০২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক কুষ্টিয়ায় বালুবাহী যান পদ্মায়, নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, মাঠে ডিএমপির বিশেষ ইউনিট নেপালের নতুন রাজনৈতিক তারকার আলো কেন ম্লান হয়ে আসছে সেন্ট্রাল পার্কে শেক্সপিয়রের ‘শীতের কাহিনি’, পুরোনো আবহে নতুন মুগ্ধতা

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৬১)

সপ্তম পরিচ্ছেদ

দিন দুই পরে বাচ্চা বেদে একটু ভালো বোধ করতে লাগল। সন্ধেবেলা আমি যখন ওর কাছে গিয়ে বসলুম, দেখলুম একরাশ শুকনো পাতার ওপর শুয়ে তারাভরা কালো আকাশটার দিকে তাকিয়ে ও গুনগুন করে কী একটা সূর ভাঁজছে।

বললুম, ‘বাচ্চা বেদে, আমি তোমার পাশেই একটা আগুনের কুণ্ড জেলে খানিকটা জল গরম করি। তারপর চা খাওয়া যাবে। আমার ফ্লাস্কে খানিকটা দুধ আছে। চা করি, কেমন?’

দৌড়ে গিয়ে খানিকটা জল সংগ্রহ করলুম। তারপর আগুনের দু-পাশে মাটিতে দুটো বেয়োনেট পু’তে তাদের ওপর বন্দুকের নল সাফ করার ডান্ডাটা এমনভাবে আটকে দিলুম যাতে ডান্ডাটা আগুনের কুন্ডের ওপর আড়াআড়িভাবে

কূলে থাকে আর সেই ডাণ্ডার ওপর জল ভরে বসিয়ে দিলুম আমার কানাউ’চু খাওয়ার খালিটা। এরপর জখম-হওয়া ছেলেটার কাছে গিয়ে বসলুম।

জিজ্ঞেস করলুম, ‘বাচ্চা বেদে, কী গান গাইছ তুমি?’

জবাব দিতে একটু দেরি করল ও। তারপর বলল:

‘খুব পুরনো এটা গান করচি গো। গানটা বুলচে, বেদেদের লিজের কোনো দেশ নাই, যে-দেশে তারা ভালো ব্যাভার পায় সেটি তাদের দেশ। গানটা আরও বুলচে: ‘বল্ তো বেদে, কোন দেশে তোরা ভালো ব্যাভার পেয়েছিস?’ তা গানটাই জবাব দিচ্ছে: ‘কত দেশের ইধার-সিধার ছুঁড়ে বেড়ালম। হাঙ্গারিয়ান দেখলম, বুলগেরিয়ান দেখলম, তুর্ক’দের দেশেও গেলম, কিন্তুক এমন দেশটি দেখলম নাই যে-দেশের মানুষ আমার জাতভাইদের সাথে ভালো ব্যাভার করে’।’

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৬১)

০৮:০০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

সপ্তম পরিচ্ছেদ

দিন দুই পরে বাচ্চা বেদে একটু ভালো বোধ করতে লাগল। সন্ধেবেলা আমি যখন ওর কাছে গিয়ে বসলুম, দেখলুম একরাশ শুকনো পাতার ওপর শুয়ে তারাভরা কালো আকাশটার দিকে তাকিয়ে ও গুনগুন করে কী একটা সূর ভাঁজছে।

বললুম, ‘বাচ্চা বেদে, আমি তোমার পাশেই একটা আগুনের কুণ্ড জেলে খানিকটা জল গরম করি। তারপর চা খাওয়া যাবে। আমার ফ্লাস্কে খানিকটা দুধ আছে। চা করি, কেমন?’

দৌড়ে গিয়ে খানিকটা জল সংগ্রহ করলুম। তারপর আগুনের দু-পাশে মাটিতে দুটো বেয়োনেট পু’তে তাদের ওপর বন্দুকের নল সাফ করার ডান্ডাটা এমনভাবে আটকে দিলুম যাতে ডান্ডাটা আগুনের কুন্ডের ওপর আড়াআড়িভাবে

কূলে থাকে আর সেই ডাণ্ডার ওপর জল ভরে বসিয়ে দিলুম আমার কানাউ’চু খাওয়ার খালিটা। এরপর জখম-হওয়া ছেলেটার কাছে গিয়ে বসলুম।

জিজ্ঞেস করলুম, ‘বাচ্চা বেদে, কী গান গাইছ তুমি?’

জবাব দিতে একটু দেরি করল ও। তারপর বলল:

‘খুব পুরনো এটা গান করচি গো। গানটা বুলচে, বেদেদের লিজের কোনো দেশ নাই, যে-দেশে তারা ভালো ব্যাভার পায় সেটি তাদের দেশ। গানটা আরও বুলচে: ‘বল্ তো বেদে, কোন দেশে তোরা ভালো ব্যাভার পেয়েছিস?’ তা গানটাই জবাব দিচ্ছে: ‘কত দেশের ইধার-সিধার ছুঁড়ে বেড়ালম। হাঙ্গারিয়ান দেখলম, বুলগেরিয়ান দেখলম, তুর্ক’দের দেশেও গেলম, কিন্তুক এমন দেশটি দেখলম নাই যে-দেশের মানুষ আমার জাতভাইদের সাথে ভালো ব্যাভার করে’।’