০১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে ভারত-চীন বৈঠক, বেইজিং যাচ্ছেন অজিত ডোভাল বিজেপির ‘জেন জি’ প্রচারে কটাক্ষ, ‘ভাইরাস-ককরোচ’ মন্তব্য টেনে নিশানা সৌরভ দাসের ঝিনাইদহে ২০০ শিশুর চিকিৎসায় হিমশিম হাসপাতাল, লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ চরম ঢাকার কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা জোরদার, দূতাবাসে অর্থ দাবির ই-মেইল ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি বেড়ে ৮২ চুয়াডাঙ্গায় প্রণোদনার ৫৪ বস্তা সার গায়েব, স্বাক্ষর নিয়েও সার পেলেন না কৃষকরা গ্যাস সংকটে ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধ করল ফু-ওয়াং ফুডস গ্যাসের তীব্র সংকটে রাজধানীতে গাড়ির দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় চালকেরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে বাংলাদেশের খরচ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৭০)

  • Sarakhon Report
  • ১০:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 108

শ্রী নিখিলনাথ রায়

অবশিষ্ট প্রায় সমস্তই পুণ্যকার্য্যে ব্যয়িত হইয়া যাইত। তৎকালে বঙ্গের সমস্ত জমীদারদিগের মধ্যে নাটোরবংশের আয় সর্ব্বাপেক্ষা অধিক ছিল। রাণী ভবানীর ৩২ বৎসর বয়সে বৈধব্যদশা উপস্থিত হয়। তাঁহার তারানায়ী একটিমাত্র কন্ঠী ছিল। অন্য কোন সন্তান জীবিত ছিল না। অল্পবয়সে বৈধব্য অবস্থায় পতিত হইয়া রাণী ভবানী হিন্দুরমণীর অবশ্যকর্তব্য ব্রহ্মচর্য্য অবলম্বন করিয়া, সমস্ত জীবন অতিবাহিত করিয়া- ছিলেন। রাণী ভবানীর নূতন পরিচয় দিবার বিশেষ কোন প্রয়োজন নাই।

দেবসেবা, ব্রাহ্মণসেবা, দীন প্রতিপালন, জলাশয়খ-ন, বৃক্ষপ্রতিষ্ঠা প্রভৃতি পুণ্যকার্য্যের জন্য যাঁহার নাম বঙ্গের গৃহে গৃহে প্রবাদবাক্যের ন্যায় বিরাজ করিতেছে, কাশী গয়া প্রভৃতি তীর্থস্থান সমূহে যাহার অক্ষয়কীর্তি, দেদীপ্যমান রহিয়াছে, যাঁহার প্রদত্ত ব্রহ্মোত্তর না পাইলে, তৎকালে কোন ব্রাহ্মণসন্তান ব্রাহ্মণ বলিয়াই গণ্য হইত না, তাঁহার আর নূতন পরিচয় কি দিব?. তাঁহার সমগ্র পুণ্যকাহিনী এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধের কলেবর ধারণ করিতে কদাচ সমর্থ হইবে না; কেবল বড়নগরের সহিত তাঁহারু যে সমস্ত কীর্তি সংসৃষ্ট, তাহারই সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদত্ত হইতেছে।

রাণী ভবানী রাজসাহী জেলার অন্তগত খাজুরাগ্রামনিবাসী রঘুনাথ লাহিড়ী নামে জনৈক ব্রাহ্মণতনয়ের সহিত স্বীয় করা তারার বিরাহ প্রধান করেন; কিন্তু রঘুনাথও অল্পবয়সে তারাকে চিরব্রহ্মচারিণী ও ভবানীর বক্ষে শেল বিদ্ধ করিয়া পরলোকগত হন। রাণী ভবানীকে অগত্যা একটি দত্তকপুত্র গ্রহণ করিতে বাধ্য হইতে হয়। এই দত্তক- পুত্রই বঙ্গের সাধকচূড়ামণি রাজযোগী রামকৃষ্ণ। যিনি রাজা হইয়াও সন্ন্যাসীর জায় আদর্শ জীবন দেখাইয়া গিয়াছেন, রাণী ভবানী তাঁহাকেই পুত্ররূপে গ্রহণ করেন।

রামকৃষ্ণ বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে, রাণী তাঁহার হস্তে বিষয়ভার অর্পণ করিয়া, বড়নগরে ভাগীরথীতীরে আসিয়া বাস করেন, এবং তাহা দেবমন্দিরে ভূষিত করিয়া কাশীতুল্য পবিত্র করিয়া তুলেন। মাতার সঙ্গে ধর্মপ্রাণা, মাতার উপযুক্ত কন্যা তারাও গঙ্গাবাসিনী হন। ইহার পূর্ব্বে তাঁহারা মধ্যে মধ্যে প্রায়ই বড়নগরে আসিয়া অনেক দিন পর্যন্ত বাস করিতেন। তাঁহাদের এক সময়ে বড়নগরে অবস্থানকালের একটি গল্প এতদ্বেশে প্রচলিত আছে। গল্পটির মূল কি, তাহা আমরা অবগত নহি। যে সিরাজ উদ্দৌলার নামে বাঙ্গলার অনেক অদ্ভুত গল্পের সৃষ্টি হইয়াছে, সেই সিরাজ উদ্দৌলাকে অবলম্বন করিয়াই এই গল্পটিরও উৎপত্তি।

