০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী বৃষ্টিতে ডুবল চট্টগ্রাম, বুকসমান পানিতে অচল সড়ক—দুর্ভোগে নগরবাসী যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী, ২০২৬ সালে বাড়তে পারে ১৬% চট্টগ্রামে চার সামাজিক সংগঠনের হাতে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনুদান, তৃণমূলে উন্নয়নে জোর নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতার টানাপোড়েন, আনোয়ার জোটে নতুন সংকট ‘দেশে জঙ্গি নেই’—এই বক্তব্য ভুল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: তথ্য উপদেষ্টা খালি পেটে ৪ ঘরোয়া পানীয়, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহজ অভ্যাস স্বামীর ছুরিকাঘাতে সিলেটে গৃহবধূ নিহত, অভিযুক্ত পলাতক ২০২৬ সালের সেরা বইগুলো: ‘কিন’, ‘লন্ডন ফলিং’সহ আরও কিছু আলোচিত বই অ্যানজ্যাক ডেতে একাই হাজির কেট মিডলটন, নজর কাড়ল বিরল রাজকীয় গয়নার গল্প

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৯)

ব্রাহ্মণ আনন্দে কামরূপে ফিরে গিয়ে সেখানকার রাজার কাছে হিউ এনচাঙের কথা বলল।একদিন ‘বজ্র’ নামক একজন নগ্ন নিগ্রন্থ ব্রহ্মচারী হঠাৎ ধর্মগুরুর ঘরে প্রবেশ করল। এ আবার ভবিষ্যৎ বলতে পারত। হিউ এনচাঙতাকে বললেন, ‘আমি এখানে এক বৎসর আর কয়েক মাস থেকে শাস্ত্র আলোচনা আর অধ্যয়ন করছি। এখন দেশে ফিরে যেতে চাই কিন্তু যাওয়া সম্ভব হবে কি না, যাওয়া উচিত হবে কি না, আর কতদিন বাঁচব জানতে চাই। আমার কোষ্ঠী বিচার করে বলুন।’

নিগ্রন্থ বিচার করে বলল, ‘ধর্মগুরুর এখানে থাকা ভালো। ভারতের সব লোকেরই আপনার প্রতি গভীর ভক্তি আছে। ফিরে যাওয়াও ভালো কিন্তু তত ভালো নয়। আপনি আর দশ বছর বাঁচবেন। বর্তমান সৌভাগ্য কতদিন চলবে বলতে পারলাম না।’

ধর্মগুরু বললেন, ‘ফিরে যাওয়াই আমার মনের ইচ্ছা। কিন্তু সঙ্গে বহু দেবমূর্তি আর শাস্ত্রগ্রন্থ আছে, সেগুলি কী করে নিয়ে যাব?’

নিগ্রন্থ বললে, ‘চিন্তা নেই। শীলাদিত্য রাজা আর কুমার রাজা (কামরূপরাজ) আপনার সঙ্গে লোক দেবেন। আপনি নির্বিঘ্নে যেতে পারবেন।’

ধর্মগুরু বললেন, ‘এ দুই রাজাকে তো আমি চোখেও দেখি নি। এ সৌভাগ্য আমার কী করে হবে?’

নিগ্রন্থ বলল, ‘কুমাররাজা আপনাকে নিমন্ত্রণ করার জন্যে লোক পাঠিয়েছেন। তারা দুই তিন দিনেই পৌঁছবে। কুমাররাজার সঙ্গে সাক্ষাতের পর শীলাদিত্যের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হবে।’

এই কথা বলে সে চলে গেল।

হিউএনচাঙ তখন ফিরে যাওয়াই স্থির করলেন, আর তাঁর সংগৃহীত মূর্তি ও শাস্ত্রগুলি গোছাতে লাগলেন।

