০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জলবায়ু ন্যায়ের সংকটে নেপাল: এলডিসি উত্তরণ ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার নতুন পথ জলবায়ু অর্থায়নের বড় অঙ্কে গ্রামীণ নারীর হিসাব কোথায়? নেপালের আবহাওয়া বিপর্যয়: ‘স্বাভাবিক’ বৃষ্টির হিসাব কেন ভয়ংকর বিভ্রান্তি তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা, এআই সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা—আলোচনায় সাত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুরোনো দিনের রেশ মুছে আবারও ফ্যাশনের কেন্দ্রে রেশমি স্কার্ফ গ্রীষ্মজুড়ে নজর কেড়েছে রঙিন গ্রাফিক টি-শার্ট, বদলে গেছে ফ্যাশনের ধারা টোকিওর বসন্ত ২০২৭: ইয়োশিওকুবোর পোশাকে নতুন জাপানি নান্দনিকতার ছোঁয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত সফর নিয়ে কী ঘটেছিল, প্রকাশ করলে অবাক হবেন: তামিম আওয়ামী লীগকে সংসদ নির্বাচন থেকে ‘মাইনাস’ করার অভিযোগ আইপিইউতে ‘স্বাস্থ্যকর’ ভাবা জাইলিটলেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি? গবেষণায় মিলল উদ্বেগজনক তথ্য

আইএমএফ শর্ত পূরণে আয় সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে এনবিআর

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫
  • 317

ইউএনবি থেকে অনূদিত

ঋণের কিস্তি ছাড়ে বাধাসংকটে এনবিআর

৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তি ছাড়ে বিলম্ব ঘটেছে, কারণ বাংলাদেশ নির্ধারিত সংস্কার শর্তগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জরুরি ভিত্তিতে আয় সংগ্রহ বাড়াতে কাজ শুরু করেছে।

৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আইএমএফ জানায়, পরবর্তী কিস্তি ছাড় পেতে হলে আগামী কয়েক মাসে এনবিআরকে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করতে হবে।

রাজস্ব ঘাটতিজ্বালানি খাতে সংস্কার বিলম্বে উদ্বেগ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-

আইএমএফের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি, জ্বালানি খাতের সংস্কারে ধীর গতি এবং আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এর ফলে কিস্তি ছাড় আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সলেহউদ্দিন আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ

এই স্থগিতাদেশ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে দেশে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত করার শর্ত দিয়েছে আইএমএফ। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে ৪ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করতে হবে এনবিআরকে।

Que el dólar deje de ser moneda de reserva mundial tendrá implicaciones geopolíticas

বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, এই লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, বাস্তবতাবিবর্জিত এবং চ্যালেঞ্জিং। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। বাকি চার মাসে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা আহরণ করতে হবে।

পরবর্তী অর্থবছরের (২০২৫-২৬) জন্য আইএমএফ কর-জিডিপি অনুপাত ৯ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া তারা ভ্যাট অব্যাহতির পরিমাণ কমিয়ে একটি অভিন্ন ভ্যাট হার চালুর পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকার জানিয়েছে, ভ্যাট সংস্কার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

চলমান আইএমএফ মিশন ও ফলাফলের গুরুত্ব

আইএমএফের পর্যালোচনা মিশন ৭ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এই মিশনের ফলাফল অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশ একযোগে দুটি কিস্তি পাবে কি না, কারণ জানুয়ারিতে পাওয়ার কথা ছিল চতুর্থ কিস্তি।

এ পর্যন্ত আইএমএফ দল অর্থ উপদেষ্টা, অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ বিভাগের ম্যাক্রোইকোনমিক উইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে পূর্বাভাস

আইএমএফ চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করেছে। তবে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য আইএমএফের পূর্বাভাস ৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কিছুটা কমিয়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে কিছুটা আশার বার্তা দিয়েছে আইএমএফ। তাদের মতে, চলতি বছরের গড় মূল্যস্ফীতি হবে ৯ শতাংশ, যা আগের পূর্বাভাস থেকে কম।

সরকারের লক্ষ্য ৮ শতাংশ, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জলবায়ু ন্যায়ের সংকটে নেপাল: এলডিসি উত্তরণ ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার নতুন পথ

আইএমএফ শর্ত পূরণে আয় সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে এনবিআর

০৩:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫

ইউএনবি থেকে অনূদিত

ঋণের কিস্তি ছাড়ে বাধাসংকটে এনবিআর

৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তি ছাড়ে বিলম্ব ঘটেছে, কারণ বাংলাদেশ নির্ধারিত সংস্কার শর্তগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জরুরি ভিত্তিতে আয় সংগ্রহ বাড়াতে কাজ শুরু করেছে।

৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আইএমএফ জানায়, পরবর্তী কিস্তি ছাড় পেতে হলে আগামী কয়েক মাসে এনবিআরকে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করতে হবে।

রাজস্ব ঘাটতিজ্বালানি খাতে সংস্কার বিলম্বে উদ্বেগ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-

আইএমএফের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি, জ্বালানি খাতের সংস্কারে ধীর গতি এবং আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এর ফলে কিস্তি ছাড় আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সলেহউদ্দিন আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ

এই স্থগিতাদেশ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে দেশে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত করার শর্ত দিয়েছে আইএমএফ। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে ৪ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করতে হবে এনবিআরকে।

Que el dólar deje de ser moneda de reserva mundial tendrá implicaciones geopolíticas

বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, এই লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, বাস্তবতাবিবর্জিত এবং চ্যালেঞ্জিং। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) রাজস্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। বাকি চার মাসে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা আহরণ করতে হবে।

পরবর্তী অর্থবছরের (২০২৫-২৬) জন্য আইএমএফ কর-জিডিপি অনুপাত ৯ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া তারা ভ্যাট অব্যাহতির পরিমাণ কমিয়ে একটি অভিন্ন ভ্যাট হার চালুর পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকার জানিয়েছে, ভ্যাট সংস্কার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

চলমান আইএমএফ মিশন ও ফলাফলের গুরুত্ব

আইএমএফের পর্যালোচনা মিশন ৭ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এই মিশনের ফলাফল অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশ একযোগে দুটি কিস্তি পাবে কি না, কারণ জানুয়ারিতে পাওয়ার কথা ছিল চতুর্থ কিস্তি।

এ পর্যন্ত আইএমএফ দল অর্থ উপদেষ্টা, অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ বিভাগের ম্যাক্রোইকোনমিক উইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে পূর্বাভাস

আইএমএফ চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করেছে। তবে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য আইএমএফের পূর্বাভাস ৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কিছুটা কমিয়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে কিছুটা আশার বার্তা দিয়েছে আইএমএফ। তাদের মতে, চলতি বছরের গড় মূল্যস্ফীতি হবে ৯ শতাংশ, যা আগের পূর্বাভাস থেকে কম।

সরকারের লক্ষ্য ৮ শতাংশ, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।