০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
রিকনসিলিয়েশানের আগে সহযোগিতা:  প্রতিরোধের সামনে বাস্তবসম্মত পথ সৌদি উপকূলে ট্যাংকারে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাত, আগুন; নিরাপদে সব নাবিক মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে প্রশ্ন না করার অনুরোধ, ‘ভিভিআইপি সফরে এটাই স্বাভাবিক’ বলল ভারত পারান্দুরে দ্বিতীয় চেন্নাই বিমানবন্দর বাতিল, বিজয়ের সিদ্ধান্তে স্ট্যালিনের তীব্র ক্ষোভ দিল্লিতে ভারী বৃষ্টি-ঝড়, ১৫টি ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলো ব্রাজিলে কংগ্রেসের ক্ষমতার দাপট: প্রেসিডেন্টের চেয়েও শক্তিশালী আইনসভা উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল যুক্তরাষ্ট্রের পানি অবকাঠামোই এখন সাইবার হামলার সহজ লক্ষ্য যত্রতত্র বালু তোলায় ভয়াবহ নদীভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-ফসলি জমি ভালো ফলনেও আউশের দামে হতাশ হবিগঞ্জের কৃষক, মণ ৭০০–৮০০ টাকা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২২৯)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 175

শ্রী নিখিলনাথ রায়

আসদ উল্লা যে যে স্থানের কথা উল্লেখ করে, সে সময় তথায় সৈন্যশিবির না থাকার প্রমাণ করিবার জন্য অনেক কাপ্তেন, কর্ণেল প্রভৃতিকে আদালত হইতে উপস্থাপিত করা হয়। অন্যান্য সাক্ষীর সম্বন্ধে অধিক বলিবার প্রয়োজন নাই। আমরা এক্ষণে উভয় পক্ষের মানিত সাক্ষী কৃষ্ণজীবন সম্বন্ধে দুই চারিটি কথা বলিতে চাহি। কৃষ্ণজীবনের সাক্ষ্য প্রধানতঃ দুইটি দলিলের উপর নির্ভর করিয়াছিল।

আমরা সেই দলিল দুইটির কথা সংক্ষেপে বলিয়’, সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণজীবনের সাক্ষ্যের কথারও উল্লেখ করিতেছি। কৃষ্ণজীবন সেই সময়ে মোহনপ্রসাদের অধীনতায় কার্য্য করিত’। অনেক কথা তাহাকে যে ভয়ে ভয়ে বলিতে হইয়াছিল, এ কথা সে নিজেই স্বীকার করিয়া গিয়াছে। এই মোকদ্দমায় যে সমস্ত দলিল উপস্থাপিত করা হয়, তন্মধ্যে দুইখানি প্রধান। একখানি একটি করারনামার নকল ও আর একখানি একটি হিসাবের তালিকা। এই হিসাবের তালিকা M চিহ্নিত করা হয়। এই করারনামাও বুলাকীদাস ও মহারাজ নন্দকুমারের মধ্যে লিখিত হয়।

পদ্মমোহন দাস করারনামা লিখিয়া -দেয় এবং বুলাকীদাস তাহাতে সাক্ষর করেন। তাহাতে জহরতের অঙ্গীকার-পত্র, দরবার-খরচ ও কতকগুলি হুণ্ডীর কথা লিখিত থাকে। মোহনদাস নামে এক ব্যক্তি এই করারনামার নকল করিয়াছিল। সে মূল করারনামা পদ্মমোহন দাসকে দেয় এবং নকলখানি মহারাজের নিকট রাখিয়া দেয়। কৃষ্ণজীবন মূল করারনামা দেখিয়াছে বলিয়া স্বীকার করে। কৃষ্ণজীবন করারনামা দেখিয়া খাতায় সে সম্বন্ধে কতক- গুলি হিসাব লিখিয়া রাখে। এই করারনামার জন্য পদ্মমোহনের সমস্ত কাগজপত্র অনুসন্ধান করা হয়।

