০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান ভারতের ধর্মের সুরে রাজনীতি: সায়নী ঘোষের বার্তা, বিভাজনের ভাষা না সহাবস্থানের রাজপথ? দিদি বনাম দিদি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে নিঃশব্দ লড়াইয়ের অদৃশ্য রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের ভোটের শেষ লড়াইয়ের আগে প্রচারের মাঠে বিজেপির মুখের সংকট: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নেতৃত্বহীনতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ার লোককথা থেকে বিশ্বমঞ্চে: ‘পারা পেরাসুক’ ছবির সাফল্যের গল্প শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের ‘ সাপুসাপু ‘ মাছ এখন ইন্দোনেশিয়ার বিপদ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: অন্তত আট মাস ভোগান্তিতে ব্রিটিশ অর্থনীতি, সতর্ক করলেন সরকার আমেরিকায় হাম ফিরে আসছে: টিকাদানে শিথিলতা, সামনে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা ৩০ হাজার হামলা, তবু জয় নেই: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কি সত্যিই এগিয়ে?

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৬১)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৫
  • 96

শ্রী নিখিলনাথ রায়

সেই সমস্ত ক্ষতির বিবরণ প্রস্তুত ও যাহাতে আবার সেই সকল জামীনতির উদ্ধার হয়, তাহার চেষ্টা করা হউক। কাউন্সিলের সদস্যগণ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পূর্ব্ব শাসন-বিবরণী অনুসন্ধান করিয়া, ডিরেক্টারদিগকে সমস্ত অবগত করাইয়া- ছিলেন। তাঁহারা আপনাদিগের মন্তব্যের একস্থলে এইরূপ প্রকাশ করেন যে, গত রাজস্বসংক্রান্ত বন্দোবস্তে এমন কোন প্রকার চুরি, ডাকাইতি দেখা যায় না, যাহা হইতে মাননীয় গবর্ণর জেনেরাল বাহাদুর বিরত থাকা সঙ্গত বিবেচনা করিয়াছিলেন। প্রতি এইরূপ তিরস্কার-বর্ষণ হওয়ায়, তিনি স্বীয় সেরূপ সুবিধা করিয়া উঠিতে পারিলেন না।

হেষ্টিংস সাহেবের প্রিয়পাত্রদিগের আর সুতরাং কান্ত বাবুর আশা দিগন্তপ্রসারিণী হইতে পারিল না। লোকনাথের নামে যে সকল বেনামী জমিদারী ও মহলাদি ছিল, তাহাতেই তাঁহার আয় আবদ্ধ হইয়া থাকিল, উত্তরোত্তর আর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইতে পারিল না। ক্রেভারিং, মন্সন ও ফ্রান্সিস সদস্যত্রয় হেষ্টিংসের ঘোরতর শত্রুতাসাধনে প্রবৃত্ত হইয়া, তাঁহাকে যে পরিমাণে অপদস্থ করিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন, কান্ত বাবু প্রভৃতিরও সেই পরিমাণে ক্ষতি হইয়াছে।

যদিও হেষ্টিংস অনেক সময়ে তাঁহাদিগকে অগ্রাহ্য করিয়া, নিজের ইচ্ছা পূর্ণ করিবার জন্য প্রয়াস পাইতেন, কিন্তু পরিণামে কর্তৃপক্ষগণের নিকট তিরস্কৃত হওয়ায়, তাঁহাকে অনেক পরিমাণে শান্তভাব অবলম্বন করিতে হইয়াছিল। সুতরাং কান্ত বাবুরও লাভের ব্যাঘাত ঘটিয়াছিল; নতুবা তিনি বহুলক্ষাধীশ্বর হইয়া বঙ্গদেশে সর্ব্বশ্রেষ্ঠ ধনী বলিয়া পরিচিত হইতে পারিতেন।

অবিচারপূর্ব্বক কান্ত বাবুকে, জমিদারী দেওয়ায়, হেষ্টিংস সাহেব কেবল যে, ডিরেক্টারদিগের নিকট হইতে তিরস্কার লাভ করিয়া নিষ্কৃতি পাইয়াছিলেন, এমন নহে। ভারতবর্ষ পরিত্যাগের পর যখন ওয়েষ্টমিনিষ্টার-গৃহে ব্রিটিশরাজ্যের প্রতিনিধিগণের সমক্ষে তাঁহার সপ্ত- বর্ষব্যাপী বিচার হয়, তখনও তাঁহাকে ইহার জন্য অশেষ লাঞ্ছনা ভোগ করিতে হইয়াছিল। মহামতি বার্ক, শেরিডান প্রভৃতির অনলবর্ষিণী বক্তৃতায়, যখন তাঁহার অত্যাচারকাহিনী শ্রোতৃবর্গকে স্তম্ভিত করিয়া- ছিল, সেই সময়ে এই অবিচারের কথাও ইংলণ্ডের জাতীয় দরবারে উত্থিত হয়।