নালান্দার পণ্ডিত সমাজ তাঁকে এত শ্রদ্ধা করতেন আর তাঁকে নিজেদেরই একজন বলে জ্ঞান করতেন যে তাঁকে চীনে না ফিরে গিয়ে তাঁদের সঙ্গেই থেকে যেতে বললেন। তাঁরা বললেন, ‘ভারতবর্ষই ভগবান বুদ্ধের জন্মভূমি। যদিও তিনি আর পৃথিবীতে নেই তবু এখানেই তাঁর জীবনের সব স্মৃতিচিহ্নগুলি রয়েছে। সেইগুলি দেখে বেড়ানো, তাঁর ‘গুণগান করা, এতেই আপনার জীবনের আনন্দ হবে। এখানে এলেনই যদি তবে হঠাৎ আমাদের ছেড়ে গিয়ে লাভ কী? তা ছাড়া চীনদেশ ম্লেচ্ছদের দেশ।

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৮)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৮)

 

ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৯)

০৯:০০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

ব্রাহ্মণ আনন্দে কামরূপে ফিরে গিয়ে সেখানকার রাজার কাছে হিউ এনচাঙের কথা বলল।একদিন ‘বজ্র’ নামক একজন নগ্ন নিগ্রন্থ ব্রহ্মচারী হঠাৎ ধর্মগুরুর ঘরে প্রবেশ করল। এ আবার ভবিষ্যৎ বলতে পারত। হিউ এনচাঙতাকে বললেন, ‘আমি এখানে এক বৎসর আর কয়েক মাস থেকে শাস্ত্র আলোচনা আর অধ্যয়ন করছি। এখন দেশে ফিরে যেতে চাই কিন্তু যাওয়া সম্ভব হবে কি না, যাওয়া উচিত হবে কি না, আর কতদিন বাঁচব জানতে চাই। আমার কোষ্ঠী বিচার করে বলুন।’

নিগ্রন্থ বিচার করে বলল, ‘ধর্মগুরুর এখানে থাকা ভালো। ভারতের সব লোকেরই আপনার প্রতি গভীর ভক্তি আছে। ফিরে যাওয়াও ভালো কিন্তু তত ভালো নয়। আপনি আর দশ বছর বাঁচবেন। বর্তমান সৌভাগ্য কতদিন চলবে বলতে পারলাম না।’

ধর্মগুরু বললেন, ‘ফিরে যাওয়াই আমার মনের ইচ্ছা। কিন্তু সঙ্গে বহু দেবমূর্তি আর শাস্ত্রগ্রন্থ আছে, সেগুলি কী করে নিয়ে যাব?’

নিগ্রন্থ বললে, ‘চিন্তা নেই। শীলাদিত্য রাজা আর কুমার রাজা (কামরূপরাজ) আপনার সঙ্গে লোক দেবেন। আপনি নির্বিঘ্নে যেতে পারবেন।’

ধর্মগুরু বললেন, ‘এ দুই রাজাকে তো আমি চোখেও দেখি নি। এ সৌভাগ্য আমার কী করে হবে?’

নিগ্রন্থ বলল, ‘কুমাররাজা আপনাকে নিমন্ত্রণ করার জন্যে লোক পাঠিয়েছেন। তারা দুই তিন দিনেই পৌঁছবে। কুমাররাজার সঙ্গে সাক্ষাতের পর শীলাদিত্যের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হবে।’

এই কথা বলে সে চলে গেল।

হিউএনচাঙ তখন ফিরে যাওয়াই স্থির করলেন, আর তাঁর সংগৃহীত মূর্তি ও শাস্ত্রগুলি গোছাতে লাগলেন।

নালান্দার পণ্ডিত সমাজ তাঁকে এত শ্রদ্ধা করতেন আর তাঁকে নিজেদেরই একজন বলে জ্ঞান করতেন যে তাঁকে চীনে না ফিরে গিয়ে তাঁদের সঙ্গেই থেকে যেতে বললেন। তাঁরা বললেন, ‘ভারতবর্ষই ভগবান বুদ্ধের জন্মভূমি। যদিও তিনি আর পৃথিবীতে নেই তবু এখানেই তাঁর জীবনের সব স্মৃতিচিহ্নগুলি রয়েছে। সেইগুলি দেখে বেড়ানো, তাঁর ‘গুণগান করা, এতেই আপনার জীবনের আনন্দ হবে। এখানে এলেনই যদি তবে হঠাৎ আমাদের ছেড়ে গিয়ে লাভ কী? তা ছাড়া চীনদেশ ম্লেচ্ছদের দেশ।

(চলবে)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৮)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৩৮)