০৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার পুনর্মূল্যায়ন: কিভাবে টোকিও আরও বিপজ্জনক বিশ্বের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে ইইউ ঋণ আটকে দিল হাঙ্গেরি, তেল সংকটে ইউক্রেন নিয়ে উত্তেজনা চরমে চীনের ভঙ্গুর ভবিষ্যত: সিপিপি কতটা নিরাপদ? ইউক্রেনকে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করল স্লোভাকিয়া, তেল পাইপলাইন ঘিরে উত্তেজনা আমির হামজার বিরুদ্ধে মোরাল পুলিশিংয়ের অভিযোগ, কী বলছেন কুষ্টিয়ার এই সংসদ সদস্য? চীনা পর্যটক টোকিও ছেড়ে সিউলে ছুটছেন: কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পানামা খালে হংকং কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ শেষ, দুই বন্দরের দায়িত্ব সরকারের হাতে ফ্রান্সে ডানপন্থী বিক্ষোভে উত্তেজনা, ছাত্র ন্যাশনালিস্টের মৃত্যুতে সাড়া ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত, ট্রাম্পের শুল্ক রদে প্রভাব হংকং’য়ে নতুন একাডেমি ও পেটেন্ট মূল্যায়ন সহায়তার মাধ্যমে আইপি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২১৪)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪
  • 96

শ্রী নিখিলনাথ রায়

যে এই সময়ে তিনি নন্দকুমারের প্রকৃত চরিত্রসম্বন্ধে নিজের মন্তব্য প্রকাশ করিয়াছিলেন। আমরা এ স্থলে তাহার সংক্ষিপ্ত মৰ্ম্ম প্রদান করিতেছি। নন্দকুমারের পরম শত্রু হেষ্টিংসের নিকট হইতে তাঁহার প্রকৃত চরিত্রের কিঞ্চিৎ আভাস পাওয়া যে অতীব বিস্ময়কর, তাহাতে সন্দেহ নাই। হেষ্টিংস এই সময়ে নন্দকুমারের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন বলিয়া, তাঁহার প্রকৃত চরিত্রের কথা কিঞ্চিৎ প্রকাশ করিয়াছিলেন। নন্দকুমার- চরিত্রের প্রতি যাঁহাদের ঘৃণা আছে, তাঁহারাও হেষ্টিংসের মন্তব্যটি একটু মনোযোগ সহকারে পাঠ করিবেন।

হেষ্টিংস এই রূপ লিখিয়াছিলেন যে, “নন্দকুমার প্রকৃত কর্মচারী ও মন্ত্রীর ন্যায় স্বীয় প্রভুর কল্যাণের ও ক্ষমতা- বৃদ্ধির জন্য বৈদেশিকগণের সাহায্যগ্রহণের ও কোম্পানীর ক্ষমতাহ্রাসের চেষ্টা করিয়াছিলেন। নবাব মীর জাফর তাঁহাকে যথেষ্ট বিশ্বাস করিতেন। মীরজাফর কখনও তাঁহাকে অবিশ্বাস্য বলিয়া তাঁহার প্রতি দোষারোপ করেন নাই। নন্দকুমার যে সমস্ত রাজনৈতিক ব্যাপারে লিপ্ত ছিলেন, তৎসমুদায় কেবল তাহার প্রভুর মঙ্গল ও ক্ষমতা বৃদ্ধির, উদ্দেশেই সংসাধিত হইত। মীর জাফরের মঙ্গলের সহিত তাঁহার নিজের স্বার্থের যে সংস্রব ছিল না, এমন নহে।

তাহারও কিঞ্চিৎ মিশ্রণ ছিল। মীর জাফর, তাঁহার প্রতি যে কিরূপ সন্তুষ্ট ছিলেন, তাঁহার রাজত্বের প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁহাকে যেরূপ রাজসম্মানে ‘সম্মানিত করিয়াছিলেন, তদ্বারা তাহা যথেষ্টরূপে সপ্রমাণ হয়। নন্দকুমারের দ্বারা যে সকল কাৰ্য্য সংসাধিত হইয়াছে, তাহার অধিকাংশ আমাদের বিরুদ্ধ হইলেও, সত্য কথা বলিতে গেলে, ইহা তাঁহার পক্ষে কোন মতে নিন্দনীয় নহে; বরং প্রশংসনীয়। তিনি স্বীয় প্রভুর স্বাধীনতাবিস্তারের জন্য বাদশাহের নিকট হইতে সনন্দ আনাইয়াছিলেন এবং পাছে তাঁহার ক্ষমতার হ্রাস হয়, তজ্জন্য মহম্মদ রেজা খাঁর নিয়োগ সম্বন্ধে আপত্তি করিয়াছিলেন”।

