০১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
 নাসার মঙ্গল রোভার এআই দিয়ে প্রথমবার স্বায়ত্তশাসিত অভিযান সম্পন্ন করল ইউরোপের ২০ বিলিয়ন ইউরোর ‘ডিজিটাল বিচ্ছেদ’: মার্কিন প্রযুক্তি থেকে দূরত্ব নিচ্ছে ইইউ ডেনমার্কে হঠাৎ নির্বাচন: গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পকে রুখে দিয়ে জনপ্রিয়তা পেলেন প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বাল্টিক তেল রপ্তানির ৪০ শতাংশ বন্ধ ট্রাম্প হরমুজের সময়সীমা ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ালেন, পেন্টাগন স্থল অভিযান বিবেচনা করছে  ইরান যুদ্ধ নিয়ে জি৭ বৈঠক: রুবিও মিত্রদের একজোট করতে প্যারিসে হবিগঞ্জে গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মাহফিলকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি সিলেটে পুকুরে ডুবে পাঁচ বছরের শিশুর মৃত্যু  রাজশাহীতে আইজিপির সতর্কবার্তা: মাদক, রাস্তা অবরোধ ও জ্বালানি মজুতদারির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ভারতে পেট্রোল-ডিজেলে শুল্ক কমল, তবে ক্রেতাদের কিনতে হবে পুরোনো দামেই

বিয়ার রিভার

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • 507

ভানেসা চিয়াসন

নোভা স্কোশিয়ার ইতিহাসসমৃদ্ধ এই ছোট্ট গ্রামেই ফরাসি অন্বেষক লুই এবের্ট ১৬০০ সালের শুরুর দিকে কানাডার প্রথম আঙুরগাছ রোপণ করেছিলেন

বিয়ার রিভার, নোভা স্কোশিয়াতে কোনো ভাল্লুক নেই। ধারণা করা হয়, এই এলাকার নামকরণে “বিয়ার” আসলে লুই এবের্ট-এর নামের অপব্যাখ্যা। ফরাসি অভিযাত্রী ও ওষুধবিশেষজ্ঞ এবের্ট ১৭ শতকে স্যামুয়েল দ্য শ্যাম্প্লেইনের (কুইবেক সিটির প্রতিষ্ঠাতা) সঙ্গে এই জোয়ারের নদীর পাশে শীতকাল অতিবাহিত করেছিলেন। কেউ কেউ মনে করেন, নামটি এসেছে শ্যাম্প্লেইনের আরেক সমসাময়িক সহচর সিমন ইম্বের্টের নাম থেকে। তবে যা নিশ্চিত, তা হলো—এবের্ট এই অঞ্চলে স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন। ১৬১১ সালে তিনি এখানে কানাডার প্রথম আঙুরগাছ রোপণ করেন। তখন হয়তো তিনি কল্পনাও করেননি যে, ৪০০ বছর পর আরেকজন ওষুধবিশেষজ্ঞ তাঁর পথ ধরে এগিয়ে যাবেন।

এই পরম্পরার উত্তরসূরি হলেন ওষুধবিশেষজ্ঞ থেকে মদ প্রস্তুতকারী হওয়া সুসান ওং এবং তাঁর স্বামী ড্যারেন কেরি। তাঁরা বিয়ার রিভার ভিনইয়ার্ডসে ১২টি ধরনের আঙুর চাষ করেন।

আমি নিজে নোভা স্কোশিয়ায় বড় হয়েছি, কিন্তু ইতিহাসসমৃদ্ধ এই ছোট্ট গ্রামে কখনো আসা হয়নি, অথচ এটি ডিগবি শহর থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের পথ, যা বে অব ফান্ডির প্রবেশদ্বার। আমি ভেবেছিলাম, প্রদেশের ওয়াইন সম্পর্কে ভালোই জানি। নোভা স্কোশিয়া তার স্বতন্ত্র সাদা ওয়াইনের জন্য বিখ্যাত, এখানেই উত্তর আমেরিকার প্রথম নিয়ন্ত্রিত উৎপত্তি অঞ্চল তৈরি হয়েছে—টাইডাল বে। তবে এখানকার লাল ওয়াইন সাধারণত মানুষের নজরে আসে না—আমারও আসেনি, যতক্ষণ না আমি বিয়ার রিভার ভিনইয়ার্ডসের ‘এম্বোল্ডেনড’ লাল ওয়াইন চেখে দেখি। ব্যাকো নয়ার এবং মারে‌শাল ফশ নামের দুই ধরনের শীতপ্রতিরোধী আঙুরের সংমিশ্রণে তৈরি এই ওয়াইন মসৃণ, মসলাদার এবং বলা যায়, খানিকটা রোমান্টিক।

