০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ চীনের ইভি যুদ্ধে নতুন অস্ত্র: নিজস্ব স্মার্ট-ড্রাইভিং চিপে ঝুঁকছে গাড়ি নির্মাতারা নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৬ মাস পর মুখোমুখি, জি৭ সম্মেলনে পাশাপাশি আসন জি৭ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরও চাপের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা উপজেলায় এমপিদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’, প্রতিটি উপজেলায় বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক মুহাররমের চাঁদ দেখা যায়নি, পাকিস্তানে ২৬ জুন পালিত হবে আশুরা রয়টার্স এর প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটে শিশু হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিসহ আহত ২০, আটক প্রধান সন্দেহভাজন

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৫৯)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
  • 288

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

একদিন আমরা যখন আরুখিপোকা গ্রাম থেকে রওনা হওয়ার তোড়জোড় করছি, তখন রওনা হবার ঠিক আগে আমরা বাহিনীর লোকেরা রাস্তা-বরাবর সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লুম মাথা-গুনতির অপেক্ষায়। গুনতির সময় বাঁ-দিকের সবশেষের লোকটি, আমাদের বে’টেখাটো খট্রাশ (পরে ও মারা গিয়েছিল), চে’চিয়ে বলল: ‘একশো সাতচল্লিশ!’

ওর আগে পর্যন্ত খট্রাশ সব সময়েই হয়ে এসেছিল একশো ছেচল্লিশ জনের জন। তাই শেবালভ গর্জন করে বললেন:

‘ফিরেফিরতি গুতি!’

দেখা গেল, খট্রাশ আবার সেই একশো সাতচল্লিশ জনের জন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

খেপে গেলেন শেবালভ। ‘কী সব কাণ্ড-মান্ড হচ্চে? সুখারেভ, দ্যাখো তো গুতিতে গণ্ডগোল করচে কে?’

‘কেউ না,’ আমাদের সারি থেকে চুবুক জবাব দিলেন। ‘আমাদের মধ্যি একজন নোক বাড়তি আচে।’

বাস্তবিক, দেখা গেল, সারিতে চুবুক আর নিকিশিনের মধ্যে একজন নতুন লোক দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটার বয়েস আঠারো কিংবা বড়জোর উনিশ হবে। কালোমত একটি ছেলে, এলোমেলো একমাথা কোঁকড়ানো চুল।

শেবালভ তো অবাক। জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি এখেনে কী করচ, বাপু?’ ছেলেটি চুপ করে রইল।

চুকে বললেন, ‘ও দেখি দিব্যি আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে গেল। তা আমি ভাবলাম বুঝি দলে লতুন নোক নেয়া হয়েচে। রাইফেল লিয়ে এসে এখেনটায় দাঁড়াল।’

‘কে তুমি?’ শেবালভ চটে আবার প্রশ্ন করলেন।

‘আমি… আমি বেদে, লাল বেদে,’ ছেলেটি এবার উত্তর দিল।

‘ল-লাল বে-বে-দে?’ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে শেবালভ প্রশ্ন করলেন। তারপর হঠাৎ হেসে উঠে বললেন, ‘কিন্তু তুমি তো সাবালক বেদে লও দেখি, তুমি তো বাচ্চা বেদে!’

ছেলেটা সেই থেকে রয়ে গেল আমাদের সঙ্গে। আর থেকে গেল ওর ‘বাচ্চা বেদে’ ডাকনামটাও।

সেই বাচ্চা বেদের আঘাত লেগেছিল বুকে। তামাটে মুখখানা ওর হয়ে গিয়েছিল বিবর্ণ, ঠোঁট দুটো শুকিয়ে গিয়েছিল আর কী এক অপরিচিত ভাষায় ও দ্রুত বিড়বিড় করে যাচ্ছিল।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৫৯)

০৮:০০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

একদিন আমরা যখন আরুখিপোকা গ্রাম থেকে রওনা হওয়ার তোড়জোড় করছি, তখন রওনা হবার ঠিক আগে আমরা বাহিনীর লোকেরা রাস্তা-বরাবর সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লুম মাথা-গুনতির অপেক্ষায়। গুনতির সময় বাঁ-দিকের সবশেষের লোকটি, আমাদের বে’টেখাটো খট্রাশ (পরে ও মারা গিয়েছিল), চে’চিয়ে বলল: ‘একশো সাতচল্লিশ!’

ওর আগে পর্যন্ত খট্রাশ সব সময়েই হয়ে এসেছিল একশো ছেচল্লিশ জনের জন। তাই শেবালভ গর্জন করে বললেন:

‘ফিরেফিরতি গুতি!’

দেখা গেল, খট্রাশ আবার সেই একশো সাতচল্লিশ জনের জন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

খেপে গেলেন শেবালভ। ‘কী সব কাণ্ড-মান্ড হচ্চে? সুখারেভ, দ্যাখো তো গুতিতে গণ্ডগোল করচে কে?’

‘কেউ না,’ আমাদের সারি থেকে চুবুক জবাব দিলেন। ‘আমাদের মধ্যি একজন নোক বাড়তি আচে।’

বাস্তবিক, দেখা গেল, সারিতে চুবুক আর নিকিশিনের মধ্যে একজন নতুন লোক দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটার বয়েস আঠারো কিংবা বড়জোর উনিশ হবে। কালোমত একটি ছেলে, এলোমেলো একমাথা কোঁকড়ানো চুল।

শেবালভ তো অবাক। জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি এখেনে কী করচ, বাপু?’ ছেলেটি চুপ করে রইল।

চুকে বললেন, ‘ও দেখি দিব্যি আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে গেল। তা আমি ভাবলাম বুঝি দলে লতুন নোক নেয়া হয়েচে। রাইফেল লিয়ে এসে এখেনটায় দাঁড়াল।’

‘কে তুমি?’ শেবালভ চটে আবার প্রশ্ন করলেন।

‘আমি… আমি বেদে, লাল বেদে,’ ছেলেটি এবার উত্তর দিল।

‘ল-লাল বে-বে-দে?’ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে শেবালভ প্রশ্ন করলেন। তারপর হঠাৎ হেসে উঠে বললেন, ‘কিন্তু তুমি তো সাবালক বেদে লও দেখি, তুমি তো বাচ্চা বেদে!’

ছেলেটা সেই থেকে রয়ে গেল আমাদের সঙ্গে। আর থেকে গেল ওর ‘বাচ্চা বেদে’ ডাকনামটাও।

সেই বাচ্চা বেদের আঘাত লেগেছিল বুকে। তামাটে মুখখানা ওর হয়ে গিয়েছিল বিবর্ণ, ঠোঁট দুটো শুকিয়ে গিয়েছিল আর কী এক অপরিচিত ভাষায় ও দ্রুত বিড়বিড় করে যাচ্ছিল।