০৭:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছুটি চেয়েও পেলেন না, সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া পুলিশ সদস্যের হৃদয়বিদারক আক্ষেপ নির্বাচনে ‘আমার অভাব’ পূরণ করেছে ঢাকা-৮ এর এক প্রার্থী, মন্তব্যে নতুন আলোচনা সংস্কারের ডাক মির্জা ফখরুলের, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে পরিবর্তনের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও সম্পর্ক নতুন মোড়ে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা পাঁচ দিনের ছুটি, নির্বাচনের আবহে বদলে যাচ্ছে ক্লাস সূচি তারেক রহমানকে নির্যাতনের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, থমকে গেছে পণ্য খালাস ও কনটেইনার পরিবহন জনগণের অধিকার রক্ষায় আপোষহীন থাকার অঙ্গীকার বিএনপির বাংলাদেশ-চীন চুক্তি, চার জাহাজে জোরদার হচ্ছে জ্বালানি নিরাপত্তা অধিকার রক্ষায় আপোষহীন থাকার অঙ্গীকার বিএনপির, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান ফখরুলের

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১০)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
  • 122

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

প্রায় কোপটার সামনা-সামনি এসে পড়েছে যখন এমন সময় হাঁসটা হঠাৎ ঘাড় বাঁকিয়ে সন্দেহের চোখে আমার দিকে তাকাল। আমি আগাগোড়া ওর পেছন-পেছন যাচ্ছি দেখেই হয়তো হাঁসটার ধাঁধা লেগেছিল। তারপর যেন মনস্থির করে ফেলে হাঁসটা আবার পিছু ফিরল। কিন্তু বেড়াল যেভাবে চড়ুইপাখির ওপর বিদ্যুৎগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, সেইভাবে ঝোপের আড়াল থেকে লাফিয়ে পড়ে ছেলেটাও এই সময়ে দু-হাতে হাঁসের গলা চেপে ধরলে। ভালোমতো ডাকবারও সময় পেলে না হাঁসটা।

এদিকে হাঁসের দলটা এই ব্যাপার দেখে প্যাঁকপ্যাঁক শুরু করে দিল আর সেই অবসরে ছেলেটা ছটফট করা হাঁসটাকে দু-হাতে চেপে ধরে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়ল। পিছুপিছু আমিও ছুটলুম।’

অনেকক্ষণ ধরে হাঁসটা ডানা ঝাপটাতে-ঝাপটাতে, প্রাণপণে পা ছুড়তে-ছড়তে চলল। আমরা খাদের মধ্যে একটা নির্জন জায়গায় পৌঁছনো পর্যন্ত ও লড়াই চালিয়ে গেল। তারপর এক সময় থামল। ছেলেটা হাঁসটাকে মাটিতে ছুড়ে দিয়ে পকেট থেকে খানিকটা তামাক বের করলে। জোরে-জোরে দম নিতে-নিতে বললে:

‘এখানেই কাজ চলে যাবে। থামা যাক তাহলে।’

ছোট্ট একটা পকেটছুরি বের করে ও নিঃশব্দে হাঁসটার ছাল ছাড়াতে বসে গেল। আর মাঝে মাঝে তাকাতে লাগল আমার দিকে।

ভাঙা ডালপালা যোগাড় করে এক জায়গায় জড়ো করতে লাগলুম আমি।

জিজ্ঞেস করলুম, ‘দেশালাই আছে?’

‘এই-যে,’ রক্তমাখা আঙুলে এক বাক্স দেশালাই আমার হাতে তুলে দিয়ে ছেলেটা বললে, ‘বুঝেসুঝে খরচ কোরো কিন্তু।’