সুসান ওং বলেন, ‘‘ওয়াইন তৈরি বিজ্ঞানের অংশ, তবে এর একটা বড় অংশ শিল্প এবং আরও বড় অংশ হলো জাদু।’’

বিয়ার রিভার ভিনইয়ার্ডসের টেস্টিং রুমটি একটি ১৮৮৩ সালের কাঠ এবং পাথরের তৈরি চারতলা অর্ধেক সমতল এক খামার ঘর। এর ভেতরে আপনি দেখতে পারেন নানা অদ্ভুত জিনিস—অলৌকিক দরজার নকিং হ্যান্ডল, পুরোনো ব্যাংকের ভল্টকে নতুন রূপে ব্যবহার এবং দুধ মাপার বিশাল ভ্যাট, যেগুলো আর দরজা দিয়ে বের হবে না। এই দৃষ্টিনন্দন পাহাড়ঘেরা স্থাপনাটি শুধু টেস্টিং রুম নয়, এখানেই ওয়াইন উৎপাদন হয়। এটি অন্টারিওর পূর্বদিকে একমাত্র মাধ্যাকর্ষণ-নির্ভর ওয়াইন উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্থান—এ যেন প্রকৃতির নিজস্ব ছন্দে ওয়াইন তৈরি, যেমনটা নদীর জোয়ার-ভাটার মতো ওঠানামা করে।

এই অনন্য টেস্টিং রুম দেখে যতটা মুগ্ধ হবেন, তার চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য। এর চারপাশে সবুজ টিলা, পুরোনো খামারঘর আর খোলা হাওয়া দেখে বুঝতে কষ্ট হয় না কেন এই এলাকাকে ‘‘নোভা স্কোশিয়ার ছোট সুইজারল্যান্ড’’ বলা হয়। যদিও এখানে আল্পস পর্বত নেই, তবুও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একেবারেই মনোমুগ্ধকর।

আপনি পুরো সফরটাই ভিনইয়ার্ডেই কাটাতে চাইবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিয়ার রিভার গ্রামের মূল এলাকাও ঘুরে দেখা উচিত। এখানে আছে চমৎকার ছোট ছোট ক্যাফে, শিল্পগ্যালারি—অনেকগুলোই কাঠের সরু কিন্তু মজবুত পায়ার ওপর দাঁড়ানো। কারণ, এই এলাকার ঠিক পাশেই রয়েছে বিশ্বখ্যাত সবচেয়ে উঁচু জোয়ারের ঘাঁটি—বে অব ফান্ডি। তাই ভবন নির্মাণে স্থানীয়দের উদ্ভাবনী মনোভাবের দরকার পড়ে। আগ্রহী দর্শনার্থীদের উচিত বিয়ার রিভার ফায়ার ডিপার্টমেন্টের পাশে পার্কিং লটে গিয়ে ঐসব দৃষ্টিনন্দন দণ্ডায়মান ভবনের দৃশ্য উপভোগ করা।

MINOLTA DIGITAL CAMERA

একজন ব্লু নোজার হিসেবে আমি ভেবেছিলাম, নোভা স্কোশিয়া সম্পর্কে আমার সব জানা। কিন্তু এখন বুঝি—কেন লুই এবের্টের মতো প্রথম যুগের অভিযাত্রীরা কিংবা সুসান ওং-এর মতো আধুনিক অভিযাত্রীরা এখানে এসে শিকড় গেড়েছেন। বিয়ার রিভার ছোট্ট এক জায়গা—কিন্তু এটি আলাদা, আনন্দদায়ক এবং সুস্বাদু অভিজ্ঞতা দেয়।

কীভাবে যাবেন
বিয়ার রিভার ডিগবি শহর থেকে মাত্র ১৫ মিনিট দূরে। ডিগবিতে ফেরিঘাট রয়েছে, যা সেন্ট জনের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ রাখে। বিয়ার রিভার হাইওয়ে ১০১ থেকে সরে থাকা একটি শহর, হ্যালিফ্যাক্স থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টার পথ। গ্রামের দণ্ডায়মান বাড়িগুলো দেখতে চাইলে ভাটার সময়ে পৌঁছান।

কোথায় থাকবেন
বিয়ার রিভার ভিনইয়ার্ডসের ঐতিহাসিক খামারঘরে এক শয্যাবিশিষ্ট একটি ভাড়ার ইউনিট রয়েছে। এই থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যক্তিগত ট্যুর ও ওয়াইন টেস্টিং অন্তর্ভুক্ত। বিয়ার রিভার মিলইয়ার্ডে কেবিন, গ্ল্যাম্পিং ডোম এবং ক্যাম্পসাইট পাওয়া যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

 নাসার মঙ্গল রোভার এআই দিয়ে প্রথমবার স্বায়ত্তশাসিত অভিযান সম্পন্ন করল

বিয়ার রিভার

১০:০০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

ভানেসা চিয়াসন

নোভা স্কোশিয়ার ইতিহাসসমৃদ্ধ এই ছোট্ট গ্রামেই ফরাসি অন্বেষক লুই এবের্ট ১৬০০ সালের শুরুর দিকে কানাডার প্রথম আঙুরগাছ রোপণ করেছিলেন

বিয়ার রিভার, নোভা স্কোশিয়াতে কোনো ভাল্লুক নেই। ধারণা করা হয়, এই এলাকার নামকরণে “বিয়ার” আসলে লুই এবের্ট-এর নামের অপব্যাখ্যা। ফরাসি অভিযাত্রী ও ওষুধবিশেষজ্ঞ এবের্ট ১৭ শতকে স্যামুয়েল দ্য শ্যাম্প্লেইনের (কুইবেক সিটির প্রতিষ্ঠাতা) সঙ্গে এই জোয়ারের নদীর পাশে শীতকাল অতিবাহিত করেছিলেন। কেউ কেউ মনে করেন, নামটি এসেছে শ্যাম্প্লেইনের আরেক সমসাময়িক সহচর সিমন ইম্বের্টের নাম থেকে। তবে যা নিশ্চিত, তা হলো—এবের্ট এই অঞ্চলে স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন। ১৬১১ সালে তিনি এখানে কানাডার প্রথম আঙুরগাছ রোপণ করেন। তখন হয়তো তিনি কল্পনাও করেননি যে, ৪০০ বছর পর আরেকজন ওষুধবিশেষজ্ঞ তাঁর পথ ধরে এগিয়ে যাবেন।

এই পরম্পরার উত্তরসূরি হলেন ওষুধবিশেষজ্ঞ থেকে মদ প্রস্তুতকারী হওয়া সুসান ওং এবং তাঁর স্বামী ড্যারেন কেরি। তাঁরা বিয়ার রিভার ভিনইয়ার্ডসে ১২টি ধরনের আঙুর চাষ করেন।

আমি নিজে নোভা স্কোশিয়ায় বড় হয়েছি, কিন্তু ইতিহাসসমৃদ্ধ এই ছোট্ট গ্রামে কখনো আসা হয়নি, অথচ এটি ডিগবি শহর থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের পথ, যা বে অব ফান্ডির প্রবেশদ্বার। আমি ভেবেছিলাম, প্রদেশের ওয়াইন সম্পর্কে ভালোই জানি। নোভা স্কোশিয়া তার স্বতন্ত্র সাদা ওয়াইনের জন্য বিখ্যাত, এখানেই উত্তর আমেরিকার প্রথম নিয়ন্ত্রিত উৎপত্তি অঞ্চল তৈরি হয়েছে—টাইডাল বে। তবে এখানকার লাল ওয়াইন সাধারণত মানুষের নজরে আসে না—আমারও আসেনি, যতক্ষণ না আমি বিয়ার রিভার ভিনইয়ার্ডসের ‘এম্বোল্ডেনড’ লাল ওয়াইন চেখে দেখি। ব্যাকো নয়ার এবং মারে‌শাল ফশ নামের দুই ধরনের শীতপ্রতিরোধী আঙুরের সংমিশ্রণে তৈরি এই ওয়াইন মসৃণ, মসলাদার এবং বলা যায়, খানিকটা রোমান্টিক।

সুসান ওং বলেন, ‘‘ওয়াইন তৈরি বিজ্ঞানের অংশ, তবে এর একটা বড় অংশ শিল্প এবং আরও বড় অংশ হলো জাদু।’’

বিয়ার রিভার ভিনইয়ার্ডসের টেস্টিং রুমটি একটি ১৮৮৩ সালের কাঠ এবং পাথরের তৈরি চারতলা অর্ধেক সমতল এক খামার ঘর। এর ভেতরে আপনি দেখতে পারেন নানা অদ্ভুত জিনিস—অলৌকিক দরজার নকিং হ্যান্ডল, পুরোনো ব্যাংকের ভল্টকে নতুন রূপে ব্যবহার এবং দুধ মাপার বিশাল ভ্যাট, যেগুলো আর দরজা দিয়ে বের হবে না। এই দৃষ্টিনন্দন পাহাড়ঘেরা স্থাপনাটি শুধু টেস্টিং রুম নয়, এখানেই ওয়াইন উৎপাদন হয়। এটি অন্টারিওর পূর্বদিকে একমাত্র মাধ্যাকর্ষণ-নির্ভর ওয়াইন উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্থান—এ যেন প্রকৃতির নিজস্ব ছন্দে ওয়াইন তৈরি, যেমনটা নদীর জোয়ার-ভাটার মতো ওঠানামা করে।

এই অনন্য টেস্টিং রুম দেখে যতটা মুগ্ধ হবেন, তার চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য। এর চারপাশে সবুজ টিলা, পুরোনো খামারঘর আর খোলা হাওয়া দেখে বুঝতে কষ্ট হয় না কেন এই এলাকাকে ‘‘নোভা স্কোশিয়ার ছোট সুইজারল্যান্ড’’ বলা হয়। যদিও এখানে আল্পস পর্বত নেই, তবুও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একেবারেই মনোমুগ্ধকর।

আপনি পুরো সফরটাই ভিনইয়ার্ডেই কাটাতে চাইবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিয়ার রিভার গ্রামের মূল এলাকাও ঘুরে দেখা উচিত। এখানে আছে চমৎকার ছোট ছোট ক্যাফে, শিল্পগ্যালারি—অনেকগুলোই কাঠের সরু কিন্তু মজবুত পায়ার ওপর দাঁড়ানো। কারণ, এই এলাকার ঠিক পাশেই রয়েছে বিশ্বখ্যাত সবচেয়ে উঁচু জোয়ারের ঘাঁটি—বে অব ফান্ডি। তাই ভবন নির্মাণে স্থানীয়দের উদ্ভাবনী মনোভাবের দরকার পড়ে। আগ্রহী দর্শনার্থীদের উচিত বিয়ার রিভার ফায়ার ডিপার্টমেন্টের পাশে পার্কিং লটে গিয়ে ঐসব দৃষ্টিনন্দন দণ্ডায়মান ভবনের দৃশ্য উপভোগ করা।

MINOLTA DIGITAL CAMERA

একজন ব্লু নোজার হিসেবে আমি ভেবেছিলাম, নোভা স্কোশিয়া সম্পর্কে আমার সব জানা। কিন্তু এখন বুঝি—কেন লুই এবের্টের মতো প্রথম যুগের অভিযাত্রীরা কিংবা সুসান ওং-এর মতো আধুনিক অভিযাত্রীরা এখানে এসে শিকড় গেড়েছেন। বিয়ার রিভার ছোট্ট এক জায়গা—কিন্তু এটি আলাদা, আনন্দদায়ক এবং সুস্বাদু অভিজ্ঞতা দেয়।

কীভাবে যাবেন
বিয়ার রিভার ডিগবি শহর থেকে মাত্র ১৫ মিনিট দূরে। ডিগবিতে ফেরিঘাট রয়েছে, যা সেন্ট জনের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ রাখে। বিয়ার রিভার হাইওয়ে ১০১ থেকে সরে থাকা একটি শহর, হ্যালিফ্যাক্স থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টার পথ। গ্রামের দণ্ডায়মান বাড়িগুলো দেখতে চাইলে ভাটার সময়ে পৌঁছান।

কোথায় থাকবেন
বিয়ার রিভার ভিনইয়ার্ডসের ঐতিহাসিক খামারঘরে এক শয্যাবিশিষ্ট একটি ভাড়ার ইউনিট রয়েছে। এই থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যক্তিগত ট্যুর ও ওয়াইন টেস্টিং অন্তর্ভুক্ত। বিয়ার রিভার মিলইয়ার্ডে কেবিন, গ্ল্যাম্পিং ডোম এবং ক্যাম্পসাইট পাওয়া যায়।