০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার ব্রিটিশ ব্যবসার নীরবতা: রাজনীতিতে কথা না বলার খেসারত দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা মোগাদিশুতে ফিরছে স্বস্তি, তবে শান্তির আড়ালে রয়ে গেছে বড় শঙ্কা জাম্বিয়ার তামার সমৃদ্ধি, কিন্তু মানুষের ঘরে স্বস্তি কোথায়? মক্কা চুক্তি: সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৬৫ মৃত্যু, উদ্ধার তৎপরতায় বৈষম্যের অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ইসলামের পতন, তবু শেষ হয়ে যায়নি মুসলিম ব্রাদারহুড ইউরোপকে এক করার অদৃশ্য কারিগর কারা? লেবার ও ব্যবসা: অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে সম্পর্ক মেরামতের নতুন সুযোগ শান্তির কথা বলাই এখন রাশিয়ায় অপরাধ, নির্বাচনের দৌড় থেকে বাদ উদারপন্থী ইয়াব্লোকো

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ০৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪
  • 144

ম্যাকসিম গোর্কী

চার

শপ্যর একটি সুর বাজিয়ে শোনাচ্ছিলেন গোল্ডেনভাইসার। ফলে লিও নিকোলাইয়েভিচ মন্তব্য করলেন, “কোনো একজন জার্মান রাজকুমার বলেছিলেন: ‘যদি তোমার কোথাও গোলামের দরকার হয়, তবে সেখানে যথাসম্ভব সংগীতের সরবরাহ করো।’ কথাটা সত্যি; এর মধ্যে সত্য-দৃষ্টির পরিচয় আছে। সুর মনকে অলস ক’রে দেয়। ক্যাথলিকরা এ ব্যাপারটি বিশেষ ভাবেই বোঝেন।

অবশ্য, আমাদের পুরোহিতরাও মেণ্ডেলসনের গানকে কখনো কোনোক্রমে গির্জায় ঢুকতে দেবেন না। হ্যাঁ, টুলায় আমার সংগে এক পুরোহিতের আলাপ হয়েছিল। তিনি আমাকে নিশ্চিত ক’রে জানালেন যে খৃস্ট কখনো ইহুদি ছিলেন না। যদিও তিনি স্বীকার করলেন যে খৃস্ট ছিলেন ইহুদি দেবতার পুত্র, এবং তাঁর মাও ছিলেন ইহুদির মেয়ে। তবু তিনি বললেন, ‘খুস্ট ইহুদি, এ অসম্ভব।’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কিন্তু তবে কেমন করে….?’ পুরোহিত ঘাড় নেড়ে বললেন, ‘সেইটুকুই তো হোলো দুর্বোধ্য।’

পাঁচ

গ্যালিসিয়ান রাজকুমার বৃদ্ধ ভ্লাদিমির্কো দ্বাদশ শতাব্দীতেও ‘সাহসের’ সংগে ঘোষণা করেছিলেন, ‘মিরাল্ ব’লে কোনো বস্তু নেই।’ মনীষীরা হোলেন সেই বৃদ্ধ ভ্লাদিমির্কোর মতো। তারপর ছশ বছর কেটে গেছে, কিন্তু আজো মনীষীরা পরস্পরের উদ্দেশ্যে চোঁচাচ্ছেন, মিরাক্ল্ ব’লে কিছু নেই হে, মিরাল্ ব’লে কিছু নেই। অথচ আজো সবাই মিরাকলে বিশ্বাস করে, তারা যেমনটি করতো সেই দ্বাদশ শতাব্দীতে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ০৩)

০৪:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪

ম্যাকসিম গোর্কী

চার

শপ্যর একটি সুর বাজিয়ে শোনাচ্ছিলেন গোল্ডেনভাইসার। ফলে লিও নিকোলাইয়েভিচ মন্তব্য করলেন, “কোনো একজন জার্মান রাজকুমার বলেছিলেন: ‘যদি তোমার কোথাও গোলামের দরকার হয়, তবে সেখানে যথাসম্ভব সংগীতের সরবরাহ করো।’ কথাটা সত্যি; এর মধ্যে সত্য-দৃষ্টির পরিচয় আছে। সুর মনকে অলস ক’রে দেয়। ক্যাথলিকরা এ ব্যাপারটি বিশেষ ভাবেই বোঝেন।

অবশ্য, আমাদের পুরোহিতরাও মেণ্ডেলসনের গানকে কখনো কোনোক্রমে গির্জায় ঢুকতে দেবেন না। হ্যাঁ, টুলায় আমার সংগে এক পুরোহিতের আলাপ হয়েছিল। তিনি আমাকে নিশ্চিত ক’রে জানালেন যে খৃস্ট কখনো ইহুদি ছিলেন না। যদিও তিনি স্বীকার করলেন যে খৃস্ট ছিলেন ইহুদি দেবতার পুত্র, এবং তাঁর মাও ছিলেন ইহুদির মেয়ে। তবু তিনি বললেন, ‘খুস্ট ইহুদি, এ অসম্ভব।’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কিন্তু তবে কেমন করে….?’ পুরোহিত ঘাড় নেড়ে বললেন, ‘সেইটুকুই তো হোলো দুর্বোধ্য।’

পাঁচ

গ্যালিসিয়ান রাজকুমার বৃদ্ধ ভ্লাদিমির্কো দ্বাদশ শতাব্দীতেও ‘সাহসের’ সংগে ঘোষণা করেছিলেন, ‘মিরাল্ ব’লে কোনো বস্তু নেই।’ মনীষীরা হোলেন সেই বৃদ্ধ ভ্লাদিমির্কোর মতো। তারপর ছশ বছর কেটে গেছে, কিন্তু আজো মনীষীরা পরস্পরের উদ্দেশ্যে চোঁচাচ্ছেন, মিরাক্ল্ ব’লে কিছু নেই হে, মিরাল্ ব’লে কিছু নেই। অথচ আজো সবাই মিরাকলে বিশ্বাস করে, তারা যেমনটি করতো সেই দ্বাদশ শতাব্দীতে।”