসারে মারা যাওয়া হিউ মেনাই-ডেভিসের বাবা-মা ফ্রান্সেস ও সেরি মেনাই-ডেভিস। ২০২১ সালে হিউ মারা যাওয়ার পর থেকেই তারা কর্মসংস্থান আইনে পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন।
তাদের প্রস্তাব হলো, কোনো শিশুর গুরুতর শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা দেখা দিলে তার বাবা-মায়ের অন্তত তিন মাসের বেতন নিশ্চিত করার জন্য নিয়োগদাতাদের ওপর আইনি বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে।
সেরি মেনাই-ডেভিস বলেন, হাসপাতালে সন্তানের শয্যার পাশে আইনগতভাবে থাকার জন্য বাবা-মায়ের নির্দিষ্ট কোনো অধিকার নেই। অথচ একজন বাবা বা মায়ের সন্তান হাসপাতালে থাকলে তার জায়গা যে সন্তানের পাশেই, সেটিই স্বাভাবিক।
সরকারের পরামর্শ গ্রহণ চলছে
ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে অসুস্থ শিশুদের পরিবার এবং বিনা বেতনে পরিচর্যাকারীদের আর্থিক সহায়তা কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে সরকারের পরামর্শ গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। এই বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময়সীমা সোমবার শেষ হওয়ার কথা।
কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎবিষয়ক মন্ত্রী কেট ডিয়ারডেন বলেছেন, গুরুতর শৈশব অসুস্থতা একটি পরিবারের জন্য হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতার কথা শুনে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং গুরুতর অসুস্থতার মুখোমুখি পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত অধিকার কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা দ্রুত বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















