০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ চীনের ইভি যুদ্ধে নতুন অস্ত্র: নিজস্ব স্মার্ট-ড্রাইভিং চিপে ঝুঁকছে গাড়ি নির্মাতারা নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৬ মাস পর মুখোমুখি, জি৭ সম্মেলনে পাশাপাশি আসন জি৭ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরও চাপের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা উপজেলায় এমপিদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’, প্রতিটি উপজেলায় বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক মুহাররমের চাঁদ দেখা যায়নি, পাকিস্তানে ২৬ জুন পালিত হবে আশুরা রয়টার্স এর প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটে শিশু হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিসহ আহত ২০, আটক প্রধান সন্দেহভাজন

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৫৮)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • 279

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

ওই দিনের যুদ্ধে আমাদের বাহিনীর দশজন লোক মারা যায়। আহত হয় চোন্দ জন। তার মধ্যে ছ-জন মারা যায় পরে। যদি আমাদের ডাক্তার আর ওষুধসহ আহতদের চিকিৎসার কোনো উপযুক্ত কেন্দ্র থাকত তাহলে আহতদের মধ্যে অনেকেই প্রাণে বেঁচে যেতে পারত সেদিন।

আহতদের ক্ষতস্থান-চিকিৎসা কেন্দ্রের বদলে আমাদের ছিল এক টুকরো ঘাসে-ঢাকা জমি, আর ডাক্তারের বদলে ছিলেন কালুগিন নামে জার্মান যুদ্ধ-ফেরত চিকিৎসা-কেন্দ্রের একজন আর্দালি। ওষুধ বলতে সবে ধন নীলমণি ছিল আমাদের এক ক্যানেস্তারা-ভরতি টিকচার আয়োডিন। ঝালে-ঝোলে-অম্বলে, অর্থাৎ যে-কোনো রকমের কাটাছে’ড়ায় আয়োডিন ব্যবহারে আমরা ছিলুম অমিতব্যয়ী। এক সময়ে দেখলুম কালুগিন কাঠের তৈরি বড় একটা সুপের চামচ আয়োডিনে কানায় কানায় ভরে লুকোইয়ানভের মস্ত বড় দগদগে ঘাটায় তার সবটুকুই ঢেলে দিলেন।

তারপর লুকোইয়ানভকে আশ্বাস দিয়ে বললেন, ‘যন্তন্না একটুকু, বাপু, সহ্যি করতেই হবে। আইডিনটা তোমার পক্ষে বড় উদ্‌গারি, কুইলে? এই আইডিনটুক না থাকলে তুমি বাপ, এতক্ষণে পটল তুলতে। হাঁ, এ আমার গিয়ে একদম খাঁটি কথা। তা, এখন তুমি সেরে উঠলেও উঠতি পারবে।’

ওই জায়গাটা ছেড়ে আমাদের তখন উত্তরে যাওয়ার কথা। সেখানে লাল ফৌজের নিয়মিত ইউনিটগুলো সবাই মিলে একটা বেড়াজাল গড়ে তুলেছিল। সেইখানে আমাদের অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার নির্দেশ ছিল। এদিকে আমাদের ঘাটতি পড়ে গিয়েছিল কার্তুজে। কিন্তু এ-সব সত্ত্বেও আহতদের জন্যে জায়গাটা ছেড়ে নড়তে পারছিলুম না। ওদের মধ্যে জনা পাঁচেক আমাদের সঙ্গে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিল, কিন্তু তিন জনের অবস্থা ছিল সঙ্গীন, তারা সেরেও উঠছিল না আবার মারাও যাচ্ছিল না। এইরকম খারাপ অবস্থা যাদের ছিল, তাদের মধ্যে একজন হল বাচ্চা বেদে ইয়াঙ্কা। ইয়া‌‌ঙ্কা নেহাতই ভাড়ে ফাড়ে আমাদের মধ্যে এসে উদয় হয়েছিল। ওর সেই উদয় হওয়ার গল্পটা বলি।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৫৮)

০৮:০০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

ওই দিনের যুদ্ধে আমাদের বাহিনীর দশজন লোক মারা যায়। আহত হয় চোন্দ জন। তার মধ্যে ছ-জন মারা যায় পরে। যদি আমাদের ডাক্তার আর ওষুধসহ আহতদের চিকিৎসার কোনো উপযুক্ত কেন্দ্র থাকত তাহলে আহতদের মধ্যে অনেকেই প্রাণে বেঁচে যেতে পারত সেদিন।

আহতদের ক্ষতস্থান-চিকিৎসা কেন্দ্রের বদলে আমাদের ছিল এক টুকরো ঘাসে-ঢাকা জমি, আর ডাক্তারের বদলে ছিলেন কালুগিন নামে জার্মান যুদ্ধ-ফেরত চিকিৎসা-কেন্দ্রের একজন আর্দালি। ওষুধ বলতে সবে ধন নীলমণি ছিল আমাদের এক ক্যানেস্তারা-ভরতি টিকচার আয়োডিন। ঝালে-ঝোলে-অম্বলে, অর্থাৎ যে-কোনো রকমের কাটাছে’ড়ায় আয়োডিন ব্যবহারে আমরা ছিলুম অমিতব্যয়ী। এক সময়ে দেখলুম কালুগিন কাঠের তৈরি বড় একটা সুপের চামচ আয়োডিনে কানায় কানায় ভরে লুকোইয়ানভের মস্ত বড় দগদগে ঘাটায় তার সবটুকুই ঢেলে দিলেন।

তারপর লুকোইয়ানভকে আশ্বাস দিয়ে বললেন, ‘যন্তন্না একটুকু, বাপু, সহ্যি করতেই হবে। আইডিনটা তোমার পক্ষে বড় উদ্‌গারি, কুইলে? এই আইডিনটুক না থাকলে তুমি বাপ, এতক্ষণে পটল তুলতে। হাঁ, এ আমার গিয়ে একদম খাঁটি কথা। তা, এখন তুমি সেরে উঠলেও উঠতি পারবে।’

ওই জায়গাটা ছেড়ে আমাদের তখন উত্তরে যাওয়ার কথা। সেখানে লাল ফৌজের নিয়মিত ইউনিটগুলো সবাই মিলে একটা বেড়াজাল গড়ে তুলেছিল। সেইখানে আমাদের অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার নির্দেশ ছিল। এদিকে আমাদের ঘাটতি পড়ে গিয়েছিল কার্তুজে। কিন্তু এ-সব সত্ত্বেও আহতদের জন্যে জায়গাটা ছেড়ে নড়তে পারছিলুম না। ওদের মধ্যে জনা পাঁচেক আমাদের সঙ্গে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিল, কিন্তু তিন জনের অবস্থা ছিল সঙ্গীন, তারা সেরেও উঠছিল না আবার মারাও যাচ্ছিল না। এইরকম খারাপ অবস্থা যাদের ছিল, তাদের মধ্যে একজন হল বাচ্চা বেদে ইয়াঙ্কা। ইয়া‌‌ঙ্কা নেহাতই ভাড়ে ফাড়ে আমাদের মধ্যে এসে উদয় হয়েছিল। ওর সেই উদয় হওয়ার গল্পটা বলি।