০৪:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে? ভূরাজনীতির ঝুঁকি: কোম্পানি কি প্রস্তুত? জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক

ট্রাম্প পুনঃনির্বাচিত হলে ইউয়ানের উপর চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা বাড়তে পারে

  • Sarakhon Report
  • ০২:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪
  • 145

চাইনিজ ইউয়ান এশিয়ার অন্যান্য মুদ্রার সাথে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে নতুন করে অবমূল্যায়নের চাপে আছে মূলত মার্কিন ডলারের শক্তির কারণে। ছবি: ব্লুমবার্গ

সারাক্ষণ ডেস্ক

বুধবার চায়নার রেনমিন ইউনিভার্সিটি আয়োজিত এক সেমিনারে বিশ্লেষকরা বলেছেন, নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য জয়কে ঘিরে বাড়তে পারে  ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা সহ আগামী মাসগুলিতে চায়নার মুদ্রা ইউয়ানকে আরও চাপে ফেলতে পারে।

অতীতেও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা জানিয়েছিলেন, ইউয়ানের দরপতন বাজারের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে এবং মার্কিন-চায়না বাণিজ্য যুদ্ধ, বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে উত্তেজনা তীব্র করতে পারে।

চায়না একাডেমি অফ সোশ্যাল সায়েন্সের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো জু কিয়ুয়ান মার্কিন ডলারের সাম্প্রতিক শক্তি সম্পর্কে মন্তব্য করার সময় বলেছেন, “এই বছরের দ্বিতীয়ার্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা হল মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।”

জু বলেন ,”যদি ট্রাম্প জিতেন, তাহলে বাজারে মার্কিন অর্থনীতির উন্নতি দেখা যেতে পারে।” পাশাপাশি, এটি মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ দ্বারা সুদের হার হ্রাস বিলম্বিত করতে পারে, যা চায়না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সুদের হারের বড় পার্থক্য বজায় রাখবে।

তিনি আরো বলেন, “যদিও আমি মনে করি না যে এটি একটি বৃহৎ চায়না-মার্কিন সুদের হারের পার্থক্য তবুও তা চায়নার মুদ্রানীতিকে বাধাগ্রস্ত করবে যা বাস্তবে কিছুটা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ফেলতে পারে। এই কারণেই আমি মনে করি আমাদের আর্থিক নীতিটি আরও সক্রিয় হওয়া দরকার।

বুধবার রেনমিন ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইউয়ান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল, বছরের প্রথমার্ধে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৭.১ থেকে ৭.২৫ এর মধ্যে লেনদেন চলছিল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে মার্কিন ডলারের শক্তির কারণে চাইনিজ  ইউয়ান এশিয়ার অন্যান্য মুদ্রার সাথে, নতুন করে অবমূল্যায়নের চাপে ছিল ।গত মাসে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাটিকে দুর্বল করতে পারে এমন প্রশ্ন সামনে এনে পিপলস ব্যাংক অফ চায়না বিভিন্ন কারনে দৈনিক ইউয়ানের কেন্দ্রীয় সমতা হারকে প্রান্তিক গতিতে ধীরে ধীরে কমতে দেয়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে মূলত মার্কিন ডলারের শক্তির কারণে চাইনিজ ইউয়ান এশিয়ার অন্যান্য মুদ্রার সাথে নতুনভাবে অবমূল্যায়নের চাপে ছিল ।পিপলস ব্যাংক অফ চায়না  অনশোর স্পট মার্কেটে ইউয়ান বিনিময় হারের দৈনিক ওঠানামার পরিসরকে সমতা হারের উপরে বা নীচে ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখে।

চায়না আন্তঃসীমান্ত তহবিল প্রবাহের উপর শক্ত দখল রেখেছে আবার উদ্বিগ্ন এ কারনে  যে একটি দুর্বল ইউয়ানও তহবিল বহিঃপ্রবাহকে শক্তিশালী করতে পারে।এবং যদিও এমন প্রত্যাশা ছিল যে পিপলস ব্যাংক অফ চায়না দুর্বল ক্রেডিট চাহিদা বাড়ানোর জন্য সুদের হার সহজ করতে পারে।

