দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। পরপর দুই দিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যায় নতুন রেকর্ড হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ৯৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ৯৯৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭ জনে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যায়ও নতুন রেকর্ড
নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোট রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২ হাজার ৪০২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরে একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর হিসাবে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে শুধু ঢাকা বিভাগেই নতুন করে ৪৪৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ বিভাগে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুও হয়েছে।
ঢাকার বাইরে বাড়ছে ডেঙ্গুর বিস্তার
কীটতত্ত্ববিদদের মতে, ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার বিস্তার এখন আর শুধু শহরকেন্দ্রিক নেই। নগরায়ণের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামাঞ্চলেও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ফলে রাজধানী ও অন্যান্য শহরের পাশাপাশি ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, গ্রামাঞ্চলেও এখন এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ বেড়েছে। তাঁর মতে, দুই-তিন দশক আগে ঢাকার যেসব এলাকায় নিয়মিত পানির সংকট দেখা দিত, সেসব এলাকায় মানুষ ড্রামসহ বিভিন্ন পাত্রে পানি জমিয়ে রাখতেন। এসব পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতো।
তিনি পুরান ঢাকা ও এলিফ্যান্ট রোডের উদাহরণ দিয়ে জানান, পানি সংরক্ষণের বিভিন্ন পাত্র একসময় এসব এলাকায় এডিস মশার প্রজননের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। বর্তমানে শহরের পাশাপাশি গ্রামেও বিভিন্ন প্রয়োজনে পানি জমিয়ে রাখার প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে এডিস মশার বিস্তারের সুযোগও বাড়ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















