০৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা? বিশ্বকাপের উন্মাদনায় এক হচ্ছে বিশ্ব, ফুটবলের ভাষায় গড়ে উঠছে সম্মান ও সহমর্মিতা সৃজনশীলতা চাই, কিন্তু কতটা সহনশীল আমরা? সিঙ্গাপুরে শিল্পচর্চা নিয়ে নতুন বিতর্ক জাপানের নগর উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, ব্যয় বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটে থমকে যাচ্ছে একের পর এক পরিকল্পনা এশিয়াজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, ছয় আঞ্চলিক সংস্থার চুক্তি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি চুক্তি: স্বস্তির বার্তা পেলেও বেশি সুবিধায় থাকতে পারে ইরান সিঙ্গাপুরে চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে, ছাঁটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে; ডিগ্রিধারীদের উদ্বেগ বেশি ভারতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে বাড়ল অতিরিক্ত কর, অপরিবর্তিত পেট্রোল ‘আংটি আছে তো আসুন, না থাকলে একাই আসুন’—টেলর-ট্রাভিসের বিয়ের নিয়মে চাঞ্চল্য ঘুমের সমস্যায় স্বস্তি দিচ্ছে ভারী কম্বল, বাড়ছে জনপ্রিয়তা

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৬৪)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪
  • 151
শশাঙ্ক মণ্ডল
নীল

তৃতীয় অধ্যায়

ইতিমধ্যে জিনিসপত্রের মূল্য বেড়েছে-কৃষিজাত অন্য ফসলের দামও সেই সাথে বেড়েছে কিন্তু নীলগাছের দাম ৪ বান্ডিল ১ টাকা তাই বজায় থাকল। ছোটলাট তার রিপোর্টে এ বিষয়ে বলেছিলেন নীল সংকট চরমে ওঠার সব থেকে বড় কারণ হল সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি। সব কৃষিজাত জিনিসের দাম গত তিন বছর দ্বিগুণ বেড়েছে-কৃষি শ্রমিকদের মজুরি, গোরু রাখার খরচ বেড়ে চলেছে কিন্তু নীলের কোন দাম বাড়েনি। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কারণ-রায়তের কাছে নীলচাষের খারাপ দিকগুলি আরও বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে।

এর পাশাপাশি নীলকর সাহেবদের নানা ধরনের অত্যাচার মীরজাম মন্ডলের ভাষায় নীলকর সাহেব একাধারে নীলকর মহাজন জমিদার সেই সঙ্গে সে শাসক শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। আর একজন চাষি অভিযোগ করেছেন-তার ১১ বিঘা জমিকে মেপে ৭ বিঘাতে পরিণত করা হয়েছে। এ ভাবে সে যুগে চাষিকে বেশি জমিতে নীলচাষ করতে বাধ্য করা হত। চাষিদের কাছ থেকে কুঠি বাঁশ কিনেছে-তার দাম সে সময়মত পাচ্ছে না, ফসল ওঠার পর চাষিকে বাধ্য করা হত গোরুর গাড়িতে অথবা নৌকার দ্বারা কুঠিতে মাল পৌঁছে দিতে।

নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিক্ষোভ এভাবে ধূমায়িত হচ্ছিল তা ফেটে পড়ে ১৮৫৯ খ্রীষ্টাব্দে। বারাসাতের তরুণ ম্যাজিস্ট্রেট অ্যাসলি ইডেন হাবড়া নীল কলসার্নের অন্তর্গত চৌরাশি গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে নীলকর সাহেবদের বিরোধের ব্যাপারে রায় দিতে গিয়ে মন্তব্য করেন, চাষিরা নীল চাষ করবে কিনা তা তাদের ব্যাপার, নিজের জমিতে চাষি কি চাষ করবে সে স্বাধীনতা তার আছে।

ইতিপূর্বে বিভিন্ন এলাকায় চাষীদের বিক্ষোভ লক্ষ করা যাচ্ছিল; এই রায় সমগ্র চাষিদের মনে দারুণ উৎসাহের সৃষ্টি করে, চারিদিকে নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নীল বিদ্রোহ শুধু মাত্র কৃষকদেরই নাড়া দেয়নি বাঙালি সমাজের ওপর তলার মানুষদের উদাসীন থাকতে দেয়নি।

