নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার গারদে থাকা ১০ আসামির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাঁদের আজমেরী ওসমানের পক্ষে বক্তব্য দিতে এবং কয়েকজনকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। গ্রেপ্তারের পর থানার গারদে থাকা আসামিদের হাতে মোবাইল ফোন কীভাবে গেল, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
গারদে মোবাইল ফোন, উঠছে প্রশ্ন
গতকাল রোববার রাতে পলাতক শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। এতে ফতুল্লা থানার গারদে থাকা ১০ ব্যক্তিকে একসঙ্গে দেখা যায়। তাঁদের কয়েকজন ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন।
গ্রেপ্তার হয়ে থানার গারদে থাকা অবস্থায় আসামিদের হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি ও এনসিপির নেতা-কর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলছেন দল দুটির নেতা-কর্মীরা।

শনিবার মধ্যরাতে গ্রেপ্তার ১০ জন
এর আগে শনিবার মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে ফতুল্লা মডেল থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবরার আহম্মেদ (১৮), ইয়াসিন (১৮), রাব্বি (২০), শিমুল (২০), ফেরদৌস (১৮), পলক (১৮), আবু বকর (১৮), তানভীর (১৮), লিমন (১৮) ও নয়ন (১৮)।
পুলিশের ভাষ্য, সাইনবোর্ড এলাকায় সরকারবিরোধী মিছিল করে নাশকতার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ভূইগড় ও সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশের একাধিক দল অবস্থান নেয়। মধ্যরাতে মিছিলের জন্য কয়েকজনকে জড়ো হতে দেখে পুলিশ ধাওয়া দিলে অধিকাংশ পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
মামলার পর আদালতে পাঠানো হয়

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রোববার বিকেলে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয় এবং আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
তবে থানার গারদে বসে ভিডিও ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে পুলিশ গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছে। কখন বা কীভাবে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানার সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে থানার হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের হাতে মোবাইল ফোন যাওয়ার বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা জানতে পুলিশের তদন্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















