১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
হরমুজ সংকটের প্রতিদিনের খরচ: মালয়েশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তার কঠিন বাস্তবতা মাদকবিরোধী লড়াইয়ে গ্রেপ্তারই কি শেষ কথা? সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার ব্রিটিশ ব্যবসার নীরবতা: রাজনীতিতে কথা না বলার খেসারত দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা মোগাদিশুতে ফিরছে স্বস্তি, তবে শান্তির আড়ালে রয়ে গেছে বড় শঙ্কা জাম্বিয়ার তামার সমৃদ্ধি, কিন্তু মানুষের ঘরে স্বস্তি কোথায়? মক্কা চুক্তি: সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৬৫ মৃত্যু, উদ্ধার তৎপরতায় বৈষম্যের অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ইসলামের পতন, তবু শেষ হয়ে যায়নি মুসলিম ব্রাদারহুড ইউরোপকে এক করার অদৃশ্য কারিগর কারা?

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-২৯)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪
  • 132

আমার মা

মাঝে মাঝে ইলিশ মাছের হালি যখন দুই আনা তিন আনায় নামিত, তখন বাজান একসঙ্গে সাত-আটটি মাছ কিনিয়া আনিতেন। সেগুলি মা ভাজিয়া দিতেন। আমরা সেদিন সাত-আটখানা ভাজা মাছ ভাতের সঙ্গে খাইতাম।

কোনো কোনোদিন বাজানের সঙ্গে হাট হইতে ইলিশ মাছ কিনিয়া বাড়ি ফিরতাম। পথে ফিরিতে যার সঙ্গে দেখা হইত, সে-ই মাছের দাম জিজ্ঞাসা করিত। দাম শুনিয়া কেহ কেহ বলিত, মাছটি বেশ জিতিয়া কিনিয়াছেন। আমার খুব ভালো লাগিত। এখনও দেশে যাইয়া মাঝে মাঝে বাজার হইতে ইলিশ মাছ হাতে ঝুলাইয়া বাড়ি ফিরি। যে দেখে দাম জিজ্ঞাসা করে। উত্তর দিতে আমার তেমনই ভালো লাগে। কোনো কোনো পরিচিত লোক মাছের দাম জিজ্ঞাসা করিবার আগেই দামটা বলিয়া ফেলি। সমস্ত পথ আনন্দমুখর হইয়া ওঠে। সামান্য একটা ইলিশ মাছ বাঙালির জীবনে যে কত আনন্দ আনিয়া দিতে পারে ভাবিলে আশ্চর্য হইতে হয়।

আমাদিগকে ভালো খাওয়াইতে মা কতই না যত্ন লইতেন। মাঝে মাঝে ডালের বড়া ভাজিতেন। তেল না থাকিলে কলাপাতার উপর ডালবাটা বসাইয়া কাঠখোলায় ভাজিয়া লইতেন। সেদিন এত ভাত খাইতাম যে পেটে ধরিত না। ডিমের তরকারি বা মুরগির গোস্ত যেদিন রান্না হইত সেদিন আমাদের আনন্দের অবধি থাকিত না।

বাড়িতে মা খই-মুড়ি বেশি তৈরি করিতে পারিতেন না। যখন তৈরি করিতেন, সারাদিন খই-মুড়ি চিবাইয়া মুখে যা করিয়া ফেলিতাম। আজও মুড়ি খাওয়ার লোভ আমার যায় নাই। গরম মুড়ি পাইলে আমি রাজভোগও ছাড়িতে পারি। সেদিন আমাদের গ্রামের এক বাড়ির কাছ দিয়া যাইতেছি। দেখিলাম তাহারা গরম মুড়ি ভাজিতেছে। আমি যাইয়া আঁচল পাতিয়া বসিলাম। সম্পর্কে আমার দাদি, হামিজদ্দির মা আমাকে মুড়ি দিতে দিতে বলিল, “সেই আগেকার ছোঁচা জসীম তেমনি আছে।” বাড়ির বউরা ঘোমটার আড়ালে হাসিতে লাগিল।

চলবে…

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ সংকটের প্রতিদিনের খরচ: মালয়েশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তার কঠিন বাস্তবতা

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-২৯)

১১:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪

আমার মা

মাঝে মাঝে ইলিশ মাছের হালি যখন দুই আনা তিন আনায় নামিত, তখন বাজান একসঙ্গে সাত-আটটি মাছ কিনিয়া আনিতেন। সেগুলি মা ভাজিয়া দিতেন। আমরা সেদিন সাত-আটখানা ভাজা মাছ ভাতের সঙ্গে খাইতাম।

কোনো কোনোদিন বাজানের সঙ্গে হাট হইতে ইলিশ মাছ কিনিয়া বাড়ি ফিরতাম। পথে ফিরিতে যার সঙ্গে দেখা হইত, সে-ই মাছের দাম জিজ্ঞাসা করিত। দাম শুনিয়া কেহ কেহ বলিত, মাছটি বেশ জিতিয়া কিনিয়াছেন। আমার খুব ভালো লাগিত। এখনও দেশে যাইয়া মাঝে মাঝে বাজার হইতে ইলিশ মাছ হাতে ঝুলাইয়া বাড়ি ফিরি। যে দেখে দাম জিজ্ঞাসা করে। উত্তর দিতে আমার তেমনই ভালো লাগে। কোনো কোনো পরিচিত লোক মাছের দাম জিজ্ঞাসা করিবার আগেই দামটা বলিয়া ফেলি। সমস্ত পথ আনন্দমুখর হইয়া ওঠে। সামান্য একটা ইলিশ মাছ বাঙালির জীবনে যে কত আনন্দ আনিয়া দিতে পারে ভাবিলে আশ্চর্য হইতে হয়।

আমাদিগকে ভালো খাওয়াইতে মা কতই না যত্ন লইতেন। মাঝে মাঝে ডালের বড়া ভাজিতেন। তেল না থাকিলে কলাপাতার উপর ডালবাটা বসাইয়া কাঠখোলায় ভাজিয়া লইতেন। সেদিন এত ভাত খাইতাম যে পেটে ধরিত না। ডিমের তরকারি বা মুরগির গোস্ত যেদিন রান্না হইত সেদিন আমাদের আনন্দের অবধি থাকিত না।

বাড়িতে মা খই-মুড়ি বেশি তৈরি করিতে পারিতেন না। যখন তৈরি করিতেন, সারাদিন খই-মুড়ি চিবাইয়া মুখে যা করিয়া ফেলিতাম। আজও মুড়ি খাওয়ার লোভ আমার যায় নাই। গরম মুড়ি পাইলে আমি রাজভোগও ছাড়িতে পারি। সেদিন আমাদের গ্রামের এক বাড়ির কাছ দিয়া যাইতেছি। দেখিলাম তাহারা গরম মুড়ি ভাজিতেছে। আমি যাইয়া আঁচল পাতিয়া বসিলাম। সম্পর্কে আমার দাদি, হামিজদ্দির মা আমাকে মুড়ি দিতে দিতে বলিল, “সেই আগেকার ছোঁচা জসীম তেমনি আছে।” বাড়ির বউরা ঘোমটার আড়ালে হাসিতে লাগিল।

চলবে…