১২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
লেকার্স বিক্রি: ক্রীড়া দুনিয়ায় বিনিয়োগের উন্মাদনার নতুন রেকর্ড চীনের সস্তা পানশালার বিপ্লব, এবার বিশ্বজুড়ে নজর জাপানের নতুন উদ্যোগের পুনর্জাগরণ: আবার কি বিশ্বমানের উদ্যোক্তার স্বর্গ হতে পারবে দেশটি? দুই সপ্তাহের ছুটি, কিন্তু সত্যিই বিশ্রাম হয় কয় দিন? ভবিষ্যতের সন্তান বেছে নিতে চাইছে সিলিকন ভ্যালি, বদলে যেতে পারে মানুষ তৈরির ধারণা তাইওয়ানের গণতন্ত্র যখন নিজের রাজনীতিবিদদের হাতেই জিম্মি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধনকুবেরদের ৪৩০ বিলিয়ন ডলারের দান, বদলে যেতে পারে বিশ্বকল্যাণের মানচিত্র কারাগার সংকটেই ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কঠিন পরীক্ষা হরমুজ সংকটের প্রতিদিনের খরচ: মালয়েশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তার কঠিন বাস্তবতা মাদকবিরোধী লড়াইয়ে গ্রেপ্তারই কি শেষ কথা?

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
  • 194

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

আমার হাতের ছোট লাঠিটা মাটিতে পড়ে যাওয়ায় সেটা তুলতে নিচু হতেই দেখি ছোট্ট চকচকে কাঁ-একটা জিনিস রাস্তার কাদার মধ্যে গে’থে আছে। মনে হল, কেউ পা দিয়ে মাড়িয়ে গিয়েছে ওটাকে। জিনিসটা তুলে কাদাটা মুছে নিলুম। দেখলুম, লাল তারার আকারের একটা ছোট্ট টিনের পদক ওটা। উনিশ শো আঠারো সনে লাল ফৌজের সৈনিকদের পশমী টুপীতে কিংবা শ্রমিক ও বলশেভিকদের ঢোলা কামিজের বুকে সাঁটা থাকত যে-ধরনের হাতে-বানানো ধ্যাবড়া-ধ্যাবড়া পদক, ওটাও ছিল সেই রকম।

‘এখানে এটা এল কী করে?’ রাস্তাটা ভালো করে পরীক্ষা করতে-করতে আমি অবাক হয়ে ভাবলুম। হেট হয়ে দেখতে-দেখতে এবার একটা খালি কার্তুজের খোল কুড়িয়ে পেলুম।

তেষ্টা-ফেন্টা বেমালুম সব ভুলে সঙ্গীর কাছে একদৌড়ে ফিরে গেলুম আমি। সঙ্গীটি তখন আর ঘুমোচ্ছিল না। একটা ঝোপের পাশে দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক দেখছিল। খুব সম্ভব আমাকেই খুঁজছিল ও।

নিচে থেকে ছুটে ওপরে উঠতে-উঠতে দূর থেকেই ওকে দেখে চে’চিয়ে বললুম, ‘লাল ফৌজ! লাল ফৌজ!’

যেন ওর পেছনে কেউ গুলি ছুড়েছে এমনিভাবে হঠাৎ হোট হয়ে ছিটকে একপাশে সরে গেল ও। তারপর আমার দিকে যখন ফিরল তখনও দেখি ভয়ে ওর মুখটা সি’টকে রয়েছে।

আর কেউ নয় শুধুই আমি আছি দেখে ও আবার খাড়া হয়ে উঠল। তারপর যেন নিজের ভয়ের কারণ ব্যাখ্যা করার জন্যে রাগ দেখিয়ে বলল:

‘একেবারে কানের কাছে পাগলের মতো চ্যাঁচাচ্ছিল দ্যাখো-না…’

গর্বের সুরে আমি আবার বললুম, ‘লাল ফৌজ।’

‘কোথায়?’

‘আজ সকালেই এই পথে গেছে। সারা রাস্তা জুড়ে ঘোড়ার খুরের দাগ, ঘোড়ার নাদও বেশ টাটকা। একটা কার্তুজের খোল পেলুম, আর এইটে…’ ওকে তারামার্কা পদকটা দেখালুম।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

লেকার্স বিক্রি: ক্রীড়া দুনিয়ায় বিনিয়োগের উন্মাদনার নতুন রেকর্ড

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১৩)

০৮:০০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

আমার হাতের ছোট লাঠিটা মাটিতে পড়ে যাওয়ায় সেটা তুলতে নিচু হতেই দেখি ছোট্ট চকচকে কাঁ-একটা জিনিস রাস্তার কাদার মধ্যে গে’থে আছে। মনে হল, কেউ পা দিয়ে মাড়িয়ে গিয়েছে ওটাকে। জিনিসটা তুলে কাদাটা মুছে নিলুম। দেখলুম, লাল তারার আকারের একটা ছোট্ট টিনের পদক ওটা। উনিশ শো আঠারো সনে লাল ফৌজের সৈনিকদের পশমী টুপীতে কিংবা শ্রমিক ও বলশেভিকদের ঢোলা কামিজের বুকে সাঁটা থাকত যে-ধরনের হাতে-বানানো ধ্যাবড়া-ধ্যাবড়া পদক, ওটাও ছিল সেই রকম।

‘এখানে এটা এল কী করে?’ রাস্তাটা ভালো করে পরীক্ষা করতে-করতে আমি অবাক হয়ে ভাবলুম। হেট হয়ে দেখতে-দেখতে এবার একটা খালি কার্তুজের খোল কুড়িয়ে পেলুম।

তেষ্টা-ফেন্টা বেমালুম সব ভুলে সঙ্গীর কাছে একদৌড়ে ফিরে গেলুম আমি। সঙ্গীটি তখন আর ঘুমোচ্ছিল না। একটা ঝোপের পাশে দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক দেখছিল। খুব সম্ভব আমাকেই খুঁজছিল ও।

নিচে থেকে ছুটে ওপরে উঠতে-উঠতে দূর থেকেই ওকে দেখে চে’চিয়ে বললুম, ‘লাল ফৌজ! লাল ফৌজ!’

যেন ওর পেছনে কেউ গুলি ছুড়েছে এমনিভাবে হঠাৎ হোট হয়ে ছিটকে একপাশে সরে গেল ও। তারপর আমার দিকে যখন ফিরল তখনও দেখি ভয়ে ওর মুখটা সি’টকে রয়েছে।

আর কেউ নয় শুধুই আমি আছি দেখে ও আবার খাড়া হয়ে উঠল। তারপর যেন নিজের ভয়ের কারণ ব্যাখ্যা করার জন্যে রাগ দেখিয়ে বলল:

‘একেবারে কানের কাছে পাগলের মতো চ্যাঁচাচ্ছিল দ্যাখো-না…’

গর্বের সুরে আমি আবার বললুম, ‘লাল ফৌজ।’

‘কোথায়?’

‘আজ সকালেই এই পথে গেছে। সারা রাস্তা জুড়ে ঘোড়ার খুরের দাগ, ঘোড়ার নাদও বেশ টাটকা। একটা কার্তুজের খোল পেলুম, আর এইটে…’ ওকে তারামার্কা পদকটা দেখালুম।