পদ্মমোহনের পিতা শিবনাথ ও ভ্রাতা লছমন দাস আপন আপন সাক্ষ্যে প্রকাশ করে যে, পদ্মমোহনের সমস্ত কাগজপত্র আদালতে দাখিল আছে। তবুও আদালত হইতে তাহা বাহির করা হয় নাই। কৃষ্ণজীবনকে সমস্ত অনুসন্ধান করিতে বলা হয়; কিন্তু কৃষ্ণজীবন সমস্ত অনুসন্ধান করিয়া উঠিতে পারে নাই। করারনামার মূল না পাওয়ায় তাহার নকল সাক্ষ্য বলিয়া জজ মহোদয়েরা গ্রাহ্য করিলেন না এবং মোহনদাস যে করারনামার নকল করিয়াছিল, সে সাক্ষ্যেও বিশ্বাস করা হয় নাই। M চিহ্নিত দলিলটি মহারাজ নন্দকুমার ও বুলাকীদাসের মধ্যে একটি হিসাবের তালিকা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রিকনসিলিয়েশানের আগে সহযোগিতা:  প্রতিরোধের সামনে বাস্তবসম্মত পথ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২২৯)

১১:০০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

আসদ উল্লা যে যে স্থানের কথা উল্লেখ করে, সে সময় তথায় সৈন্যশিবির না থাকার প্রমাণ করিবার জন্য অনেক কাপ্তেন, কর্ণেল প্রভৃতিকে আদালত হইতে উপস্থাপিত করা হয়। অন্যান্য সাক্ষীর সম্বন্ধে অধিক বলিবার প্রয়োজন নাই। আমরা এক্ষণে উভয় পক্ষের মানিত সাক্ষী কৃষ্ণজীবন সম্বন্ধে দুই চারিটি কথা বলিতে চাহি। কৃষ্ণজীবনের সাক্ষ্য প্রধানতঃ দুইটি দলিলের উপর নির্ভর করিয়াছিল।

আমরা সেই দলিল দুইটির কথা সংক্ষেপে বলিয়’, সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণজীবনের সাক্ষ্যের কথারও উল্লেখ করিতেছি। কৃষ্ণজীবন সেই সময়ে মোহনপ্রসাদের অধীনতায় কার্য্য করিত’। অনেক কথা তাহাকে যে ভয়ে ভয়ে বলিতে হইয়াছিল, এ কথা সে নিজেই স্বীকার করিয়া গিয়াছে। এই মোকদ্দমায় যে সমস্ত দলিল উপস্থাপিত করা হয়, তন্মধ্যে দুইখানি প্রধান। একখানি একটি করারনামার নকল ও আর একখানি একটি হিসাবের তালিকা। এই হিসাবের তালিকা M চিহ্নিত করা হয়। এই করারনামাও বুলাকীদাস ও মহারাজ নন্দকুমারের মধ্যে লিখিত হয়।

পদ্মমোহন দাস করারনামা লিখিয়া -দেয় এবং বুলাকীদাস তাহাতে সাক্ষর করেন। তাহাতে জহরতের অঙ্গীকার-পত্র, দরবার-খরচ ও কতকগুলি হুণ্ডীর কথা লিখিত থাকে। মোহনদাস নামে এক ব্যক্তি এই করারনামার নকল করিয়াছিল। সে মূল করারনামা পদ্মমোহন দাসকে দেয় এবং নকলখানি মহারাজের নিকট রাখিয়া দেয়। কৃষ্ণজীবন মূল করারনামা দেখিয়াছে বলিয়া স্বীকার করে। কৃষ্ণজীবন করারনামা দেখিয়া খাতায় সে সম্বন্ধে কতক- গুলি হিসাব লিখিয়া রাখে। এই করারনামার জন্য পদ্মমোহনের সমস্ত কাগজপত্র অনুসন্ধান করা হয়।

পদ্মমোহনের পিতা শিবনাথ ও ভ্রাতা লছমন দাস আপন আপন সাক্ষ্যে প্রকাশ করে যে, পদ্মমোহনের সমস্ত কাগজপত্র আদালতে দাখিল আছে। তবুও আদালত হইতে তাহা বাহির করা হয় নাই। কৃষ্ণজীবনকে সমস্ত অনুসন্ধান করিতে বলা হয়; কিন্তু কৃষ্ণজীবন সমস্ত অনুসন্ধান করিয়া উঠিতে পারে নাই। করারনামার মূল না পাওয়ায় তাহার নকল সাক্ষ্য বলিয়া জজ মহোদয়েরা গ্রাহ্য করিলেন না এবং মোহনদাস যে করারনামার নকল করিয়াছিল, সে সাক্ষ্যেও বিশ্বাস করা হয় নাই। M চিহ্নিত দলিলটি মহারাজ নন্দকুমার ও বুলাকীদাসের মধ্যে একটি হিসাবের তালিকা।