০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’ আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক থানা পোড়ানোর বক্তব্য ভাইরাল: হবিগঞ্জে সমন্বয়ক মাহাদীসহ আটক ৩ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, শোকজ ছাড়াই রাজশাহীতে কলেজশিক্ষক বরখাস্ত নিবন্ধনের আওতায় আসছে হকাররা, ডিএসসিসিকে দিতে হবে মাসে ৩ হাজার টাকা নিমরা খানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিশ্চিত করলেন জেইন হামিদ, ফিজা আলীর ক্ষোভ ওড়িশার গ্রামীণ হাসপাতালে মার্কিন পর্যটকের বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিস্মিত হয়ে প্রশংসা ভারতের স্বাস্থ্যসেবার ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক, চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি কাল বিজেপিতে বড় রদবদল: স্মৃতি ইরানি সাধারণ সম্পাদক, রাম মাধব সহসভাপতি ফিলিপাইনের ঐতিহ্যের স্বাদ: মামন ও এনসাইমাদায় তিন বেকশপের গল্প

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৮)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪
  • 163

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


নীলের বাণিজ্যে আধিপত্য: স্পেন, ফ্রান্স ও বৃটেন
বিশ্ব বাণিজ্যের পণ্য দ্রব্য রূপে নীলের ইতিহাস এখনও অলিখিত।১০ সেকালে বিশ্বব্যাপী নীলের বাণিজ্যের সামগ্রিক অবয়ব কেমন ছিল তা নির্ণয় করা দুরূহ। প্রাচীনকাল থেকেই ভারত রফতানীকারী দেশ, তার রফতানী বিশেষভাবে ছিল ইউরোপে। সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত ইউরোপের প্রধান সরবরাহকারী ছিল ভারত। গ্রীষ্মপ্রধান আমেরিকায় ওপনিবেশিক উৎপাদন ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হলে এই দীর্ঘ প্রতিষ্ঠিত সম্পর্কের কথা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে। উত্তর ভারতের নীল ব্যবসা (প্রধানতঃ গুজরাট, সিন্ধু ও আগ্রা) যে ইউরোপে তার বাজার হারাতে থাকে তার আংশিক কারণ হল ভারতে উৎপন্ন নীলের সুনাম নষ্ট হয়ে যায়।
* ইউরোপ প্রধানতঃ তার সম্প্রসারিত বস্ত্রশিল্পের জন্য ১৬৫০ খ্রীঃ থেকে ১৭৮০ অবধি তাদের বিরাট নীলের চালান আনতে শুরু করে আমেরিকা থেকে। আমেরিকান অঞ্চলের মধ্যে এ ব্যাপারে আগ্রহী ছিল হাইতি (তখন পরিচিত ছিল সেন্ট ডোমিনিক হিসাবে)। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে আমেরিকা ইউরোপে ১০ লাখ কেজি নীল রফতানি করেছিল। সাউথ ক্যারোলিনা ও গুয়াতেমালা রফতানি করেছিল এর অর্দ্ধেক পরিমাণ। এ ছাড়াও রফতানি করেছিল ভেনজুয়েলা ও ব্রাজিল আর জ্যামেইকার মত ছোটো রফতানিকারীরা।”
১৮০০ শতাব্দীর দিকে নীলের বিশ্ববাজারে একাধিক্রমে তিনটি বড় বড় ঝাপটা লাগে। এর ফলে ইউরোপে নীলের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী তিনটি বড় বড় শক্তির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। মধ্য আমেরিকার নীলের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায় স্পেন। ক্যারেবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে আনা নীলের উপর অধিপত্য হারায় ফ্রান্স। তেমনি আবার উত্তর আমেরিকা থেকে আনা নীলের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায় বৃটেন। এই সব উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নীলের বাণিজ্যে প্রভাবশালী শক্তি হিসাবে অভ্যুদয় ঘটে বৃটেনের। বাণিজ্যিকভাবে নীল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন একটি অঞ্চল- বঙ্গদেশের আবির্ভাবের ফলে বৃটেন অকস্মাৎ নীল উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি বৃহৎ শক্তি হিসাবে পরিগণিত হয়।
মানচিত্র। ১৮০০ সালের দিকে নীলের জগত
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীনতার ঘোষণায় সুকর্ণ: ‘একবার মুক্ত, চিরকাল মুক্ত’

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৮)

১২:০০:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


নীলের বাণিজ্যে আধিপত্য: স্পেন, ফ্রান্স ও বৃটেন
বিশ্ব বাণিজ্যের পণ্য দ্রব্য রূপে নীলের ইতিহাস এখনও অলিখিত।১০ সেকালে বিশ্বব্যাপী নীলের বাণিজ্যের সামগ্রিক অবয়ব কেমন ছিল তা নির্ণয় করা দুরূহ। প্রাচীনকাল থেকেই ভারত রফতানীকারী দেশ, তার রফতানী বিশেষভাবে ছিল ইউরোপে। সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত ইউরোপের প্রধান সরবরাহকারী ছিল ভারত। গ্রীষ্মপ্রধান আমেরিকায় ওপনিবেশিক উৎপাদন ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হলে এই দীর্ঘ প্রতিষ্ঠিত সম্পর্কের কথা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে। উত্তর ভারতের নীল ব্যবসা (প্রধানতঃ গুজরাট, সিন্ধু ও আগ্রা) যে ইউরোপে তার বাজার হারাতে থাকে তার আংশিক কারণ হল ভারতে উৎপন্ন নীলের সুনাম নষ্ট হয়ে যায়।
* ইউরোপ প্রধানতঃ তার সম্প্রসারিত বস্ত্রশিল্পের জন্য ১৬৫০ খ্রীঃ থেকে ১৭৮০ অবধি তাদের বিরাট নীলের চালান আনতে শুরু করে আমেরিকা থেকে। আমেরিকান অঞ্চলের মধ্যে এ ব্যাপারে আগ্রহী ছিল হাইতি (তখন পরিচিত ছিল সেন্ট ডোমিনিক হিসাবে)। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে আমেরিকা ইউরোপে ১০ লাখ কেজি নীল রফতানি করেছিল। সাউথ ক্যারোলিনা ও গুয়াতেমালা রফতানি করেছিল এর অর্দ্ধেক পরিমাণ। এ ছাড়াও রফতানি করেছিল ভেনজুয়েলা ও ব্রাজিল আর জ্যামেইকার মত ছোটো রফতানিকারীরা।”
১৮০০ শতাব্দীর দিকে নীলের বিশ্ববাজারে একাধিক্রমে তিনটি বড় বড় ঝাপটা লাগে। এর ফলে ইউরোপে নীলের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী তিনটি বড় বড় শক্তির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। মধ্য আমেরিকার নীলের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায় স্পেন। ক্যারেবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে আনা নীলের উপর অধিপত্য হারায় ফ্রান্স। তেমনি আবার উত্তর আমেরিকা থেকে আনা নীলের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায় বৃটেন। এই সব উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নীলের বাণিজ্যে প্রভাবশালী শক্তি হিসাবে অভ্যুদয় ঘটে বৃটেনের। বাণিজ্যিকভাবে নীল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন একটি অঞ্চল- বঙ্গদেশের আবির্ভাবের ফলে বৃটেন অকস্মাৎ নীল উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি বৃহৎ শক্তি হিসাবে পরিগণিত হয়।
মানচিত্র। ১৮০০ সালের দিকে নীলের জগত