০৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
মাহজং: কৌশল, বন্ধুত্ব আর মনের আনন্দের নতুন প্রবাহ ফিলিপাইনে পাম্পে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩০ পেসো — যুদ্ধের আগে থেকে ২০০% বৃদ্ধি, পরিবহন ধর্মঘট রোমানিয়াও জরুরি অবস্থায় — ফিলিপাইনের পর ইউরোপেও ইরান যুদ্ধের আঘাত কিউবার হাসপাতালে অন্ধকার, রাস্তায় আবর্জনা — মার্কিন তেল অবরোধে ১ কোটি মানুষের দ্বীপ ধ্বংসের মুখে ব্রিটিশ টেলিভিশনে হাসির ঝড়: “এসএনএল ইউকে” নতুন যুগের শুরু টাইগার উডস মাদক-গাড়ি মামলায় নির্দোষ দাবি — মাস্টার্স বাদ, চিকিৎসায় যাচ্ছেন আজ রাতে চাঁদের পথে যাত্রা — ১৯৭২ সালের পর প্রথমবার মানুষ চাঁদের কাছে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা কাটছাঁট — আজ থেকেই কার্যকর, পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিবাহবিচ্ছেদের কোলাহলের মাঝেই শিশুদের ক্ষত—কেন আইনই সবসময় রক্ষক নয় সঙ্গীত চর্চা মস্তিষ্কের জন্য ঔষধি প্রভাব ফেলে

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
  • 153

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

আমার হাতের ছোট লাঠিটা মাটিতে পড়ে যাওয়ায় সেটা তুলতে নিচু হতেই দেখি ছোট্ট চকচকে কাঁ-একটা জিনিস রাস্তার কাদার মধ্যে গে’থে আছে। মনে হল, কেউ পা দিয়ে মাড়িয়ে গিয়েছে ওটাকে। জিনিসটা তুলে কাদাটা মুছে নিলুম। দেখলুম, লাল তারার আকারের একটা ছোট্ট টিনের পদক ওটা। উনিশ শো আঠারো সনে লাল ফৌজের সৈনিকদের পশমী টুপীতে কিংবা শ্রমিক ও বলশেভিকদের ঢোলা কামিজের বুকে সাঁটা থাকত যে-ধরনের হাতে-বানানো ধ্যাবড়া-ধ্যাবড়া পদক, ওটাও ছিল সেই রকম।

‘এখানে এটা এল কী করে?’ রাস্তাটা ভালো করে পরীক্ষা করতে-করতে আমি অবাক হয়ে ভাবলুম। হেট হয়ে দেখতে-দেখতে এবার একটা খালি কার্তুজের খোল কুড়িয়ে পেলুম।

তেষ্টা-ফেন্টা বেমালুম সব ভুলে সঙ্গীর কাছে একদৌড়ে ফিরে গেলুম আমি। সঙ্গীটি তখন আর ঘুমোচ্ছিল না। একটা ঝোপের পাশে দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক দেখছিল। খুব সম্ভব আমাকেই খুঁজছিল ও।

নিচে থেকে ছুটে ওপরে উঠতে-উঠতে দূর থেকেই ওকে দেখে চে’চিয়ে বললুম, ‘লাল ফৌজ! লাল ফৌজ!’

যেন ওর পেছনে কেউ গুলি ছুড়েছে এমনিভাবে হঠাৎ হোট হয়ে ছিটকে একপাশে সরে গেল ও। তারপর আমার দিকে যখন ফিরল তখনও দেখি ভয়ে ওর মুখটা সি’টকে রয়েছে।

আর কেউ নয় শুধুই আমি আছি দেখে ও আবার খাড়া হয়ে উঠল। তারপর যেন নিজের ভয়ের কারণ ব্যাখ্যা করার জন্যে রাগ দেখিয়ে বলল:

‘একেবারে কানের কাছে পাগলের মতো চ্যাঁচাচ্ছিল দ্যাখো-না…’

গর্বের সুরে আমি আবার বললুম, ‘লাল ফৌজ।’

‘কোথায়?’

‘আজ সকালেই এই পথে গেছে। সারা রাস্তা জুড়ে ঘোড়ার খুরের দাগ, ঘোড়ার নাদও বেশ টাটকা। একটা কার্তুজের খোল পেলুম, আর এইটে…’ ওকে তারামার্কা পদকটা দেখালুম।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহজং: কৌশল, বন্ধুত্ব আর মনের আনন্দের নতুন প্রবাহ

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১৩)

০৮:০০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

আমার হাতের ছোট লাঠিটা মাটিতে পড়ে যাওয়ায় সেটা তুলতে নিচু হতেই দেখি ছোট্ট চকচকে কাঁ-একটা জিনিস রাস্তার কাদার মধ্যে গে’থে আছে। মনে হল, কেউ পা দিয়ে মাড়িয়ে গিয়েছে ওটাকে। জিনিসটা তুলে কাদাটা মুছে নিলুম। দেখলুম, লাল তারার আকারের একটা ছোট্ট টিনের পদক ওটা। উনিশ শো আঠারো সনে লাল ফৌজের সৈনিকদের পশমী টুপীতে কিংবা শ্রমিক ও বলশেভিকদের ঢোলা কামিজের বুকে সাঁটা থাকত যে-ধরনের হাতে-বানানো ধ্যাবড়া-ধ্যাবড়া পদক, ওটাও ছিল সেই রকম।

‘এখানে এটা এল কী করে?’ রাস্তাটা ভালো করে পরীক্ষা করতে-করতে আমি অবাক হয়ে ভাবলুম। হেট হয়ে দেখতে-দেখতে এবার একটা খালি কার্তুজের খোল কুড়িয়ে পেলুম।

তেষ্টা-ফেন্টা বেমালুম সব ভুলে সঙ্গীর কাছে একদৌড়ে ফিরে গেলুম আমি। সঙ্গীটি তখন আর ঘুমোচ্ছিল না। একটা ঝোপের পাশে দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক দেখছিল। খুব সম্ভব আমাকেই খুঁজছিল ও।

নিচে থেকে ছুটে ওপরে উঠতে-উঠতে দূর থেকেই ওকে দেখে চে’চিয়ে বললুম, ‘লাল ফৌজ! লাল ফৌজ!’

যেন ওর পেছনে কেউ গুলি ছুড়েছে এমনিভাবে হঠাৎ হোট হয়ে ছিটকে একপাশে সরে গেল ও। তারপর আমার দিকে যখন ফিরল তখনও দেখি ভয়ে ওর মুখটা সি’টকে রয়েছে।

আর কেউ নয় শুধুই আমি আছি দেখে ও আবার খাড়া হয়ে উঠল। তারপর যেন নিজের ভয়ের কারণ ব্যাখ্যা করার জন্যে রাগ দেখিয়ে বলল:

‘একেবারে কানের কাছে পাগলের মতো চ্যাঁচাচ্ছিল দ্যাখো-না…’

গর্বের সুরে আমি আবার বললুম, ‘লাল ফৌজ।’

‘কোথায়?’

‘আজ সকালেই এই পথে গেছে। সারা রাস্তা জুড়ে ঘোড়ার খুরের দাগ, ঘোড়ার নাদও বেশ টাটকা। একটা কার্তুজের খোল পেলুম, আর এইটে…’ ওকে তারামার্কা পদকটা দেখালুম।