ইংল্যান্ডে শিক্ষকতা পেশা থেকে ক্রমেই বেশি মানুষ সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে শিক্ষকরা পেশা ছাড়ার কথা ভাবছেন বলে নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে। পরিস্থিতিকে ‘অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা।
প্রায় অর্ধেক শিক্ষক পেশা ছাড়ার কথা ভাবছেন
ইংল্যান্ডের ৯০০-এর বেশি শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও বিশেষ শিক্ষাগত চাহিদা সমন্বয়কারীর ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, কর্মরত শিক্ষকদের প্রায় অর্ধেক আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষকতা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। প্রতি ১০ জনের একজন জানিয়েছেন, তারা এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পেশা ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া তিন-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ জানিয়েছেন, কর্মক্ষেত্রে তারা প্রায়ই বা নিয়মিতভাবে প্রচণ্ড মানসিক অবসাদে ভুগেছেন। খাতা দেখা, পাঠ প্রস্তুত করা এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরের নানা প্রশাসনিক কাজের অতিরিক্ত চাপ তাদের ওপর বাড়তি বোঝা তৈরি করছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
বেতন ও অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে দাবি
লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের শিক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র ক্যারোলিন ভোডেন নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে সরকারকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দলের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া, বিদ্যালয়ের নিজস্ব বাজেট থেকে বেতন বৃদ্ধির অর্থ জোগাড়ের চাপ কমানো এবং অতিরিক্ত কাজের সময়ের ওপর যুক্তিসংগত সীমা নির্ধারণ।
ইংল্যান্ডে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষকদের বেতন ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার কথা রয়েছে। পরের বছর আরও ৩ শতাংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমানে এই বেতন বৃদ্ধির অর্ধেক অর্থ বিদ্যালয়ের বিদ্যমান বাজেট থেকেই বহন করতে হচ্ছে।
দলটি শিক্ষকদের আইননির্ধারিত কর্মঘণ্টা যথাযথভাবে কার্যকর করা এবং সব বিদ্যালয়ে নমনীয় কর্মব্যবস্থার নীতি চালুরও দাবি জানিয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে তারা নির্দিষ্ট কোনো উৎসের কথা জানায়নি।
সরকার বলছে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে
শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, গত বছর ২০১০ সালের পর শিক্ষকদের পেশা ছাড়ার হার সবচেয়ে কম পর্যায়ে ছিল। একই সঙ্গে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষক আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরে এসেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে সরকার স্বীকার করেছে, শিক্ষকদের ধরে রাখতে আরও কাজ করা প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, দুই বছরে শিক্ষকদের বেতন প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন ছুটির বেতন উন্নত করতে বিদ্যালয়গুলোকে অর্থ দেওয়া এবং নমনীয় কর্মব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রিত কর্মভার চালুর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের সমস্যা শিক্ষক ধরে রাখা
শিক্ষক ধরে রাখা নিয়ে সংকট অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালেও এক জরিপে প্রতি ১০ জনের মধ্যে চারজন শিক্ষক অতিরিক্ত কাজের চাপ ও কঠোর জবাবদিহির কারণে পেশা ছাড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। নতুন জরিপেও একই ধরনের উদ্বেগ আবার সামনে এসেছে।
জাতীয় শিক্ষা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ড্যানিয়েল কেবেডি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময়ের ব্যয়সংকোচন ও বিদ্যালয়গুলোতে ধারাবাহিক অর্থসংকটের কারণে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা চরম চাপে রয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষকে বিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও ধরে রাখার সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষকরা যদি অতিরিক্ত কাজের চাপে পেশা ছাড়তে থাকেন, তাহলে শুধু বিদ্যালয়ের জনবল সংকটই বাড়বে না, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান ও ধারাবাহিকতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষক ধরে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।




