বুধবারের সেমিনারে বক্তারা মার্কিন ডলারের শক্তিকে মোকাবেলা করার সময় ইউয়ানকে স্থিতিশীল করার জন্য পিপলস ব্যাংক অফ চায়না এর হস্তক্ষেপ করা উচিত কিনা তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন।

ব্যাংক অফ চায়নার প্রাক্তন ভাইস-প্রেসিডেন্ট ওয়াং ইয়ংলি যুক্তি দিয়েছিলেন যে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও ইউয়ানের বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বিনিময় হারের একটি “যুক্তিসঙ্গত” স্তর সেট করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ওঠানামার পরিসর প্রায় ৫ শতাংশের ধারে কাছে থাকতে পারে।

“এই পরিসরের মধ্যে, যদি বড় অস্থিরতা থাকে, তবে আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়,” ওয়াং বলেছিলেন। “যদি অস্থিরতা সীমার বাইরে চলে যায়, তবে [অস্থিরতা] স্থিতিশীল করার জন্য জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে।” তবে, গুয়ান তাও, ব্যাংক অফ চায়না ইন্টারন্যাশনালের প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং একজন প্রাক্তন বৈদেশিক মুদ্রা কর্মকর্তা, ইউয়ানের বিনিময়ের স্থিতিশীলতার উপর অত্যধিক জোর দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ইউয়ানের বিনিময় হারের স্থিতিশীলতার উপর অত্যধিক জোর দেওয়া চায়নার মুদ্রানীতির জন্য পরিসর ছোট করে ফেলতে পারে।

গুয়ান  আরেকটি প্রশ্ন রেখে বলেন,  “আপনি যদি বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা সহ্য করেন তবেই কি আপনি আর্থিক স্বাধীনতা পেতে পারেন।” “বিনিময় হার এবং আর্থিক নীতির মধ্যে, এটি একটি আরামদায়ক পছন্দ হতে পারেনা। সবসময়ই ভালো-মন্দ থাকবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে?

ট্রাম্প পুনঃনির্বাচিত হলে ইউয়ানের উপর চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা বাড়তে পারে

০২:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪

সারাক্ষণ ডেস্ক

বুধবার চায়নার রেনমিন ইউনিভার্সিটি আয়োজিত এক সেমিনারে বিশ্লেষকরা বলেছেন, নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য জয়কে ঘিরে বাড়তে পারে  ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা সহ আগামী মাসগুলিতে চায়নার মুদ্রা ইউয়ানকে আরও চাপে ফেলতে পারে।

অতীতেও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা জানিয়েছিলেন, ইউয়ানের দরপতন বাজারের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে এবং মার্কিন-চায়না বাণিজ্য যুদ্ধ, বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে উত্তেজনা তীব্র করতে পারে।

চায়না একাডেমি অফ সোশ্যাল সায়েন্সের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো জু কিয়ুয়ান মার্কিন ডলারের সাম্প্রতিক শক্তি সম্পর্কে মন্তব্য করার সময় বলেছেন, “এই বছরের দ্বিতীয়ার্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা হল মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।”

জু বলেন ,”যদি ট্রাম্প জিতেন, তাহলে বাজারে মার্কিন অর্থনীতির উন্নতি দেখা যেতে পারে।” পাশাপাশি, এটি মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ দ্বারা সুদের হার হ্রাস বিলম্বিত করতে পারে, যা চায়না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সুদের হারের বড় পার্থক্য বজায় রাখবে।

তিনি আরো বলেন, “যদিও আমি মনে করি না যে এটি একটি বৃহৎ চায়না-মার্কিন সুদের হারের পার্থক্য তবুও তা চায়নার মুদ্রানীতিকে বাধাগ্রস্ত করবে যা বাস্তবে কিছুটা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ফেলতে পারে। এই কারণেই আমি মনে করি আমাদের আর্থিক নীতিটি আরও সক্রিয় হওয়া দরকার।

