জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নে যমুনার শাখা আলাই নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ঘরবাড়ি, রাস্তা ও দোকান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। চলতি বছরের জুন থেকে সাদিপাটি বাজার থেকে পচাবহলা এলাকা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক। অনেকেই রাত কাটাচ্ছেন নির্ঘুম অবস্থায়।
ভাঙনে ঘর হারিয়ে দিশেহারা মানুষ
সাদিপাটি বাজার এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য লালু মোল্লার ঘরের অর্ধেক ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রাত তিনটার দিকে হঠাৎ ঘরের একটি বড় অংশ নদীতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের কিছু মালামাল উদ্ধার করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত ভাঙনের কবল থেকে ঘরটি রক্ষা করা যায়নি।
এখন ভাঙা ঘরের অবশিষ্ট অংশেই থাকতে হচ্ছে তাকে। সেটিও যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় দিন কাটছে তার। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

ঝুঁকিতে বসতবাড়ি, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে বহু বসতবাড়ি, রাস্তা ও দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও অন্তত ৫০০ বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ফসলি জমি এখন ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
গত কয়েক বছরের ভাঙনে সাদিপাটি বাজার থেকে সাদিপাটি পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা নদীতে চলে গেছে। সাদিপাটি বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদের উত্তর পাশের রাস্তারও কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। এবার মসজিদের কাছেও ভাঙন পৌঁছে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ফুরকান মোল্লা জানান, ভাঙনের কারণে মসজিদের পিলার পর্যন্ত বেরিয়ে এসেছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা
নদীভাঙনে সাদিপাটি থেকে পচাবহলা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের অনেককে বাড়ির উঠান ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে স্কুলগামী শিশুদেরও দুর্ভোগ বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, সড়ক ভেঙে যাওয়ায় মানুষ যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে পারছেন না। অন্যদিকে সাহারা খাতুন জানান, রাস্তা না থাকায় অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালেও নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগব্যবস্থার এই সংকট সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলছে বলে জানান তিনি।

আলাই নদীতে জরুরি কাজ, স্থায়ী বাঁধের উদ্যোগ
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের যমুনা নদী থেকে আলাই নদীর উৎপত্তি। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার। প্রতি বর্ষায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীটির বিভিন্ন অংশে ভাঙন তীব্র হয়। ইসলামপুরের পচাবহলা এবং মেলান্দহের সাদিপাটি ও বল্লভপুর এলাকায় নিয়মিত ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
সাদিপাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেও এবার ভাঙন দেখা দিলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান জানিয়েছেন, আলাই নদীতে জরুরি কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সাদিপাটি থেকে পচাবহলা পর্যন্ত ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হলে ওই এলাকায় নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
মেলান্দহের আলাই নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি, রাস্তা ও দোকান বিলীন হচ্ছে। ঝুঁকিতে রয়েছে ৫০০ বসতবাড়ি, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















