০৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার পুনর্মূল্যায়ন: কিভাবে টোকিও আরও বিপজ্জনক বিশ্বের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে ইইউ ঋণ আটকে দিল হাঙ্গেরি, তেল সংকটে ইউক্রেন নিয়ে উত্তেজনা চরমে চীনের ভঙ্গুর ভবিষ্যত: সিপিপি কতটা নিরাপদ? ইউক্রেনকে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করল স্লোভাকিয়া, তেল পাইপলাইন ঘিরে উত্তেজনা আমির হামজার বিরুদ্ধে মোরাল পুলিশিংয়ের অভিযোগ, কী বলছেন কুষ্টিয়ার এই সংসদ সদস্য? চীনা পর্যটক টোকিও ছেড়ে সিউলে ছুটছেন: কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পানামা খালে হংকং কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ শেষ, দুই বন্দরের দায়িত্ব সরকারের হাতে ফ্রান্সে ডানপন্থী বিক্ষোভে উত্তেজনা, ছাত্র ন্যাশনালিস্টের মৃত্যুতে সাড়া ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত, ট্রাম্পের শুল্ক রদে প্রভাব হংকং’য়ে নতুন একাডেমি ও পেটেন্ট মূল্যায়ন সহায়তার মাধ্যমে আইপি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২১৫)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০২৪
  • 98

শ্রী নিখিলনাথ রায়

ইহার পর হইতে দেশমধ্যে হেষ্টিংস সাহেবের অত্যাচার বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। উৎকোচ প্রদানে জমিদার ও প্রজাসাধারণে অত্যন্ত ব্যতিব্যস্ত হইয়া উঠিল। গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ, কান্তবাবু, দেবীসিংহ প্রভৃতি দেশীয় প্রাতঃস্মরণীয় (?) ব্যক্তিগণ হেষ্টিংসের অনুচর হইয়া উঠিলেন। নবকৃষ্ণ, রেজা খাঁ প্রভৃতিও তাহাতে যোগ দিলেন। নন্দকুমার দেশের অবস্থা দেখিয়া অত্যন্ত মর্মাহত ও দুঃখিত হইলেন। কিন্তু এক্ষণে তিনি একরূপ ক্ষমতা- হীন; কি করিবেন, কিছুই স্থির করিতে পারিলেন না।

কি জমিদার কি প্রজা সকলে আসিয়া তাঁহার নিকট আপনাদিগের প্রতি অত্যাচার এবং স্বস্ব মনোবেদনার কথা জানাইতে আরম্ভ করিলেন। শুনিয়া সেই পরদুঃখ কাতর স্বদেশভক্তের প্রাণে আঘাত লাগিল। তিনি যথাসাধ্য তাঁহাদিগকে সান্ত্বনা দিয়া স্বীয় ক্ষমতাহীনতার কথা জানাইতে লাগিলেন; কিন্তু কেহই তাঁহার আশ্রয় পরিত্যাগ করিতে চাহিল না। নাটোর, বর্দ্ধমান প্রভৃতি বাঙ্গলার শীর্ষস্থানীয় জমিদারবৃন্দ হেষ্টিংস ও তাঁহার অনুচরবর্গের ভীষণ অত্যাচারে ব্যতিব্যস্ত হইয়া তাঁহার শরণাগত হইলেন।

তিনি তাঁহাদিগের কি উপায় করিবেন, ভাবিয়া স্থির করিতে পারিলেন না। নন্দ কুমারের নিকট সাধারণের গমনাগমনে এবং তাঁহার নিকট অত্যাচার- কাহিনীর প্রচারে, হেষ্টিংস ও তাঁহার অনুচরবর্গ ক্রমে নন্দকুমারের প্রতি অসন্তুষ্ট হইতে লাগিলেন। এইরূপে উভয় পক্ষের মধ্যে ঘোরতর বিরক্তির সঞ্চার হইল। হেষ্টিংস নন্দকুমারের প্রতি যেটুকু সন্তুষ্ট হইয়াছিলেন, তাহা একেবারে ভুলিয়া গিয়া পুনর্ব্বার নিজ মূর্ত্তি ধারণ করিলেন। নন্দকুমারও তাঁহার অত্যাচারের প্রতিবিধানের জন্য চিন্তা করিতে লাগিলেন। সহসা তাঁহার একটি সুযোগ উপস্থিত হইল।

