০৬:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি দামে আগুন, বিমান ভাড়ায় চাপ: সংকটে বিশ্ব এয়ারলাইন শিল্প ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমিরাতের রুটে ধাক্কা, ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা, তেলের দামে চাপে ইন্দোনেশিয়া—ঘাটতি বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের তেলের দামে আগুন, বৈদ্যুতিক গাড়িতে চীনের জোয়ার—বিওয়াইডির বৈশ্বিক বিক্রিতে নতুন গতি ফিলিপাইনে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উদযাপন: কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার আহ্বান জ্বালানি সংকটে কেরোসিন ফিরল পাম্পে, রান্নার জ্বালানি ঘাটতিতে ভারতের জরুরি সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধের মধ্যেও টিকে আছে বিটকয়েন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়ছে ক্রিপ্টো গ্রহণের আশাবাদ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা, বিদ্যুৎ বাঁচাতে আলো নিভানোর নির্দেশ; জ্বালানি কর কমাচ্ছে বিশ্ব

অতি সাধারণ কালীগঙ্গা

  • Sarakhon Report
  • ০৯:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 132

অতি সাধারণ কালীগঙ্গা

স্বদেশ রায়

অন্ধকারেরও একটা পথ চলা আছে

সে তা বেশ বুঝতে পারে-

প্রতিদিন কালীগঙ্গা নদীটির তীরে বসে।

আলো ঝলমল পূর্ণিমা আসার আগেও একটা

হালকা অন্ধকার কেমন যেমন দ্রুত পায়ে চলে যায়

নদীর জলের ওপর দিয়ে এপার থেকে ওপারে।

 

তারপর ধীরে ধীরে পূর্ণিমাকে গ্রাস করতে

একটু একটু করে অন্ধকার এগুতে থাকে-

নিঃশব্দ তার পা চলা।

কালীগঙ্গার জলও বোঝে না-

নদীকূলে প্রতিদিনের মতো বসে থেকে সেও দেখতে পায় না ওই পা।

শুধু জানতে পারে পাখিগুলোর পাখা ঝাপটানো বন্ধ হলে

হালকা অন্ধকারটি আরো গাঢ় হয়।


“অন্ধকারে দাঁড়িয়েও তার কোন কষ্ট নয়, বেদনা নয়, বিচ্ছেদও নয়

কেবলই মনে হয়-

বেহুলা ছাড়া সে বড় একা”


ওই গাঢ় অন্ধকারে একবার জলের দিকে তাকিয়ে

একবার নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে –

সে উঠে যায় কালীগঙ্গার তীরের থেকে

কোন এক গভীর উষ্ণ বুকের আকাঙ্খায়।

অন্ধকারে সে বুক খুঁজতে খুঁজতে

কখনও তার হাত আটকে যেতে থাকে শেয়াকুল কাঁটায়-

রক্তাত হয় সে হাত-

তবুও বুঝতে পারে না-

অন্ধকার কতটা দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়।

অন্ধকারের মাঝে দৃষ্টিশক্তিকে ফেলে দিয়ে

কালীগঙ্গার জলের ঢেউকে তার কাছে মনে হয় এক পোচ

অন্ধকার গোময়ের লেপন।

 

দৃষ্টিশক্তিকে আটকে দেয়া অন্ধকারের ভেতর ডুবে যেতে যেতে

তার মনে হয় কালীগঙ্গাও ডুবে গেছে-

আর ডুবে যাওয়া কালীগঙ্গার বুকে পরিচিত সেই সব সাগর পায়রা নয়-

কোন এক আদিম জীব যেন লেজের দাপটে দেখাচ্ছে

তার হারিয়ে যাওয়া শক্তি।

 

 প্রতিদিনের বিকেলের একটু শান্ত হাওয়ার কালীগঙ্গার তীরে

এমন করেই সে হারিয়ে যাবে-

হারিয়ে যাবে অজানা এক বেহুলার খোঁজে –

বার বার তাকে টেনে নিয়ে আসতো যে নদী সেও-

কোনদিন বোঝেনি সে এমন সহজ সরল ছোট্ট নদীটিকে দেখে।

 