জনপ্রিয় সংবাদ

এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৭০)

১০:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

অবশিষ্ট প্রায় সমস্তই পুণ্যকার্য্যে ব্যয়িত হইয়া যাইত। তৎকালে বঙ্গের সমস্ত জমীদারদিগের মধ্যে নাটোরবংশের আয় সর্ব্বাপেক্ষা অধিক ছিল। রাণী ভবানীর ৩২ বৎসর বয়সে বৈধব্যদশা উপস্থিত হয়। তাঁহার তারানায়ী একটিমাত্র কন্ঠী ছিল। অন্য কোন সন্তান জীবিত ছিল না। অল্পবয়সে বৈধব্য অবস্থায় পতিত হইয়া রাণী ভবানী হিন্দুরমণীর অবশ্যকর্তব্য ব্রহ্মচর্য্য অবলম্বন করিয়া, সমস্ত জীবন অতিবাহিত করিয়া- ছিলেন। রাণী ভবানীর নূতন পরিচয় দিবার বিশেষ কোন প্রয়োজন নাই।

দেবসেবা, ব্রাহ্মণসেবা, দীন প্রতিপালন, জলাশয়খ-ন, বৃক্ষপ্রতিষ্ঠা প্রভৃতি পুণ্যকার্য্যের জন্য যাঁহার নাম বঙ্গের গৃহে গৃহে প্রবাদবাক্যের ন্যায় বিরাজ করিতেছে, কাশী গয়া প্রভৃতি তীর্থস্থান সমূহে যাহার অক্ষয়কীর্তি, দেদীপ্যমান রহিয়াছে, যাঁহার প্রদত্ত ব্রহ্মোত্তর না পাইলে, তৎকালে কোন ব্রাহ্মণসন্তান ব্রাহ্মণ বলিয়াই গণ্য হইত না, তাঁহার আর নূতন পরিচয় কি দিব?. তাঁহার সমগ্র পুণ্যকাহিনী এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধের কলেবর ধারণ করিতে কদাচ সমর্থ হইবে না; কেবল বড়নগরের সহিত তাঁহারু যে সমস্ত কীর্তি সংসৃষ্ট, তাহারই সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদত্ত হইতেছে।

রাণী ভবানী রাজসাহী জেলার অন্তগত খাজুরাগ্রামনিবাসী রঘুনাথ লাহিড়ী নামে জনৈক ব্রাহ্মণতনয়ের সহিত স্বীয় করা তারার বিরাহ প্রধান করেন; কিন্তু রঘুনাথও অল্পবয়সে তারাকে চিরব্রহ্মচারিণী ও ভবানীর বক্ষে শেল বিদ্ধ করিয়া পরলোকগত হন। রাণী ভবানীকে অগত্যা একটি দত্তকপুত্র গ্রহণ করিতে বাধ্য হইতে হয়। এই দত্তক- পুত্রই বঙ্গের সাধকচূড়ামণি রাজযোগী রামকৃষ্ণ। যিনি রাজা হইয়াও সন্ন্যাসীর জায় আদর্শ জীবন দেখাইয়া গিয়াছেন, রাণী ভবানী তাঁহাকেই পুত্ররূপে গ্রহণ করেন।

রামকৃষ্ণ বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে, রাণী তাঁহার হস্তে বিষয়ভার অর্পণ করিয়া, বড়নগরে ভাগীরথীতীরে আসিয়া বাস করেন, এবং তাহা দেবমন্দিরে ভূষিত করিয়া কাশীতুল্য পবিত্র করিয়া তুলেন। মাতার সঙ্গে ধর্মপ্রাণা, মাতার উপযুক্ত কন্যা তারাও গঙ্গাবাসিনী হন। ইহার পূর্ব্বে তাঁহারা মধ্যে মধ্যে প্রায়ই বড়নগরে আসিয়া অনেক দিন পর্যন্ত বাস করিতেন। তাঁহাদের এক সময়ে বড়নগরে অবস্থানকালের একটি গল্প এতদ্বেশে প্রচলিত আছে। গল্পটির মূল কি, তাহা আমরা অবগত নহি। যে সিরাজ উদ্দৌলার নামে বাঙ্গলার অনেক অদ্ভুত গল্পের সৃষ্টি হইয়াছে, সেই সিরাজ উদ্দৌলাকে অবলম্বন করিয়াই এই গল্পটিরও উৎপত্তি।