উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে যাত্রীবাহী একটি ফেরি উল্টে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৮ জন। দুর্ঘটনার পর অধিকাংশ যাত্রীকে উদ্ধার করা গেলেও ডুবে যাওয়া ফেরিটির সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২৬৭ জন ছিলেন ফেরিতে
রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর সাইপ্রাসের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কিরেনিয়া থেকে তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করে ফেরিটি। এতে ২৫৯ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন।
উত্তর সাইপ্রাসের তুর্কি প্রশাসনের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানান, যাত্রা শুরুর কিছু সময় পর উত্তাল সমুদ্রে ফেরিটি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। পরে সেটি উল্টে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি ডুবে যায়।
উস্তেল জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ফেরিটির ক্যাপ্টেনসহ সাতজন ক্রু সদস্যকে আটক করা হয়েছে। কীভাবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঢেউয়ের আঘাতেই বিপদ
তুরস্কের গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি জানান, ফেরিটিতে পরপর দুটি বড় ঢেউ আঘাত হানে। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করার সময় দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত করলে ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এরপর সেটি উল্টে যায়।
উদ্ধার অভিযানে তুরস্কের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উত্তর সাইপ্রাসের নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল অংশ নিচ্ছে। ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর নৌযান পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের গ্রহণের জন্য সৈকতে অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়।
স্থানীয় নৌকার সহায়তায় বহু যাত্রী উদ্ধার
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় নৌকার মালিক মুস্তাফা কোচ তাঁর নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। তাঁর দাবি, তিনি প্রায় ৬৫ জনকে নিরাপদে তীরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন।
কোচ বলেন, সমুদ্র তখন বেশ উত্তাল ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ফেরিটির যাত্রা শুরু করা নিরাপদ ছিল না বলে তাঁর মনে হয়েছে। তিনি জানান, ফেরিটি শনিবার কিরেনিয়ায় এসেছিল এবং সেটির সামনের অংশে কিছু ক্ষতিও ছিল।

ডুবে গেছে ফেরি, খোঁজা হচ্ছে তথ্যসংগ্রাহক যন্ত্র
দুর্ঘটনার পর ফেরিটি পানিতে উল্টে থাকা অবস্থায় দেখা গেলেও রোববার সন্ধ্যায় সেটি পুরোপুরি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ফেরিটির তথ্যসংগ্রাহক যন্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।
ফেরিটি ছিল ৪০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার প্রশস্ত দ্রুতগতির যাত্রীবাহী জাহাজ। এটি তুরস্কের পতাকার অধীনে চলাচল করত। পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের স্বজনদের তথ্য দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হয়েছে। তবে ফেরিতে থাকা ব্যক্তিদের জাতীয়তা এবং আহতদের সর্বশেষ অবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়।
কোনো অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা
উত্তর সাইপ্রাসের প্রধানমন্ত্রী উস্তেল বলেছেন, এই মুহূর্তে মানুষের জীবন রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনি দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ঘোষণা দিয়ে বলেন, সামান্যতম অবহেলাও তদন্তে বেরিয়ে আসবে এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উত্তর সাইপ্রাসের তুর্কি প্রশাসন আন্তর্জাতিকভাবে মূলত তুরস্কের কাছেই স্বীকৃত। সাইপ্রাস দ্বীপটি ১৯৭৪ সাল থেকে বিভক্ত; দ্বীপটির উত্তরাংশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে এই প্রশাসন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