আমরা যথাক্রমে তাহার নির্দেশ করিতেছি। পলাশী-যুদ্ধের পর হইতে যখন বঙ্গরাজ্যে ইংরেজদিগের ক্ষমতা বদ্ধমূল হইতে আরব্ধ হয়, তদবধি দেশমধ্যে কোম্পানীর কর্মচারিগণের অযথা প্রভুত্ব ও অত্যাচার দিন দিন বর্দ্ধিত হইতে থাকে। এই সমস্ত অত্যাচারের কথা ইংলণ্ডে পৌঁছিলে, মহানুভব ব্রিটিশজাতির হৃদয়ে অত্যন্ত আঘাত লাগে। তাঁহারা নিরীহ ভারতবাসিগণের প্রতি অত্যাচার নিবারণের জড় কৃতপক্ষর হন। পালিয়ামেন্ট সভা সেই সমস্ত বিষয়ের অনুসন্ধানের জন্য ১৭৭২ খৃঃ অব্দে গুপ্তসমিতি নামে এক সভার প্রতিষ্ঠা করিলেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার পুনর্মূল্যায়ন: কিভাবে টোকিও আরও বিপজ্জনক বিশ্বের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২১৫)

১১:০০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

ইহার পর হইতে দেশমধ্যে হেষ্টিংস সাহেবের অত্যাচার বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। উৎকোচ প্রদানে জমিদার ও প্রজাসাধারণে অত্যন্ত ব্যতিব্যস্ত হইয়া উঠিল। গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ, কান্তবাবু, দেবীসিংহ প্রভৃতি দেশীয় প্রাতঃস্মরণীয় (?) ব্যক্তিগণ হেষ্টিংসের অনুচর হইয়া উঠিলেন। নবকৃষ্ণ, রেজা খাঁ প্রভৃতিও তাহাতে যোগ দিলেন। নন্দকুমার দেশের অবস্থা দেখিয়া অত্যন্ত মর্মাহত ও দুঃখিত হইলেন। কিন্তু এক্ষণে তিনি একরূপ ক্ষমতা- হীন; কি করিবেন, কিছুই স্থির করিতে পারিলেন না।

কি জমিদার কি প্রজা সকলে আসিয়া তাঁহার নিকট আপনাদিগের প্রতি অত্যাচার এবং স্বস্ব মনোবেদনার কথা জানাইতে আরম্ভ করিলেন। শুনিয়া সেই পরদুঃখ কাতর স্বদেশভক্তের প্রাণে আঘাত লাগিল। তিনি যথাসাধ্য তাঁহাদিগকে সান্ত্বনা দিয়া স্বীয় ক্ষমতাহীনতার কথা জানাইতে লাগিলেন; কিন্তু কেহই তাঁহার আশ্রয় পরিত্যাগ করিতে চাহিল না। নাটোর, বর্দ্ধমান প্রভৃতি বাঙ্গলার শীর্ষস্থানীয় জমিদারবৃন্দ হেষ্টিংস ও তাঁহার অনুচরবর্গের ভীষণ অত্যাচারে ব্যতিব্যস্ত হইয়া তাঁহার শরণাগত হইলেন।

তিনি তাঁহাদিগের কি উপায় করিবেন, ভাবিয়া স্থির করিতে পারিলেন না। নন্দ কুমারের নিকট সাধারণের গমনাগমনে এবং তাঁহার নিকট অত্যাচার- কাহিনীর প্রচারে, হেষ্টিংস ও তাঁহার অনুচরবর্গ ক্রমে নন্দকুমারের প্রতি অসন্তুষ্ট হইতে লাগিলেন। এইরূপে উভয় পক্ষের মধ্যে ঘোরতর বিরক্তির সঞ্চার হইল। হেষ্টিংস নন্দকুমারের প্রতি যেটুকু সন্তুষ্ট হইয়াছিলেন, তাহা একেবারে ভুলিয়া গিয়া পুনর্ব্বার নিজ মূর্ত্তি ধারণ করিলেন। নন্দকুমারও তাঁহার অত্যাচারের প্রতিবিধানের জন্য চিন্তা করিতে লাগিলেন। সহসা তাঁহার একটি সুযোগ উপস্থিত হইল।

আমরা যথাক্রমে তাহার নির্দেশ করিতেছি। পলাশী-যুদ্ধের পর হইতে যখন বঙ্গরাজ্যে ইংরেজদিগের ক্ষমতা বদ্ধমূল হইতে আরব্ধ হয়, তদবধি দেশমধ্যে কোম্পানীর কর্মচারিগণের অযথা প্রভুত্ব ও অত্যাচার দিন দিন বর্দ্ধিত হইতে থাকে। এই সমস্ত অত্যাচারের কথা ইংলণ্ডে পৌঁছিলে, মহানুভব ব্রিটিশজাতির হৃদয়ে অত্যন্ত আঘাত লাগে। তাঁহারা নিরীহ ভারতবাসিগণের প্রতি অত্যাচার নিবারণের জড় কৃতপক্ষর হন। পালিয়ামেন্ট সভা সেই সমস্ত বিষয়ের অনুসন্ধানের জন্য ১৭৭২ খৃঃ অব্দে গুপ্তসমিতি নামে এক সভার প্রতিষ্ঠা করিলেন।