বাস্তবিক নন্দকুমার সম্বন্ধে বিবেচক ব্যক্তিমাত্রেরই এই মত। তাঁহার শত্রুপক্ষীয়গণ মনে মনে ইহাই বিশ্বাস করিতেন। কিন্তু আপনাদিগের জেদ ও খাতির রক্ষার জন্য তাঁহার অযথা নিন্দা করিয়া গিয়াছেন। নন্দ- কুমারের প্রতি হেষ্টিংসের বিদ্বেষভাব সেই সময়ে প্রশমিত হওয়ায়, তিনি তাঁহার চরিত্র সম্বন্ধে প্রকৃত কথাই প্রকাশ করিয়াছিলেন। পরম শত্রু হেষ্টিংসের কথা তদীয় চরিত্রের মহত্ত্ব প্রতিপাদনের পক্ষে অল্প প্রামাণ্য নহে। রেজা খাঁকে নিষ্কৃতি পাইতে দেখিয়া, জনসাধারণে আশ্চর্যান্বিত হইল। ‘নন্দকুমারও হেষ্টিংসচরিত্র বিশেষরূপে উপলব্ধি করিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার পুনর্মূল্যায়ন: কিভাবে টোকিও আরও বিপজ্জনক বিশ্বের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২১৪)

১১:০০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

যে এই সময়ে তিনি নন্দকুমারের প্রকৃত চরিত্রসম্বন্ধে নিজের মন্তব্য প্রকাশ করিয়াছিলেন। আমরা এ স্থলে তাহার সংক্ষিপ্ত মৰ্ম্ম প্রদান করিতেছি। নন্দকুমারের পরম শত্রু হেষ্টিংসের নিকট হইতে তাঁহার প্রকৃত চরিত্রের কিঞ্চিৎ আভাস পাওয়া যে অতীব বিস্ময়কর, তাহাতে সন্দেহ নাই। হেষ্টিংস এই সময়ে নন্দকুমারের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন বলিয়া, তাঁহার প্রকৃত চরিত্রের কথা কিঞ্চিৎ প্রকাশ করিয়াছিলেন। নন্দকুমার- চরিত্রের প্রতি যাঁহাদের ঘৃণা আছে, তাঁহারাও হেষ্টিংসের মন্তব্যটি একটু মনোযোগ সহকারে পাঠ করিবেন।

হেষ্টিংস এই রূপ লিখিয়াছিলেন যে, “নন্দকুমার প্রকৃত কর্মচারী ও মন্ত্রীর ন্যায় স্বীয় প্রভুর কল্যাণের ও ক্ষমতা- বৃদ্ধির জন্য বৈদেশিকগণের সাহায্যগ্রহণের ও কোম্পানীর ক্ষমতাহ্রাসের চেষ্টা করিয়াছিলেন। নবাব মীর জাফর তাঁহাকে যথেষ্ট বিশ্বাস করিতেন। মীরজাফর কখনও তাঁহাকে অবিশ্বাস্য বলিয়া তাঁহার প্রতি দোষারোপ করেন নাই। নন্দকুমার যে সমস্ত রাজনৈতিক ব্যাপারে লিপ্ত ছিলেন, তৎসমুদায় কেবল তাহার প্রভুর মঙ্গল ও ক্ষমতা বৃদ্ধির, উদ্দেশেই সংসাধিত হইত। মীর জাফরের মঙ্গলের সহিত তাঁহার নিজের স্বার্থের যে সংস্রব ছিল না, এমন নহে।

তাহারও কিঞ্চিৎ মিশ্রণ ছিল। মীর জাফর, তাঁহার প্রতি যে কিরূপ সন্তুষ্ট ছিলেন, তাঁহার রাজত্বের প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁহাকে যেরূপ রাজসম্মানে ‘সম্মানিত করিয়াছিলেন, তদ্বারা তাহা যথেষ্টরূপে সপ্রমাণ হয়। নন্দকুমারের দ্বারা যে সকল কাৰ্য্য সংসাধিত হইয়াছে, তাহার অধিকাংশ আমাদের বিরুদ্ধ হইলেও, সত্য কথা বলিতে গেলে, ইহা তাঁহার পক্ষে কোন মতে নিন্দনীয় নহে; বরং প্রশংসনীয়। তিনি স্বীয় প্রভুর স্বাধীনতাবিস্তারের জন্য বাদশাহের নিকট হইতে সনন্দ আনাইয়াছিলেন এবং পাছে তাঁহার ক্ষমতার হ্রাস হয়, তজ্জন্য মহম্মদ রেজা খাঁর নিয়োগ সম্বন্ধে আপত্তি করিয়াছিলেন”।

বাস্তবিক নন্দকুমার সম্বন্ধে বিবেচক ব্যক্তিমাত্রেরই এই মত। তাঁহার শত্রুপক্ষীয়গণ মনে মনে ইহাই বিশ্বাস করিতেন। কিন্তু আপনাদিগের জেদ ও খাতির রক্ষার জন্য তাঁহার অযথা নিন্দা করিয়া গিয়াছেন। নন্দ- কুমারের প্রতি হেষ্টিংসের বিদ্বেষভাব সেই সময়ে প্রশমিত হওয়ায়, তিনি তাঁহার চরিত্র সম্বন্ধে প্রকৃত কথাই প্রকাশ করিয়াছিলেন। পরম শত্রু হেষ্টিংসের কথা তদীয় চরিত্রের মহত্ত্ব প্রতিপাদনের পক্ষে অল্প প্রামাণ্য নহে। রেজা খাঁকে নিষ্কৃতি পাইতে দেখিয়া, জনসাধারণে আশ্চর্যান্বিত হইল। ‘নন্দকুমারও হেষ্টিংসচরিত্র বিশেষরূপে উপলব্ধি করিলেন।