তাই অন্ধকারে দাঁড়িয়েও তার কোন কষ্ট নয়, বেদনা নয়, বিচ্ছেদও নয়

কেবলই মনে হয়-

বেহুলা ছাড়া সে বড় একা-

ইন্দ্রের রাজসভায় কালীগঙ্গার তীরের কচি ঘাসের মালা পরে

কেউ কি আর নাচবে কোনদিন তার হাড়গুলো থেকে

ফিরিয়ে আনতে হাড় আর মাংসের বুকের নিচে যে হৃদয় কেবলই

কাঁদে কোন এক অজনা বেহুলাকে মনে করে।

কোন এক অতি সাধারণ কালীগঙ্গা নদীর তীরে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি দামে আগুন, বিমান ভাড়ায় চাপ: সংকটে বিশ্ব এয়ারলাইন শিল্প

অতি সাধারণ কালীগঙ্গা

০৯:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

অতি সাধারণ কালীগঙ্গা

স্বদেশ রায়

অন্ধকারেরও একটা পথ চলা আছে

সে তা বেশ বুঝতে পারে-

প্রতিদিন কালীগঙ্গা নদীটির তীরে বসে।

আলো ঝলমল পূর্ণিমা আসার আগেও একটা

হালকা অন্ধকার কেমন যেমন দ্রুত পায়ে চলে যায়

নদীর জলের ওপর দিয়ে এপার থেকে ওপারে।

 

তারপর ধীরে ধীরে পূর্ণিমাকে গ্রাস করতে

একটু একটু করে অন্ধকার এগুতে থাকে-

নিঃশব্দ তার পা চলা।

কালীগঙ্গার জলও বোঝে না-

নদীকূলে প্রতিদিনের মতো বসে থেকে সেও দেখতে পায় না ওই পা।

শুধু জানতে পারে পাখিগুলোর পাখা ঝাপটানো বন্ধ হলে

হালকা অন্ধকারটি আরো গাঢ় হয়।


“অন্ধকারে দাঁড়িয়েও তার কোন কষ্ট নয়, বেদনা নয়, বিচ্ছেদও নয়

কেবলই মনে হয়-

বেহুলা ছাড়া সে বড় একা”


ওই গাঢ় অন্ধকারে একবার জলের দিকে তাকিয়ে

একবার নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে –

সে উঠে যায় কালীগঙ্গার তীরের থেকে

কোন এক গভীর উষ্ণ বুকের আকাঙ্খায়।

অন্ধকারে সে বুক খুঁজতে খুঁজতে

কখনও তার হাত আটকে যেতে থাকে শেয়াকুল কাঁটায়-

রক্তাত হয় সে হাত-

তবুও বুঝতে পারে না-

অন্ধকার কতটা দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়।

অন্ধকারের মাঝে দৃষ্টিশক্তিকে ফেলে দিয়ে

কালীগঙ্গার জলের ঢেউকে তার কাছে মনে হয় এক পোচ

অন্ধকার গোময়ের লেপন।

 

দৃষ্টিশক্তিকে আটকে দেয়া অন্ধকারের ভেতর ডুবে যেতে যেতে

তার মনে হয় কালীগঙ্গাও ডুবে গেছে-

আর ডুবে যাওয়া কালীগঙ্গার বুকে পরিচিত সেই সব সাগর পায়রা নয়-

কোন এক আদিম জীব যেন লেজের দাপটে দেখাচ্ছে

তার হারিয়ে যাওয়া শক্তি।

 

 প্রতিদিনের বিকেলের একটু শান্ত হাওয়ার কালীগঙ্গার তীরে

এমন করেই সে হারিয়ে যাবে-

হারিয়ে যাবে অজানা এক বেহুলার খোঁজে –

বার বার তাকে টেনে নিয়ে আসতো যে নদী সেও-

কোনদিন বোঝেনি সে এমন সহজ সরল ছোট্ট নদীটিকে দেখে।

 

তাই অন্ধকারে দাঁড়িয়েও তার কোন কষ্ট নয়, বেদনা নয়, বিচ্ছেদও নয়

কেবলই মনে হয়-

বেহুলা ছাড়া সে বড় একা-

ইন্দ্রের রাজসভায় কালীগঙ্গার তীরের কচি ঘাসের মালা পরে

কেউ কি আর নাচবে কোনদিন তার হাড়গুলো থেকে

ফিরিয়ে আনতে হাড় আর মাংসের বুকের নিচে যে হৃদয় কেবলই

কাঁদে কোন এক অজনা বেহুলাকে মনে করে।

কোন এক অতি সাধারণ কালীগঙ্গা নদীর তীরে।