০২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
সম্পদের উত্তরাধিকার নয়, উদ্দেশ্যের উত্তরাধিকারই পরিবারকে টিকিয়ে রাখে নেপাল বিপর্যয়ের আগে চীনের কাছে আগাম সতর্কতার তথ্য চেয়েছিল, মিলেনি পর্যাপ্ত তথ্য নেপালে দুই দশকেও খোঁজ মেলেনি ২,৫০১ নিখোঁজের, বিচারের অপেক্ষায় স্বজনরা অটোরিকশায় সোলার চার্জিং: বড় সম্ভাবনার পথে যে ৭ চ্যালেঞ্জ আরও বোয়িং বিমান কিনবে বাংলাদেশ, জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর পোলাওয়ের চালের দামে আগুন, ১৩৫ থেকে বেড়ে ২৩০ টাকা কেজি নদীভাঙনে জামালপুরে বিলীন ঘরবাড়ি-রাস্তা, ঝুঁকিতে ৫০০ পরিবার পাবনায় রেকর্ড পেঁয়াজ উৎপাদনেও স্বস্তি নেই, বর্ষায় পচে নষ্ট ৩০ শতাংশ কৃষিঋণের ১ হাজার কোটি টাকার তহবিলের বড় অংশ অন্য খাতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে অনিয়ম পরপর দুই দিন ডেঙ্গু রোগীর রেকর্ড, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২ হাজার ৪০২ জন

কৃষিঋণের ১ হাজার কোটি টাকার তহবিলের বড় অংশ অন্য খাতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে অনিয়ম

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কম সুদে কৃষিঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের বড় অংশ কৃষি খাতে বিতরণ না করে অন্য খাতে উচ্চ সুদে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এ অনিয়ম ধরা পড়েছে। ১ হাজার কোটি টাকার তহবিলের বিপরীতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ স্থিতি রয়েছে ৩৫০ কোটি টাকারও কম।

এ ঘটনায় তহবিলের বাকি অর্থ কোথায় এবং কোন খাতে বিতরণ করা হয়েছে, তা জানতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তহবিল ব্যবহারে শর্ত ভঙ্গ

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কৃষিঋণ দিতে দীর্ঘদিন ধরে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে অর্থ দিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে এ অর্থ দেয়। পর্যায়ক্রমে তহবিলের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০২১ সালে তা ১ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই অর্থ শুধু কৃষি ও পল্লীঋণ হিসেবে বিতরণ করার কথা। ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে কিস্তি আদায়ের পর সেই অর্থও আবার কৃষি খাতে পুনর্বিনিয়োগ করার নিয়ম রয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে কৃষি খাতে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি মোট তহবিলের তুলনায় কম হওয়ার কথা নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা ২৬,০০০ কোটি টাকা, ৬ মাসের বোনাস পাচ্ছেন  কর্মকর্তারা | The Business Standard

তবে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকের ‘স্টেটমেন্ট অব অ্যাফেয়ার্স’ পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক দেখতে পায়, কৃষি ও পল্লীঋণের বকেয়া বা আউটস্ট্যান্ডিং ব্যালান্স ৩৫০ কোটি টাকার বেশি নয়।

কিস্তির অর্থও গেছে অন্য খাতে

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কৃষি ও পল্লীঋণ থেকে আদায় করা কিস্তির অর্থও পুনরায় কৃষি খাতে বিনিয়োগ করা হয়নি। বরং ওই অর্থ উচ্চ সুদে অন্য খাতে বিতরণ করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-৫ থেকে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে পাঠানো চিঠিতে ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রতিটি প্রান্তিকের ‘স্টেটমেন্ট অব অ্যাফেয়ার্স’ চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, যে খাতের জন্য প্রাক অর্থায়ন নেওয়া হবে, সেই খাতেই তা বিতরণ করতে হবে। এক খাতের নামে অর্থ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহারের সুযোগ নেই। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে করা চুক্তির শর্তভঙ্গ। শর্তভঙ্গের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত

কৃষি ও পল্লীঋণের বিপরীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছিল আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে করা ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকও তহবিলের মেয়াদ বাড়িয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে বড় নিয়োগ, আবেদন করুন দ্রুত

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে। ব্যাংকটি তপশিলি না হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত নিতে পারে না। আনসার সদস্যদের সঞ্চয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের দেওয়া তহবিলের ওপর নির্ভর করেই ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