সাংবাদিক হরিশচন্দ্র থেকে শুরু করে শিশির কুমার ঘোষ, নীলদর্পণের নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র, কালীপ্রসন্ন সিংহ, বঙ্কিমচন্দ্র বিদেশি মিশনারি লঙ্ সাহেব সহ সমাজের ওপর তলাকার অনেক মানুষ এই বিক্ষোভের আবর্তে জড়িয়ে পড়লেন। লড়াই ছড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশ থেকে ভারতে এমনকি ইংলন্ডেও তার রেশ পৌঁছে গিয়েছিল।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৬৪)

১২:০০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
নীল

তৃতীয় অধ্যায়

ইতিমধ্যে জিনিসপত্রের মূল্য বেড়েছে-কৃষিজাত অন্য ফসলের দামও সেই সাথে বেড়েছে কিন্তু নীলগাছের দাম ৪ বান্ডিল ১ টাকা তাই বজায় থাকল। ছোটলাট তার রিপোর্টে এ বিষয়ে বলেছিলেন নীল সংকট চরমে ওঠার সব থেকে বড় কারণ হল সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি। সব কৃষিজাত জিনিসের দাম গত তিন বছর দ্বিগুণ বেড়েছে-কৃষি শ্রমিকদের মজুরি, গোরু রাখার খরচ বেড়ে চলেছে কিন্তু নীলের কোন দাম বাড়েনি। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কারণ-রায়তের কাছে নীলচাষের খারাপ দিকগুলি আরও বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে।

এর পাশাপাশি নীলকর সাহেবদের নানা ধরনের অত্যাচার মীরজাম মন্ডলের ভাষায় নীলকর সাহেব একাধারে নীলকর মহাজন জমিদার সেই সঙ্গে সে শাসক শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। আর একজন চাষি অভিযোগ করেছেন-তার ১১ বিঘা জমিকে মেপে ৭ বিঘাতে পরিণত করা হয়েছে। এ ভাবে সে যুগে চাষিকে বেশি জমিতে নীলচাষ করতে বাধ্য করা হত। চাষিদের কাছ থেকে কুঠি বাঁশ কিনেছে-তার দাম সে সময়মত পাচ্ছে না, ফসল ওঠার পর চাষিকে বাধ্য করা হত গোরুর গাড়িতে অথবা নৌকার দ্বারা কুঠিতে মাল পৌঁছে দিতে।

নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিক্ষোভ এভাবে ধূমায়িত হচ্ছিল তা ফেটে পড়ে ১৮৫৯ খ্রীষ্টাব্দে। বারাসাতের তরুণ ম্যাজিস্ট্রেট অ্যাসলি ইডেন হাবড়া নীল কলসার্নের অন্তর্গত চৌরাশি গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে নীলকর সাহেবদের বিরোধের ব্যাপারে রায় দিতে গিয়ে মন্তব্য করেন, চাষিরা নীল চাষ করবে কিনা তা তাদের ব্যাপার, নিজের জমিতে চাষি কি চাষ করবে সে স্বাধীনতা তার আছে।

ইতিপূর্বে বিভিন্ন এলাকায় চাষীদের বিক্ষোভ লক্ষ করা যাচ্ছিল; এই রায় সমগ্র চাষিদের মনে দারুণ উৎসাহের সৃষ্টি করে, চারিদিকে নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নীল বিদ্রোহ শুধু মাত্র কৃষকদেরই নাড়া দেয়নি বাঙালি সমাজের ওপর তলার মানুষদের উদাসীন থাকতে দেয়নি।

সাংবাদিক হরিশচন্দ্র থেকে শুরু করে শিশির কুমার ঘোষ, নীলদর্পণের নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র, কালীপ্রসন্ন সিংহ, বঙ্কিমচন্দ্র বিদেশি মিশনারি লঙ্ সাহেব সহ সমাজের ওপর তলাকার অনেক মানুষ এই বিক্ষোভের আবর্তে জড়িয়ে পড়লেন। লড়াই ছড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশ থেকে ভারতে এমনকি ইংলন্ডেও তার রেশ পৌঁছে গিয়েছিল।