০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
বাংলার ভোটার তালিকা থেকে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধর বাদ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার বাজার: ভরিতে বাড়ল ৩,২৬৬ টাকা, ২২ ক্যারেট এখন ২,৪৪,৭১১ টাকা জ্বালানি সংকটে স্কুলে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা, ষষ্ঠ দিনও বিবেচনায়: শিক্ষামন্ত্রী আজ মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ঈদযাত্রায় ১৫ দিনে ৩৯৪ জনের মৃত্যু: মোটরসাইকেল সবচেয়ে মরণঘাতী বাহন ৩০ বছরের পুরনো সেতু ধসে সুনামগঞ্জে ৫০ হাজার মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঝিনাইদহে সাইকেলচালক নিহত, আহত ৫ জন হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ: গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ২৭ জন, এ বছর মোট ১,৮৪৩ বাংলাদেশ সফরের জন্য নিউজিল্যান্ড দল ঘোষণা, ইনজুরি কাটিয়ে ফিরলেন ফিশার-ওরোর্ক-টিকনার

ইশকুল (পর্ব-০৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অক্টোবর ২০২৪
  • 119
আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

ঘণ্টাঘরের মিনারের মাথায় উঠতে ভারি ভালো লাগত আমার। একমাত্র ইস্টারের সময়ই বাচ্চাদের ঘণ্টাঘরে উঠতে দেয়া হত। ওপরে যেতে অন্ধকার সরু সরু, সি’ড়ি বেয়ে উঠতে হত অনেকটা। দেয়ালে পাথরের কুলুঙ্গির ভিতর থেকে শোনা যেত পায়রার মিষ্টি-মিষ্টি বকবকম। সি’ড়িতে এত অসংখ্য বাঁক থাকত যে উঠতে গিয়ে মাথা ঘুরত। ঘণ্টাঘরের ওপর থেকে দেখতে পাওয়া যেত পুরো শহর: পাহাড়ের নিচে দিয়ে বয়ে-যাওয়া তেশা নদী, পুরনো ময়দা-কল, ছাগুলে দ্বীপ, ঝোপঝাড়, তার আরও ওধারে খাদের খোয়াই আর শহর-ঘেরা নীল বনরেখা।
আমার বাবা ছিলেন দ্বাদশ সাইবেরিয়ান রাইফেল রেজিমেন্টের সৈনিক। ওই রেজিমেন্ট ছিল তখন জার্মান ফ্রন্টের রিগা আঞ্চলিক অংশে।
ব্যবহারিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি তখন। আমার মা ছিলেন হাসপাতালে ডাক্তারের সহকারী। সবসময়ে ব্যস্ত থাকতেন তিনি। আমি বেড়ে উঠেছিলুম নিজের মতো করে একরকম। প্রতি সপ্তায় ক্লাসের রিপোর্ট-কার্ড সই করাতে মা-র কাছে নিয়ে যেতুম। বিভিন্ন বিষয়ের নম্বরের ওপর চোখ বুলোতে বুলোতে ড্রইং কিংবা হাতের লেখায় খারাপ নম্বর দেখলে মাথা নাড়তেন মা,বলতেন:
‘এ কী!’
আমার কী দোষ, মা? আঁকতে না পারলে আমি কী করব? মাস্টারমশাইকে আমি ঘোড়া এ’কে দেখালুম, তা তিনি বললেন, এটা ঘোড়া নয় শুয়োর। পরের বার ওই আঁকাটাই তাঁকে দেখিয়ে বললুম, শুয়োর এ’কেছি, মাস্টারমশাই। কিন্তু তিনি চটে উঠে বললেন, এটা শুয়োরও নয়, ঘোড়াও নয়, এটা যে কী তা শয়তানই জানে। আমার দ্বারা শিল্পী হওয়া হবে না, মা।’
‘আচ্ছা, আচ্ছা, ঠিক আছে। কিন্তু হাতের লেখায় আবার গণ্ডগোল কেন? দেখি তো তোমার এক্সারসাইজ-খাতা। হায় হায়, এ কী বিতিকিচ্ছি ব্যাপার! প্রত্যেক লাইনে, কালি ধ্যাবড়ানো, আবার পাতার ফাঁকে একটা থ্যাঁতলানো গুবরে-পোকা। উহ, কী জঘন্য!’
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলার ভোটার তালিকা থেকে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধর বাদ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত

ইশকুল (পর্ব-০৩)

০৮:০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অক্টোবর ২০২৪
আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

ঘণ্টাঘরের মিনারের মাথায় উঠতে ভারি ভালো লাগত আমার। একমাত্র ইস্টারের সময়ই বাচ্চাদের ঘণ্টাঘরে উঠতে দেয়া হত। ওপরে যেতে অন্ধকার সরু সরু, সি’ড়ি বেয়ে উঠতে হত অনেকটা। দেয়ালে পাথরের কুলুঙ্গির ভিতর থেকে শোনা যেত পায়রার মিষ্টি-মিষ্টি বকবকম। সি’ড়িতে এত অসংখ্য বাঁক থাকত যে উঠতে গিয়ে মাথা ঘুরত। ঘণ্টাঘরের ওপর থেকে দেখতে পাওয়া যেত পুরো শহর: পাহাড়ের নিচে দিয়ে বয়ে-যাওয়া তেশা নদী, পুরনো ময়দা-কল, ছাগুলে দ্বীপ, ঝোপঝাড়, তার আরও ওধারে খাদের খোয়াই আর শহর-ঘেরা নীল বনরেখা।
আমার বাবা ছিলেন দ্বাদশ সাইবেরিয়ান রাইফেল রেজিমেন্টের সৈনিক। ওই রেজিমেন্ট ছিল তখন জার্মান ফ্রন্টের রিগা আঞ্চলিক অংশে।
ব্যবহারিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি তখন। আমার মা ছিলেন হাসপাতালে ডাক্তারের সহকারী। সবসময়ে ব্যস্ত থাকতেন তিনি। আমি বেড়ে উঠেছিলুম নিজের মতো করে একরকম। প্রতি সপ্তায় ক্লাসের রিপোর্ট-কার্ড সই করাতে মা-র কাছে নিয়ে যেতুম। বিভিন্ন বিষয়ের নম্বরের ওপর চোখ বুলোতে বুলোতে ড্রইং কিংবা হাতের লেখায় খারাপ নম্বর দেখলে মাথা নাড়তেন মা,বলতেন:
‘এ কী!’
আমার কী দোষ, মা? আঁকতে না পারলে আমি কী করব? মাস্টারমশাইকে আমি ঘোড়া এ’কে দেখালুম, তা তিনি বললেন, এটা ঘোড়া নয় শুয়োর। পরের বার ওই আঁকাটাই তাঁকে দেখিয়ে বললুম, শুয়োর এ’কেছি, মাস্টারমশাই। কিন্তু তিনি চটে উঠে বললেন, এটা শুয়োরও নয়, ঘোড়াও নয়, এটা যে কী তা শয়তানই জানে। আমার দ্বারা শিল্পী হওয়া হবে না, মা।’
‘আচ্ছা, আচ্ছা, ঠিক আছে। কিন্তু হাতের লেখায় আবার গণ্ডগোল কেন? দেখি তো তোমার এক্সারসাইজ-খাতা। হায় হায়, এ কী বিতিকিচ্ছি ব্যাপার! প্রত্যেক লাইনে, কালি ধ্যাবড়ানো, আবার পাতার ফাঁকে একটা থ্যাঁতলানো গুবরে-পোকা। উহ, কী জঘন্য!’