০৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরানোর পথে আমেরিকার নতুন কৌশল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফের ভয়াবহ ধোঁয়াশার শঙ্কা, ২০১৫-এর বিপর্যয় থেকে কি শিক্ষা নিয়েছে অঞ্চলটি? তালেবানকে একঘরে করে নয়, আফগানিস্তানে কৌশলী যোগাযোগের ডাক ভেনিসে ভারতের সাফল্য, ওসাকায় ব্যর্থতা—এক বছরেই বদলে গেল ছবিটা ইরান যুদ্ধ ও আমেরিকার বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষয়: বিশ্ব কেন এখন বিকল্প নিরাপত্তা খুঁজছে চীনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু চিকিৎসা এখনো ধনীদের নাগালে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতায় আবারও ১৫ আগস্ট, নেই রাষ্ট্রীয় আয়োজন ঝু রোংজি: চীনের শেষ বড় সংস্কারক, যাঁর জায়গা শি জিনপিংয়ের চীনে নেই গারো পাহাড়ে হাতি বাড়ছে, কমছে বন: শেরপুরে বাড়ছে মানুষ-হাতির সংঘাত মিয়ানমারের দাবি, বাংলাদেশে ১০ লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশের তথ্য সঠিক নয়

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -২৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৫
  • 142

আর্কাদি গাইদার

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

‘এই! বরিস! এই যে, আমরা এখানে!’

‘কী রে, কেমন? জায়গাটায়গা পেয়েছিস?’

‘মন্দ-না। বাবা বসেছে আমাদের মালপত্রের ওপর, তার ওপরের বাঙ্কে একজন মাল্লা তার পাশে একটু জায়গা দিয়েছে আমায়। বলেছে, ‘বেশি নড়াচড়া করবি না, তাহলে তাড়িয়ে দেব’।’

দ্বিতীয় ঘণ্টা পড়ার পর হৈচৈ আরও বেড়ে গিয়ে রীতিমতো হল্লায় পরিণত হল।

প্রাণ খুলে দিব্যি গালার সঙ্গে ফরাসী ভাষায় কথা, সেন্টের সুগন্ধের সঙ্গে ঘামের গন্ধ, অ্যাকর্ডিয়ন-বাজনার সঙ্গে কান্নার শব্দ মিলেমিশে সে এক বিতিকিচ্ছি ব্যাপার। হঠাৎ সবকিছু ডুবিয়ে ট্রেনের বিকট বাঁশি শোনা গেল।

‘বিদায়, তিঙ্কা!’

‘বিদায়, বরিস!’ জানলা দিয়ে ঝুঁকে পড়ে গোছা গোছা চুল উড়িয়ে ও হাত নাড়তে লাগল।

নানা ধরনের, রকমারি কয়েক শো লোক নিয়ে ট্রেন চলে গেল। তবু স্টেশনে লোকের ভিড় কিছু কমেছে বলে মনে হল না।

‘উহ, দেখলে কান্ডটা!’ পাশে একজনের গলা শুনলুম। ‘সকলেই চলেছে দক্ষিণে।

রোন্তভে, দোনে। উত্তর দিকে যত ট্রেন যাচ্ছে তাতে থাকছে সৈন্য আর চাকুরেরা, আর দক্ষিণের ট্রেন বোঝাই হয়ে যাচ্ছে যতসব ভন্দরলোক, বাবুমশায়রা।’

‘কোথায় যাচ্ছে সব কও দেখি স্বাস্থ্যনিবাসে, নাকি?’

বিদ্রূপের সুরে জবাব শোনা গেল, ‘তা বলেচ বটে কথা একখান। জবুথবুরোগ সারানোর জন্যি, বলতি পার। ভয়ে ওরা আজকাল এক্কেবারে আধমরা হয়ে আচে, ওই যে তোমাদের বাবুমশায়রা গো।’

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফেরানোর পথে আমেরিকার নতুন কৌশল

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -২৫)

০৮:০০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

‘এই! বরিস! এই যে, আমরা এখানে!’

‘কী রে, কেমন? জায়গাটায়গা পেয়েছিস?’

‘মন্দ-না। বাবা বসেছে আমাদের মালপত্রের ওপর, তার ওপরের বাঙ্কে একজন মাল্লা তার পাশে একটু জায়গা দিয়েছে আমায়। বলেছে, ‘বেশি নড়াচড়া করবি না, তাহলে তাড়িয়ে দেব’।’

দ্বিতীয় ঘণ্টা পড়ার পর হৈচৈ আরও বেড়ে গিয়ে রীতিমতো হল্লায় পরিণত হল।

প্রাণ খুলে দিব্যি গালার সঙ্গে ফরাসী ভাষায় কথা, সেন্টের সুগন্ধের সঙ্গে ঘামের গন্ধ, অ্যাকর্ডিয়ন-বাজনার সঙ্গে কান্নার শব্দ মিলেমিশে সে এক বিতিকিচ্ছি ব্যাপার। হঠাৎ সবকিছু ডুবিয়ে ট্রেনের বিকট বাঁশি শোনা গেল।

‘বিদায়, তিঙ্কা!’

‘বিদায়, বরিস!’ জানলা দিয়ে ঝুঁকে পড়ে গোছা গোছা চুল উড়িয়ে ও হাত নাড়তে লাগল।

নানা ধরনের, রকমারি কয়েক শো লোক নিয়ে ট্রেন চলে গেল। তবু স্টেশনে লোকের ভিড় কিছু কমেছে বলে মনে হল না।

‘উহ, দেখলে কান্ডটা!’ পাশে একজনের গলা শুনলুম। ‘সকলেই চলেছে দক্ষিণে।

রোন্তভে, দোনে। উত্তর দিকে যত ট্রেন যাচ্ছে তাতে থাকছে সৈন্য আর চাকুরেরা, আর দক্ষিণের ট্রেন বোঝাই হয়ে যাচ্ছে যতসব ভন্দরলোক, বাবুমশায়রা।’

‘কোথায় যাচ্ছে সব কও দেখি স্বাস্থ্যনিবাসে, নাকি?’

বিদ্রূপের সুরে জবাব শোনা গেল, ‘তা বলেচ বটে কথা একখান। জবুথবুরোগ সারানোর জন্যি, বলতি পার। ভয়ে ওরা আজকাল এক্কেবারে আধমরা হয়ে আচে, ওই যে তোমাদের বাবুমশায়রা গো।’