 

 

পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৬১)

১১:০০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৫

শ্রী নিখিলনাথ রায়

সেই সমস্ত ক্ষতির বিবরণ প্রস্তুত ও যাহাতে আবার সেই সকল জামীনতির উদ্ধার হয়, তাহার চেষ্টা করা হউক। কাউন্সিলের সদস্যগণ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পূর্ব্ব শাসন-বিবরণী অনুসন্ধান করিয়া, ডিরেক্টারদিগকে সমস্ত অবগত করাইয়া- ছিলেন। তাঁহারা আপনাদিগের মন্তব্যের একস্থলে এইরূপ প্রকাশ করেন যে, গত রাজস্বসংক্রান্ত বন্দোবস্তে এমন কোন প্রকার চুরি, ডাকাইতি দেখা যায় না, যাহা হইতে মাননীয় গবর্ণর জেনেরাল বাহাদুর বিরত থাকা সঙ্গত বিবেচনা করিয়াছিলেন। প্রতি এইরূপ তিরস্কার-বর্ষণ হওয়ায়, তিনি স্বীয় সেরূপ সুবিধা করিয়া উঠিতে পারিলেন না।

হেষ্টিংস সাহেবের প্রিয়পাত্রদিগের আর সুতরাং কান্ত বাবুর আশা দিগন্তপ্রসারিণী হইতে পারিল না। লোকনাথের নামে যে সকল বেনামী জমিদারী ও মহলাদি ছিল, তাহাতেই তাঁহার আয় আবদ্ধ হইয়া থাকিল, উত্তরোত্তর আর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইতে পারিল না। ক্রেভারিং, মন্সন ও ফ্রান্সিস সদস্যত্রয় হেষ্টিংসের ঘোরতর শত্রুতাসাধনে প্রবৃত্ত হইয়া, তাঁহাকে যে পরিমাণে অপদস্থ করিতে চেষ্টা করিয়াছিলেন, কান্ত বাবু প্রভৃতিরও সেই পরিমাণে ক্ষতি হইয়াছে।

যদিও হেষ্টিংস অনেক সময়ে তাঁহাদিগকে অগ্রাহ্য করিয়া, নিজের ইচ্ছা পূর্ণ করিবার জন্য প্রয়াস পাইতেন, কিন্তু পরিণামে কর্তৃপক্ষগণের নিকট তিরস্কৃত হওয়ায়, তাঁহাকে অনেক পরিমাণে শান্তভাব অবলম্বন করিতে হইয়াছিল। সুতরাং কান্ত বাবুরও লাভের ব্যাঘাত ঘটিয়াছিল; নতুবা তিনি বহুলক্ষাধীশ্বর হইয়া বঙ্গদেশে সর্ব্বশ্রেষ্ঠ ধনী বলিয়া পরিচিত হইতে পারিতেন।

অবিচারপূর্ব্বক কান্ত বাবুকে, জমিদারী দেওয়ায়, হেষ্টিংস সাহেব কেবল যে, ডিরেক্টারদিগের নিকট হইতে তিরস্কার লাভ করিয়া নিষ্কৃতি পাইয়াছিলেন, এমন নহে। ভারতবর্ষ পরিত্যাগের পর যখন ওয়েষ্টমিনিষ্টার-গৃহে ব্রিটিশরাজ্যের প্রতিনিধিগণের সমক্ষে তাঁহার সপ্ত- বর্ষব্যাপী বিচার হয়, তখনও তাঁহাকে ইহার জন্য অশেষ লাঞ্ছনা ভোগ করিতে হইয়াছিল। মহামতি বার্ক, শেরিডান প্রভৃতির অনলবর্ষিণী বক্তৃতায়, যখন তাঁহার অত্যাচারকাহিনী শ্রোতৃবর্গকে স্তম্ভিত করিয়া- ছিল, সেই সময়ে এই অবিচারের কথাও ইংলণ্ডের জাতীয় দরবারে উত্থিত হয়।