বুধবার রেনমিন ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইউয়ান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল, বছরের প্রথমার্ধে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৭.১ থেকে ৭.২৫ এর মধ্যে লেনদেন চলছিল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে মার্কিন ডলারের শক্তির কারণে চাইনিজ  ইউয়ান এশিয়ার অন্যান্য মুদ্রার সাথে, নতুন করে অবমূল্যায়নের চাপে ছিল ।গত মাসে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাটিকে দুর্বল করতে পারে এমন প্রশ্ন সামনে এনে পিপলস ব্যাংক অফ চায়না বিভিন্ন কারনে দৈনিক ইউয়ানের কেন্দ্রীয় সমতা হারকে প্রান্তিক গতিতে ধীরে ধীরে কমতে দেয়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে মূলত মার্কিন ডলারের শক্তির কারণে চাইনিজ ইউয়ান এশিয়ার অন্যান্য মুদ্রার সাথে নতুনভাবে অবমূল্যায়নের চাপে ছিল ।পিপলস ব্যাংক অফ চায়না  অনশোর স্পট মার্কেটে ইউয়ান বিনিময় হারের দৈনিক ওঠানামার পরিসরকে সমতা হারের উপরে বা নীচে ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখে।

চায়না আন্তঃসীমান্ত তহবিল প্রবাহের উপর শক্ত দখল রেখেছে আবার উদ্বিগ্ন এ কারনে  যে একটি দুর্বল ইউয়ানও তহবিল বহিঃপ্রবাহকে শক্তিশালী করতে পারে।এবং যদিও এমন প্রত্যাশা ছিল যে পিপলস ব্যাংক অফ চায়না দুর্বল ক্রেডিট চাহিদা বাড়ানোর জন্য সুদের হার সহজ করতে পারে।

বুধবারের সেমিনারে বক্তারা মার্কিন ডলারের শক্তিকে মোকাবেলা করার সময় ইউয়ানকে স্থিতিশীল করার জন্য পিপলস ব্যাংক অফ চায়না এর হস্তক্ষেপ করা উচিত কিনা তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন।

ব্যাংক অফ চায়নার প্রাক্তন ভাইস-প্রেসিডেন্ট ওয়াং ইয়ংলি যুক্তি দিয়েছিলেন যে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও ইউয়ানের বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বিনিময় হারের একটি “যুক্তিসঙ্গত” স্তর সেট করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ওঠানামার পরিসর প্রায় ৫ শতাংশের ধারে কাছে থাকতে পারে।

“এই পরিসরের মধ্যে, যদি বড় অস্থিরতা থাকে, তবে আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়,” ওয়াং বলেছিলেন। “যদি অস্থিরতা সীমার বাইরে চলে যায়, তবে [অস্থিরতা] স্থিতিশীল করার জন্য জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে।” তবে, গুয়ান তাও, ব্যাংক অফ চায়না ইন্টারন্যাশনালের প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং একজন প্রাক্তন বৈদেশিক মুদ্রা কর্মকর্তা, ইউয়ানের বিনিময়ের স্থিতিশীলতার উপর অত্যধিক জোর দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ইউয়ানের বিনিময় হারের স্থিতিশীলতার উপর অত্যধিক জোর দেওয়া চায়নার মুদ্রানীতির জন্য পরিসর ছোট করে ফেলতে পারে।

গুয়ান  আরেকটি প্রশ্ন রেখে বলেন,  “আপনি যদি বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা সহ্য করেন তবেই কি আপনি আর্থিক স্বাধীনতা পেতে পারেন।” “বিনিময় হার এবং আর্থিক নীতির মধ্যে, এটি একটি আরামদায়ক পছন্দ হতে পারেনা। সবসময়ই ভালো-মন্দ থাকবে।”