এতক্ষণে ওর দিকে ভালো করে তাকালুম। পুরু ধুলোর আস্তরণ ওর কাটা-কাটা মুখচোখের মসৃণ শাদা রঙটা চাপা দিতে পারে নি। দেখলুম, কথা বলার সময় ওর দুই ঠোঁটের ডানদিকের জোড়ের কাছটা হঠাৎ অল্প একটু কোপে ওঠে আর সঙ্গে সঙ্গে বাঁ-চোখটা একটু কু’চকে যায়। ও ছিল আমার চেয়ে বছরখানেক কি বছর- দুয়েকের বড়, আর মনে হচ্ছিল গায়ে শক্তিও রাখে বেশি। চুরি-করা হাঁসটাকে যতক্ষণ শিকে গে’থে ঝলসানো হচ্ছিল, আমরা ঘাসের ওপর শুয়ে রইলুম। চারিদিক তখন ঝলসানো মাংসর মনোরম গন্ধে ম-ম করছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ছুটি চেয়েও পেলেন না, সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া পুলিশ সদস্যের হৃদয়বিদারক আক্ষেপ

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১০)

০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

প্রায় কোপটার সামনা-সামনি এসে পড়েছে যখন এমন সময় হাঁসটা হঠাৎ ঘাড় বাঁকিয়ে সন্দেহের চোখে আমার দিকে তাকাল। আমি আগাগোড়া ওর পেছন-পেছন যাচ্ছি দেখেই হয়তো হাঁসটার ধাঁধা লেগেছিল। তারপর যেন মনস্থির করে ফেলে হাঁসটা আবার পিছু ফিরল। কিন্তু বেড়াল যেভাবে চড়ুইপাখির ওপর বিদ্যুৎগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, সেইভাবে ঝোপের আড়াল থেকে লাফিয়ে পড়ে ছেলেটাও এই সময়ে দু-হাতে হাঁসের গলা চেপে ধরলে। ভালোমতো ডাকবারও সময় পেলে না হাঁসটা।

এদিকে হাঁসের দলটা এই ব্যাপার দেখে প্যাঁকপ্যাঁক শুরু করে দিল আর সেই অবসরে ছেলেটা ছটফট করা হাঁসটাকে দু-হাতে চেপে ধরে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়ল। পিছুপিছু আমিও ছুটলুম।’

অনেকক্ষণ ধরে হাঁসটা ডানা ঝাপটাতে-ঝাপটাতে, প্রাণপণে পা ছুড়তে-ছড়তে চলল। আমরা খাদের মধ্যে একটা নির্জন জায়গায় পৌঁছনো পর্যন্ত ও লড়াই চালিয়ে গেল। তারপর এক সময় থামল। ছেলেটা হাঁসটাকে মাটিতে ছুড়ে দিয়ে পকেট থেকে খানিকটা তামাক বের করলে। জোরে-জোরে দম নিতে-নিতে বললে:

‘এখানেই কাজ চলে যাবে। থামা যাক তাহলে।’

ছোট্ট একটা পকেটছুরি বের করে ও নিঃশব্দে হাঁসটার ছাল ছাড়াতে বসে গেল। আর মাঝে মাঝে তাকাতে লাগল আমার দিকে।

ভাঙা ডালপালা যোগাড় করে এক জায়গায় জড়ো করতে লাগলুম আমি।

জিজ্ঞেস করলুম, ‘দেশালাই আছে?’

‘এই-যে,’ রক্তমাখা আঙুলে এক বাক্স দেশালাই আমার হাতে তুলে দিয়ে ছেলেটা বললে, ‘বুঝেসুঝে খরচ কোরো কিন্তু।’

এতক্ষণে ওর দিকে ভালো করে তাকালুম। পুরু ধুলোর আস্তরণ ওর কাটা-কাটা মুখচোখের মসৃণ শাদা রঙটা চাপা দিতে পারে নি। দেখলুম, কথা বলার সময় ওর দুই ঠোঁটের ডানদিকের জোড়ের কাছটা হঠাৎ অল্প একটু কোপে ওঠে আর সঙ্গে সঙ্গে বাঁ-চোখটা একটু কু’চকে যায়। ও ছিল আমার চেয়ে বছরখানেক কি বছর- দুয়েকের বড়, আর মনে হচ্ছিল গায়ে শক্তিও রাখে বেশি। চুরি-করা হাঁসটাকে যতক্ষণ শিকে গে’থে ঝলসানো হচ্ছিল, আমরা ঘাসের ওপর শুয়ে রইলুম। চারিদিক তখন ঝলসানো মাংসর মনোরম গন্ধে ম-ম করছে।