দেশে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন প্রায় ৬১ লাখ। তাঁদের মধ্যে ৮ শতাংশ সুদে কৃষিঋণ বিতরণের কথা ছিল। তুলনামূলক কম সুযোগ-সুবিধা পাওয়া এসব সদস্যকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং কৃষির মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তায় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই তহবিলটি দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জেল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দুটি ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শচীন্দ্র নাথ সমাদ্দার জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কৃষিঋণের বিশেষ তহবিল অন্য খাতে ব্যবহারের অভিযোগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠির বিষয়টি এখন তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পদের উত্তরাধিকার নয়, উদ্দেশ্যের উত্তরাধিকারই পরিবারকে টিকিয়ে রাখে

কৃষিঋণের ১ হাজার কোটি টাকার তহবিলের বড় অংশ অন্য খাতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে অনিয়ম

০২:১৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কম সুদে কৃষিঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের বড় অংশ কৃষি খাতে বিতরণ না করে অন্য খাতে উচ্চ সুদে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এ অনিয়ম ধরা পড়েছে। ১ হাজার কোটি টাকার তহবিলের বিপরীতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ স্থিতি রয়েছে ৩৫০ কোটি টাকারও কম।

এ ঘটনায় তহবিলের বাকি অর্থ কোথায় এবং কোন খাতে বিতরণ করা হয়েছে, তা জানতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তহবিল ব্যবহারে শর্ত ভঙ্গ

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কৃষিঋণ দিতে দীর্ঘদিন ধরে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে অর্থ দিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে এ অর্থ দেয়। পর্যায়ক্রমে তহবিলের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০২১ সালে তা ১ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই অর্থ শুধু কৃষি ও পল্লীঋণ হিসেবে বিতরণ করার কথা। ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে কিস্তি আদায়ের পর সেই অর্থও আবার কৃষি খাতে পুনর্বিনিয়োগ করার নিয়ম রয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে কৃষি খাতে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি মোট তহবিলের তুলনায় কম হওয়ার কথা নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা ২৬,০০০ কোটি টাকা, ৬ মাসের বোনাস পাচ্ছেন  কর্মকর্তারা | The Business Standard

তবে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকের ‘স্টেটমেন্ট অব অ্যাফেয়ার্স’ পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক দেখতে পায়, কৃষি ও পল্লীঋণের বকেয়া বা আউটস্ট্যান্ডিং ব্যালান্স ৩৫০ কোটি টাকার বেশি নয়।

কিস্তির অর্থও গেছে অন্য খাতে

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কৃষি ও পল্লীঋণ থেকে আদায় করা কিস্তির অর্থও পুনরায় কৃষি খাতে বিনিয়োগ করা হয়নি। বরং ওই অর্থ উচ্চ সুদে অন্য খাতে বিতরণ করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-৫ থেকে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে পাঠানো চিঠিতে ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রতিটি প্রান্তিকের ‘স্টেটমেন্ট অব অ্যাফেয়ার্স’ চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, যে খাতের জন্য প্রাক অর্থায়ন নেওয়া হবে, সেই খাতেই তা বিতরণ করতে হবে। এক খাতের নামে অর্থ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহারের সুযোগ নেই। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে করা চুক্তির শর্তভঙ্গ। শর্তভঙ্গের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত

কৃষি ও পল্লীঋণের বিপরীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছিল আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে করা ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকও তহবিলের মেয়াদ বাড়িয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে বড় নিয়োগ, আবেদন করুন দ্রুত

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে। ব্যাংকটি তপশিলি না হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত নিতে পারে না। আনসার সদস্যদের সঞ্চয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের দেওয়া তহবিলের ওপর নির্ভর করেই ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

দেশে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন প্রায় ৬১ লাখ। তাঁদের মধ্যে ৮ শতাংশ সুদে কৃষিঋণ বিতরণের কথা ছিল। তুলনামূলক কম সুযোগ-সুবিধা পাওয়া এসব সদস্যকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং কৃষির মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তায় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই তহবিলটি দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জেল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দুটি ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শচীন্দ্র নাথ সমাদ্দার জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কৃষিঋণের বিশেষ তহবিল অন্য খাতে ব্যবহারের অভিযোগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠির বিষয়টি এখন তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছে।