০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক কুষ্টিয়ায় বালুবাহী যান পদ্মায়, নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, মাঠে ডিএমপির বিশেষ ইউনিট নেপালের নতুন রাজনৈতিক তারকার আলো কেন ম্লান হয়ে আসছে সেন্ট্রাল পার্কে শেক্সপিয়রের ‘শীতের কাহিনি’, পুরোনো আবহে নতুন মুগ্ধতা

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-১৯১)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • 539

নজরুল

তারপর বহুদিন কবির কোনো চিঠি পাই নাই। ইনাইয়া-বিনাইয়া কবিকে কত কী লিখিয়াছি, কবি নিরুত্তর। হঠাৎ একখানা পত্র পাইলাম, কবি আমাকে ফরিদপুরের অবসরপ্রাপ্ত হেডমাস্টার নরেন্দ্র রায় মহাশয়ের পুত্রবধূ এবং তাঁর নাতি-নাতকুরদের বিষয়ে সমস্ত খবর লিখিয়া পাঠাইতে অনুরোধ করিয়াছেন। নরেন্দ্রবাবুর এক নাতি আমারই সহপাঠী ছিল। তাহার সঙ্গে গিয়া তাহার মায়ের সঙ্গে দেখা করিলাম।

ভদ্রমহিলা আমাকে আপন ছেলের মতোই গ্রহণ করিলেন। আমি তাঁহাকে মাসিমা বলিয়া ডাকিলাম। তাঁহাদের বাসায় গিয়া শুনতে পাইলাম, মাসিমার বড় বোন বিরজাসুন্দরী দেবীকে কবি মা বলিয়া ডাকেন। কবির বিষয়ে তিনি আরও অনেক কথা বলিলেন। সেই হইতে মাসিমা হইলেন কবির সঙ্গে আমার পরিচয়ের নূতন যোগসূত্র। কবি আমাকে পত্র লিখিতেন না। কিন্তু মাসিমার বড়বোন বিরজাসুন্দরী দেবীর নিকট হইতে নিয়মিত পত্র পাইতেন। সেইসব পত্র শুধু নজরুলের কথাতেই ভরতি থাকিত।

মাসিমা কবির প্রায় অধিকাংশ কবিতাই মুখস্থ বলিতে পারিতেন। নজরুলের প্রশংসা যে দিন খুব বেশি করিতাম, সেদিন মাসিমা আমাকে না-খাওয়াইয়া কিছুতেই আসিতে দিতেন না। মাসিমার গৃহটি ছিল রক্ষণশীল হিন্দু-পরিবারের। আজ বিস্ময় মনে হয়, কি করিয়া একজন মুসলিম কবির আরবি-ফারসি মিশ্রিত কবিতাগুলি গৃহ-বন্দিনী একটি হিন্দু-মহিলার মনে প্রভাব বিস্তার করিতে পারিয়াছিল।

নজরুলের রচিত ‘মহরম’ কবিতাটি কতবার আমি মাসিমাকে আবৃত্তি করিতে শুনিয়াছি। মাসিমার আবৃত্তি ছিল বড় মধুর। তাঁর চেহারাটি প্রতিমার মতো ঝকমক করিত। একবার আমি নজরুলের উপর একটি কবিতা রচনা করিয়া মাসিমাকে শুনাইয়াছিলাম। সেদিন মাসিমা আমাকে পিঠা খাওয়াইয়াছিলেন। সেই কবিতার ক’টি লাইন মনে আছে-

নজরুল ইসলাম।

তসলিম ওই নাম।

বাংলার বাদলায় ঘনঘোর ঝনঝায়,

কাঁপাইয়া সূর্য ও চন্দ্রের কক্ষ,

দামামার দমদম লোহুময় গান গায়; সেই কালে মহাবীর তোমারে যে হেরিলাম,

আলোড়িত আসমান ধরণীর বক্ষ;

নজরুল ইসলাম।

নজরুল কাব্য-প্রতিভার যবনিকার অন্তরালে আমার এই মাসিমার এবং তাঁর বোনদের স্নেহসুধার দান যে কতখানি, তাহা কেহ কোনোদিন জানিতে পারিবে না। বৃক্ষ যখন শাখাবাহু বিস্তার করিয়া ফুলে-ফলে সমস্ত ধরণীকে সজ্জিত করে তখন সকলের দৃষ্টি সেই বৃক্ষটির উপর। যে গোপন মাটির স্তন্যধারা সেই বৃক্ষটিকে দিনে দিনে জীবনরস দান করে; কে তাহার সন্ধান রাখে?

চলবে…..

 

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-১৯১)

১১:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

নজরুল

তারপর বহুদিন কবির কোনো চিঠি পাই নাই। ইনাইয়া-বিনাইয়া কবিকে কত কী লিখিয়াছি, কবি নিরুত্তর। হঠাৎ একখানা পত্র পাইলাম, কবি আমাকে ফরিদপুরের অবসরপ্রাপ্ত হেডমাস্টার নরেন্দ্র রায় মহাশয়ের পুত্রবধূ এবং তাঁর নাতি-নাতকুরদের বিষয়ে সমস্ত খবর লিখিয়া পাঠাইতে অনুরোধ করিয়াছেন। নরেন্দ্রবাবুর এক নাতি আমারই সহপাঠী ছিল। তাহার সঙ্গে গিয়া তাহার মায়ের সঙ্গে দেখা করিলাম।

ভদ্রমহিলা আমাকে আপন ছেলের মতোই গ্রহণ করিলেন। আমি তাঁহাকে মাসিমা বলিয়া ডাকিলাম। তাঁহাদের বাসায় গিয়া শুনতে পাইলাম, মাসিমার বড় বোন বিরজাসুন্দরী দেবীকে কবি মা বলিয়া ডাকেন। কবির বিষয়ে তিনি আরও অনেক কথা বলিলেন। সেই হইতে মাসিমা হইলেন কবির সঙ্গে আমার পরিচয়ের নূতন যোগসূত্র। কবি আমাকে পত্র লিখিতেন না। কিন্তু মাসিমার বড়বোন বিরজাসুন্দরী দেবীর নিকট হইতে নিয়মিত পত্র পাইতেন। সেইসব পত্র শুধু নজরুলের কথাতেই ভরতি থাকিত।

মাসিমা কবির প্রায় অধিকাংশ কবিতাই মুখস্থ বলিতে পারিতেন। নজরুলের প্রশংসা যে দিন খুব বেশি করিতাম, সেদিন মাসিমা আমাকে না-খাওয়াইয়া কিছুতেই আসিতে দিতেন না। মাসিমার গৃহটি ছিল রক্ষণশীল হিন্দু-পরিবারের। আজ বিস্ময় মনে হয়, কি করিয়া একজন মুসলিম কবির আরবি-ফারসি মিশ্রিত কবিতাগুলি গৃহ-বন্দিনী একটি হিন্দু-মহিলার মনে প্রভাব বিস্তার করিতে পারিয়াছিল।

নজরুলের রচিত ‘মহরম’ কবিতাটি কতবার আমি মাসিমাকে আবৃত্তি করিতে শুনিয়াছি। মাসিমার আবৃত্তি ছিল বড় মধুর। তাঁর চেহারাটি প্রতিমার মতো ঝকমক করিত। একবার আমি নজরুলের উপর একটি কবিতা রচনা করিয়া মাসিমাকে শুনাইয়াছিলাম। সেদিন মাসিমা আমাকে পিঠা খাওয়াইয়াছিলেন। সেই কবিতার ক’টি লাইন মনে আছে-

নজরুল ইসলাম।

তসলিম ওই নাম।

বাংলার বাদলায় ঘনঘোর ঝনঝায়,

কাঁপাইয়া সূর্য ও চন্দ্রের কক্ষ,

দামামার দমদম লোহুময় গান গায়; সেই কালে মহাবীর তোমারে যে হেরিলাম,

আলোড়িত আসমান ধরণীর বক্ষ;

নজরুল ইসলাম।

নজরুল কাব্য-প্রতিভার যবনিকার অন্তরালে আমার এই মাসিমার এবং তাঁর বোনদের স্নেহসুধার দান যে কতখানি, তাহা কেহ কোনোদিন জানিতে পারিবে না। বৃক্ষ যখন শাখাবাহু বিস্তার করিয়া ফুলে-ফলে সমস্ত ধরণীকে সজ্জিত করে তখন সকলের দৃষ্টি সেই বৃক্ষটির উপর। যে গোপন মাটির স্তন্যধারা সেই বৃক্ষটিকে দিনে দিনে জীবনরস দান করে; কে তাহার সন্ধান রাখে?

চলবে…..